kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

স্ত্রী-সন্তান আল্লাহর নিয়ামত

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



স্ত্রী-সন্তান আল্লাহর নিয়ামত

৭২. আল্লাহ তোমাদের থেকে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদের জন্য পুত্র-পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন। আর তোমাদের উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। তবু কি তারা মিথ্যা বিষয়ে বিশ্বাস করবে? তারা কি আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? [সুরা : নাহল, আয়াত : ৭২ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে মহান আল্লাহর বিভিন্ন নিয়ামতের কথা বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে অন্য একটি নিয়ামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে পরিবার ও বংশবিস্তার সম্পর্কে বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ মানবীয় গোত্রভুক্ত করে মানুষের আকৃতিতে স্ত্রী জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। এতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে হৃদ্যতা গড়ে ওঠার সুযোগ হয়েছে। স্ত্রী জাতিকে যদি মানুষ ছাড়া অন্য গোত্রভুক্ত করা হতো, তাহলে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলা এবং ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব হতো না। আল্লাহ তাআলা তাঁর বিশেষ অনুগ্রহে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে মানুষের বংশবিস্তারের ব্যবস্থা করেছেন। পরিবার হলো সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সমাজের এই অঙ্গ একেবারেই প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে। পরিবার থেকেই সন্তানসন্ততি জন্ম নেয়। তারাই আবার বড় হয়ে নতুন পরিবার গড়ে তোলে। তাই ইসলাম পরিবার গঠন ও সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তার সঠিক বিকাশের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে।

পরিবারের মূল ভিত্তি হলো বিয়ে। বিয়ের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে পরিবার। রচিত হয় সভ্যতার ভিত্তিভূমি।

তাই ইসলাম পরিবার গঠনে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিয়ের নির্দেশ দিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি আশঙ্কা করো যে এতিম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে বিয়ে করবে নারীদের মধ্য থেকে, যাকে তোমাদের ভালো লাগে—দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশঙ্কা করো যে তাদের মধ্যে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না, তাহলে শুধু একজনকে বিয়ে করবে...।’ (সুরা : আন নিসা, আয়াত : ৩)

বিয়ে করা নবী-রাসুলদের সুন্নত। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ও তাঁর আগের নবী-রাসুলরা বিয়ে করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমার আগে আমি তো অনেক রাসুল পাঠিয়েছিলাম এবং তাদের স্ত্রী ও সন্তানসন্ততি দিয়েছিলাম।’ (সুরা : আর রাদ,    আয়াত : ৩৮)

সাধারণভাবে বিয়ে করা সুন্নত। তবে বিয়ের হুকুম সবার ক্ষেত্রে একই রকম নয়। ব্যক্তিভেদে তা ফরজ, ওয়াজিব, মুস্তাহাব, মাকরুহ প্রভৃতি হয়ে থাকে। বিয়ে ইসলামী শরিয়তের এক অনন্য ব্যবস্থা। এর তাত্পর্য ও উপকারিতা অপরিসীম।

মহান আল্লাহ মানুষকে সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। রক্তমাংসে গড়া মানুষ তার প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণের জন্য সদা উদ্গ্রীব থাকে। যদি সে তার মনোদৈহিক চাহিদা পূরণের অবকাশ না পায়, তাহলে হকচকিত-বিচলিত হয়ে পড়ে এবং পাপের পথে ধাবমান হয়। এ ক্ষেত্রে বিয়েই একমাত্র কার্যকর ব্যবস্থা, যা তার দেহমনের চাহিদা পূরণ করে তাকে আত্মিক প্রশান্তি ও অনাবিল সুখানুভূতিতে অবগাহন করিয়ে ব্যভিচারের পথ থেকে নিবৃত্ত করে। এদিকে ইঙ্গিত করে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদের, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল জাতির জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আর রূম, আয়াত : ২১)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য