kalerkantho


‘ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ড. লুৎফর রহমান বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় থেকেছে, তাদের না চাওয়ার কারণেই ডাকসু নির্বাচন হয়নি। ডাকসু নির্বাচনের জন্য যে পরিবেশ সৃষ্টি করা দরকার, তা না হওয়ার কারণেই মূলত এ নির্বাচন দিতে পারেনি ক্ষমতাসীনরা। এখন ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে আদালতের দিকনির্দেশনা একটি অবলম্বন হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটিকে কাজে লাগিয়ে ডাকসু নির্বাচন দিতে পারবে বলে আশা করছি। তিনি আরো বলেন, ছাত্রদের দাবি অনুযায়ী প্রশাসন ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নিলে সিনেটের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টিফোরের টক শো জনতন্ত্র গণতন্ত্র অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রসংসদ নির্বাচন’ বিষয়ে আলোচনায় ড. লুৎফর রহমান এসব কথা বলেন।

আশিকুর রহমান শ্রাবণের সঞ্চালনায় টক শোতে ড. লুৎফর রহমান বলেন, বাংলাদেশে যা কিছু অর্জন, তাতে ছাত্রদের ভূমিকা রয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক সব আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ছাত্ররা। তিনি বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম হলো রাজনৈতিক দল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম হলো ছাত্র সংসদ। ডাকসু সব সময় চলমান থাকা দরকার। এটি হলে ছাত্র নেতৃত্বও বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ ছাত্রদের জন্যও দৈনন্দিন অধিকার আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। একজন ছাত্রনেতা এবং নির্বাচিত ছাত্রনেতার মধ্যে পার্থক্য ও দায়িত্ব অনেক বেশি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের পক্ষে-বিপক্ষে বলার সুযোগ আছে। তবে সব পক্ষেরই একটি গ্যাপ আছে। এ বিষয়ে আদালতের যে রায় হয়েছে, তার কপি এলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেবে বলে মনে করি। আমরা ডাকসু দেখেছি, ভোট দিয়েছি। ডাকসু ভোটের অভিজ্ঞতা খুব ভালো হয়নি। নির্বাচনের অনেক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য এখনো চোখে ভাসে। ১৯৯০ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আশির দশকের ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তন ঘটেছে। তখন যে ডাকসু ছিল, তাদেরই দায়িত্ব ছিল পরবর্তী সময় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। তাই প্রশাসন বা সরকার সব কিছু করে, এটি বলার সুযোগ নেই।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ডাকসু নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ এর আগে সিনেট যথাযথভাবে পূর্ণ করে পরে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের জন্য উচ্চ আদালত রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু তা মানা হয়নি। সিনেটে পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি রাখার বিধান মানা হয়নি। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের ডাকসু নির্বাচনের জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি একদিকে ইতিবাচক, অন্যদিকে নেতিবাচক। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য উচ্চ আদালতের দারস্থ হতে হচ্ছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। তাই আদালতের নির্দেশনার পরও এ নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। তিনি আরো বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ার পেছনে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনগুলোও দায়ী। কারণ তারা ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকে। গত ৯ বছর ক্ষমতায় থাকলেও ছাত্রলীগকে ডাকসু নির্বাচনের জন্য একটি মিছিলও করতে দেখা যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। আগে গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যেত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ রয়েছে। এখানে ক্লাসপরীক্ষা বন্ধ হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। ছাত্রলীগ বৃহৎ একটি সংগঠন হিসেবে আমরা বারবার ডাকসু নির্বাচনের কথা বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন হলে তাতে আমরা অংশগ্রহণ করব। আমাদের পাশাপাশি সবাই চাচ্ছে এই নির্বাচন।’

আবিদ আল হাসান আরো বলেন, ‘ছাত্রসংগঠন বলতে শুধু ছাত্রদল নয়। আমরা সহাবস্থানেই আছি। সবাই একসঙ্গে বসে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ছাত্রদলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করানোর দায়িত্ব আমাদের নয়। তারা কিভাবে কাজ করবে সেটা তাদের ব্যাপার। এখানে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো কাজ করে যাচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, ‘আমরা ডাকসু নির্বাচনের জন্য বারবার আন্দোলন করেছি। এই দাবিতে আন্দোলনের সময় আমাদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। হাইকোর্টের রুলে বলা হয়েছে, নির্বাচনের কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে পারবে। এই নির্বাচন করতে চাইলে অবশ্যই সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সব অন্যায়ের প্রতিবাদ ছাত্ররাই করে এসেছে। ডাকসু নির্বাচন হলে সাধারণ ছাত্রদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভা মজুমদার বলেন, ডাকসু সব সময় জাতীয় আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে। এই নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে। তারা এই নির্বাচনের পক্ষে আছে যতই বলুক তাতে কাজ হবে না, নির্বাচনের জন্য কথা বলতে হবে, দাবি জানাতে হবে। আসলে ছাত্রলীগের কাজকর্মে বোঝা যায়, তাদের অবস্থান ডাকসু নির্বাচনের বিপক্ষে। তিনি আরো বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নতজানু অবস্থান দেখা যায়। তাদের স্বায়ত্তশাসিত যে ক্ষমতা সেটার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়নি।



মন্তব্য