kalerkantho


পবিত্র কোরআনের । আলো ধা রা বা হি ক

ইসলামের দৃষ্টিতে পশুপাখির অধিকার

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ইসলামের দৃষ্টিতে পশুপাখির অধিকার

৭৯. তারা কি শূন্যে নিয়ন্ত্রণাধীন পাখির প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে না? আল্লাহ ছাড়া কোনো কিছুই সেগুলোকে (শূন্যে) স্থির রাখে না। অবশ্যই এতে ঈমানদারদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। [সুরা : নাহল, আয়াত : ৭৯ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে পাখিদের নিয়ে চিন্তা ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এ আয়াতে বলা হয়েছে, আকাশে পাখিদের উড়তে পারা আল্লাহর মহাক্ষমতারই নিদর্শন।

পশুপাখি মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত। কুদরতিভাবে আল্লাহ তাআলা এগুলো মানুষের করায়ত্ত করেছেন। এরা করুণার পাত্র। ইসলাম ধর্ম মতে, পশুপাখির সঙ্গে যথাসম্ভব দয়াশীল আচরণ করতে হবে। এদের সঙ্গে যথেচ্ছ ব্যবহার করা যাবে না। পশুপাখির অঙ্গহানি করা নিষিদ্ধ। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ওই ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন, যে প্রাণীদের অঙ্গচ্ছেদ করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫১৯৫)

যেসব প্রাণী প্রতিপালন করা হয়, সেগুলোর সুস্থতা ও খাবারদাবারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘এসব বাক্শক্তিহীন প্রাণীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। সুস্থ অবস্থায় এগুলোতে আরোহণ করো, সুস্থ অবস্থায় আহার করো।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৫৪৮)

আমিষজাতীয় খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে পৃথিবীর সব ধর্ম, দর্শন ও সভ্যতার মানুষের মধ্যে ঐক্য দেখা যায়। যদিও নির্দিষ্ট কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে তাদের বিরোধও বিদ্যমান। হাজারো প্রাণীর মধ্যে ইসলাম সীমিত কিছু পশুপাখি খাদ্য হিসেবে গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু সেগুলো জবাই করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অনুকম্পা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন তোমরা জবাই করবে, সর্বোত্তম পন্থায় করবে। জবাইয়ের বস্তু ভালোভাবে ধার দিয়ে নেবে, আর পশুটিকে স্বাভাবিকভাবে প্রাণ বের হওয়ার সুযোগ দেবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯৫৫)

ইসলামে কোনো জীবন্ত পশুপাখি আগুনে পোড়ানো নিষিদ্ধ। আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ (রা.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, এক সফরে আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গী ছিলাম। তিনি দেখতে পেলেন, আমরা একটা মৌমাছির বাসা জ্বালিয়ে দিয়েছি। মহানবী (সা.) বলেন, কে এটি জ্বালিয়ে দিয়েছে? আমরা নিজেদের কথা বললাম। তিনি বলেন, ‘আগুনের স্রষ্টা ছাড়া কারো জন্য আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়া শোভা পায় না।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৬৭৫)

পশুপাখি জীবিত থাকা অবস্থায় কোনো অঙ্গ কর্তন করা যাবে না। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘জীবিত অবস্থায় যে প্রাণীর কোনো অংশ কাটা হয়, সেটা মৃত তথা হারাম হয়ে যাবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৪৮০)

পশুপাখির চেহারায় প্রহার করা, অঙ্কিত করা ও চিহ্ন ব্যবহার করে চেহারা বিকৃত করা নিষিদ্ধ। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) চেহারায় প্রহার ও অঙ্কন করতে নিষেধ করেছেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২১১৬)

অহেতুক পশুপাখির পেছনে লেগে থাকা, অযথা শিকার করা ইসলামে নিন্দনীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো প্রাণীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ো না।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯৫৭), সাইদ ইবনে জুবাইর (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার হজরত ইবনে ওমর (রা.) কোরাইশ গোত্রের এক দল বাচ্চাকে দেখতে পেলেন যে তারা পাখি শিকার করছে। এটা দেখে ইবনে ওমর (রা.) তাদের পৃথক করে দেন এবং বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ওই ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন, যে কোনো প্রাণবিশিষ্ট বস্তুকে (অহেতুক) লক্ষ্যবস্তু বানায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯৫৮)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 


মন্তব্য