kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

সেলিম আল দীন

বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার সেলিম আল দীন। তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মফিজ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব কাস্টমস, মা ফিরোজা খাতুন। নিজ গ্রামের স্কুলে তিনি এসএসসি, ফেনী কলেজ থেকে এইচএসসি, টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এখান থেকে ‘মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি পান। ১৯৮৬ সালে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যুক্ত হয়ে সেখানকার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি ১৯৮১-৮২ সালে তিনি ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ দেশব্যাপী গ্রাম থিয়েটার গড়ে তোলেন। বাংলা ভাষায় একমাত্র নাট্যবিষয়ক গ্রন্থকোষ ‘মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য’ তাঁর অসামান্য কাজ। এ ছাড়া নাটক ও নাট্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সর্পবিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, প্রাচ্য, কিত্তনখোলা, যৈবতী কন্যার মন, হরগজ, নিমজ্জন, ধাবমান, পুত্র প্রভৃতি। ‘কবি ও তিমি’ কাব্যগ্রন্থ ও অমৃত উপাখ্যান তাঁর লিখিত উপন্যাস। তাঁর রচিত সব সৃষ্টিকর্ম নিয়ে পাঁচ খণ্ডের রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছে। নাট্য ও গবেষণামূলক কাজের পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন নাটক রচনা, চলচ্চিত্রের সংলাপ রচনা ও মঞ্চনাট্যের নির্দেশক হিসেবে দক্ষতার পরিচয়  দিয়েছিলেন। তাঁর নাটকের গল্প নিয়ে একাধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। বাংলা একাডেমি পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদকসহ নানা সম্মাননা ও পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন। খ্যাতিমান এই নাট্যকার ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]



মন্তব্য