kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

ইসলাম চেয়েছে টেকসই পারিবারিক কাঠামো

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ইসলাম চেয়েছে টেকসই পারিবারিক কাঠামো

৭২. আল্লাহ তোমাদের থেকে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদের জন্য পুত্র-পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন। আর তোমাদের উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। তবু কি তারা মিথ্যা বিষয়ে বিশ্বাস করবে? তারা কি আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? [সুরা : নাহল, আয়াত : ৭২ (চতুর্থ পর্ব)]

তাফসির : মহান আল্লাহ মানবীয় গোত্রভুক্ত করে মানুষের আকৃতিতে স্ত্রী জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। এতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে হৃদ্যতা গড়ে ওঠার সুযোগ হয়েছে। বিয়ের মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে যে পবিত্র সম্পর্ক গড়ে ওঠে, ইসলাম সেটাকে আমৃত্যু অটুট রাখতে চেয়েছে। এদিকে ইঙ্গিত করে আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের যুগল থেকে তোমাদের জন্য পুত্র-পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন।’ সন্তান ও নাতি-নাতনি দেখা সেসব বয়োবৃদ্ধ যুগলের পক্ষেই সম্ভব, যারা জীবনের রৌদ্র-ঝড় অতিক্রম করে দীর্ঘ সময় সংসার টিকিয়ে রেখেছে।

পৃথিবীতে সবচেয়ে সুখকর স্থানগুলোর অন্যতম হলো পরিবার। যার পারিবারিক জীবন বিষাদময়, তার জাগতিক জীবন নরকতুল্য। এ জন্য বিয়ের মাধ্যমে যে দাম্পত্য সম্পর্কের সূচনা হয়, তা অটুট ও স্থায়ী রাখার প্রতি ইসলাম সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। স্বামী-স্ত্রীকে এ সম্পর্ক ছিন্ন করতে ও বিয়েবিচ্ছেদের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে নিরুৎসাহিত করেছে। এ বিষয়ে কোরআন-হাদিসে অনেক নির্দেশনা রয়েছে। প্রথমত, বিয়ের আগে বর কনেকে ভালোভাবে দেখে নেবে, যাতে বুঝেশুনেই বিয়েটা সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরনের দৈহিক ত্রুটির কারণে যেন সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার উপক্রম না হয়। দ্বিতীয়ত, স্বামী সব সময় শুধু স্ত্রীর দোষ-ত্রুটির দিকেই দেখবে না, তার মধ্যে যেসব ভালো গুণ বিদ্যমান সেগুলোর দিকে তাকিয়ে অপছন্দের দিকগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তাকে তোমার অপছন্দও হয়, তবু হতে পারে তুমি যা অপছন্দ করছ, আল্লাহ তাতে সীমাহীন কল্যাণ দিয়ে দেবেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ মুমিন নারীর ওপর রুষ্ট হবে না, কেননা যদি তার কোনো কাজ খারাপ মনে হয়, তাহলে তার এমন গুণও থাকবে, যার ওপর সে সন্তুষ্ট হতে পারে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪৬৯)

তা সত্ত্বেও যদি কোনো স্ত্রী উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন করতে অভ্যস্ত হয়, তাহলে স্বামীর দায়িত্ব হলো তাকে সংশোধনের সর্বাত্মক চেষ্টা করা। স্ত্রীর অবাধ্যতা দেখেই উত্তেজিত হবে না। নিজেকে সংযত রাখবে। স্ত্রীর প্রতি মায়া-মহব্বত প্রকাশ করে তার মন গলানোর চেষ্টা করবে। স্ত্রী কোনো ভুল ধারণায় থাকলে যথাসম্ভব তা দূর করতে চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে উভয় পরিবারের নিকটাত্মীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করবে। ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকলে দাম্পত্যজীবন স্থায়ী করা সম্ভব। আর যদি পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছে যায় যে মীমাংসা ও সংশোধনের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে তিক্ততা ও বিদ্বেষের পরিধি বিস্তৃত না করে ইসলাম তালাকের মাধ্যমে পরস্পর আলাদা হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তবে সুন্নাহ মোতাবেক তালাক দেওয়া হলে, প্রথম বা দ্বিতীয় তালাক দেওয়ার পর উভয়ের বোধোদয় হলে পরস্পর সংসার করার সুযোগ রেখেছে ইসলাম। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে তালাক অত্যন্ত অপছন্দনীয় ও ঘৃণিত কাজ। হাদিস শরিফে রয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে বৈধ কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত কাজ হলো তালাক।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৭৮)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য