kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

ধনীরা চায় না গরিবরা তাদের সমান হয়ে যাক

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ধনীরা চায় না গরিবরা তাদের সমান হয়ে যাক

৭১. আল্লাহ জীবনোপকরণে তোমাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। যাদের শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের অধীন দাস-দাসীদের নিজের জীবিকা থেকে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা এ বিষয়ে তাদের সমান হয়ে যাবে। তবে কি তারা আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করে? (সুরা : নাহল, আয়াত : ৭১)

তাফসির : আগের আয়াতে বয়সের ক্ষেত্রে মানুষে মানুষে পার্থক্যের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে রিজিক ও জীবনোপকরণে মানুষে মানুষে পার্থক্যের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

ধনী ও গরিবের ব্যবধান আল্লাহ তাআলার হিকমত ও প্রজ্ঞার প্রমাণ বহন করে। সমাজের সবাই যদি সম্পদ ও সামর্থ্যের দিক থেকে সমান হতো, তাহলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক লেনদেন বা সামাজিক আদান-প্রদানের সম্পর্ক তৈরি হতো না। এ ছাড়া মানব চরিত্রে ত্যাগ, দানশীলতা, দয়া ও বদান্যতার মতো গুণাবলিরও জন্ম হতো না। তাই বলে সম্পদশালী ও সামর্থ্যবানরা অপেক্ষাকৃত দুর্বলদের ওপর কর্তৃত্ব করার অধিকার রাখে না। ইসলাম চেয়েছে, মানবসমাজ যেন একে অন্যের পরিপূরক হয়।

আল্লাহ তাআলাই রিজিকদাতা—এ কথা ধার্মিক মানুষ মাত্রই বিশ্বাস করে। আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক মানুষ লাভ করে বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে। এই রিজিক তিনি দান করেন নিজ অনুগ্রহে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা রিজিক দান করেন। তিনি প্রবল পরাক্রমশালী।’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ১৯)

রিজিক কমবেশি হওয়ার কারণ কী? এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘যদি আল্লাহ তাঁর সব বান্দাকে প্রচুর রিজিক দিতেন, তাহলে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। কিন্তু তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছা, সেই পরিমাণ (রিজিক) অবতীর্ণ করেন।’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ২৭)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘তারা কি তোমার পালনকর্তার অনুগ্রহ বণ্টন করে? আমিই তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি পার্থিব জীবনে এবং তাদের একজনের মর্যাদা অন্যজনের ওপর উন্নীত করেছি, যাতে তারা একে অন্যকে সেবকরূপে গ্রহণ করতে পারে।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৩২)

সাধারণ মানুষ মনে করে, রিজিক বা জীবিকা আসে চাকরি, ব্যবসা বা চাষাবাদের মাধ্যমে। কিন্তু কোরআনের ঘোষণা হলো, রিজিকের সিদ্ধান্ত হয় আসমানে। আল্লাহ বলেন, ‘আকাশে রয়েছে তোমাদের রিজিক ও প্রতিশ্রুত সব কিছু।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ২২)

আল্লাহ তাআলা নিজ বান্দাদের পরীক্ষা করার জন্য রিজিক বৃদ্ধি বা হ্রাস করেন। রিজিক বৃদ্ধি আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়, অনুরূপ রিজিকের সংকীর্ণতাও তাঁর অসন্তুষ্টির কারণ নয়। বেশির ভাগ মানুষ এ বিষয় জানে না। দুনিয়ার সচ্ছলতা কারো শুভ লক্ষণের দলিল নয়। কেননা আখিরাতের সাফল্য নির্ভর করে নেক আমলের ওপর। দুনিয়ায় আল্লাহ কখনো অবাধ্যকে দেন সচ্ছলতা, অনুগতকে দেন সংকীর্ণতা। আবার কখনো এর বিপরীত করেন। কখনো উভয়কে সচ্ছলতা দেন, কখনো দেন সংকীর্ণতা। আল্লাহ তাআলা এসব নিয়ন্ত্রণ করেন নিজ প্রজ্ঞা ও হিকমতের ভিত্তিতে। রিজিকের এই হ্রাস-বৃদ্ধি পরীক্ষাস্বরূপ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, কখনো ভয়ভীতি, কখনো অনাহার দিয়ে, কখনো তোমাদের জানমাল ও ফসলাদির ক্ষতির মাধ্যমে। (এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে) তুমি ধৈর্যশীলদের (জান্নাতের) সুসংবাদ দান করো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য