kalerkantho


‘বন্ধু হওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ এগিয়ে যাচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘বন্ধু হওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ এগিয়ে যাচ্ছে’

সাবেক আইজিপি ড. এম এনামুল হক বলেছেন, ‘অপ্রিয় কাজ করতে গেলে যতই প্রিয় হতে চান, তা কঠিন। বিভিন্ন দেশে পুলিশের একই অবস্থা। লন্ডনে পুলিশকে আপন বন্ধু হিসেবে ‘ববি’ বলা হয়, সেখানে থেকে দেখেছি, এত সহজ নয়। ববিকে যা মনে করা হয় তা নয়। ববি প্রয়োজনে বন্ধু, প্রয়োজনে শত্রুর চেয়েও কঠিন। কারণ যত ভালো উদ্দেশ্যেই হোক মধ্যরাতে যদি পুলিশ কারো বাসায় তল্লাশি করতে চায়, কেউ তা ভালোভাবে নেবে না। স্বার্থের বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত ঘটলে তা খারাপ চোখে দেখা হয়। ভাইয়ে-ভাইয়ে যেমন দ্বন্দ্ব হয়, তেমনি পুলিশকে যতই বন্ধু ভাবা হোক না কেন, যখন কারো আঁতে ঘা লাগবে তখন দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে। এটাই স্বাভাবিক। তবে পুলিশের অনেক কাজ ভালো লাগে, মানুষ খুশিও হয়। বন্ধু হওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু দূরত্ব এখনো অনেক।’

সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির টক শো সম্পাদকীয়তে ‘পুুলিশ : বন্ধু হলো?’ শীর্ষক আলোচনায় ড. এনামুল হক এসব কথা বলেন।

ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় ড. এম এনামুল হক আরো বলেন, ‘আগের চেয়ে পুলিশের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি সব সেক্টরেই লোকের সংখ্যা বেড়েছে। তাই জবাবদিহির কথা বললে সবারই জবাবদিহির প্রয়োজন আছে। পুলিশে লোক বেড়েছে, খরচ বেড়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলেও সুফলটাও বেড়েছে। পুলিশের তদন্তকাজে প্রযুক্তির ব্যবহারসহ অনেক উন্নতি হয়েছে। মহিলা-পুরুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। তেমনি লোক বেশি থাকলে গোলমালও বেশি হয়।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. সা’দত হুসাইন বলেন, ‘পুলিশ পুলিশের কাজ করবে। পুলিশকে বন্ধু বললে সমাজে তো বহু ধরনের মানুষ আছে, সবার বন্ধু হওয়ার কথা নয়। পুলিশের স্পেসিফিক কাজের বর্ণনা আছে। জব ডেফিনেশন অনুযায়ী কাজ করবে। পুলিশ রাষ্ট্র ও জনগণের পক্ষে কাজ করবে। কারো বন্ধু—এগুলো বলার দরকার নেই। পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সুবিধা পাচ্ছি না।’

ড. সা’দত হুসাইন আরো বলেন, ‘পুলিশের সংখ্যা বেড়েছে, অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, পুলিশ ফোর্সটাই অনেক ক্ষেত্রে ক্রিমিনালাইজড হয়ে গেছে। এক লাখ ৮০ হাজারের মতো পুলিশের মধ্যে ৮০ হাজারই শাস্তিপ্রাপ্ত বলে পত্রিকায় দেখেছি। যদিও পুলিশের পানিশমেন্ট হয় ছোটখাটো। বদলি, ইনক্রিমেন্ট বন্ধ ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় যে পানিশমেন্ট চাকরিচ্যুতি, সেটার সংখ্যা খুব বেশি নয়। পুলিশকে শাস্তি দিতে হলে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে। কারণ দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত সে সাধারণ মানুষের কাছে অপ্রতিরোধ্য। কয়েক দিন আগে একজন ডিআইজির বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে তা ভয়ংকর।’

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, ‘পুলিশ এখনো বন্ধু হতে পারেনি। বন্ধু হলে আজকের বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন হতো না। পুলিশের কাজকে তিনভাবে দেখা যায়। পুলিশ ভালো কাজ করে থাকে, সেটা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ হিসেবে তাদের দায়িত্ব। আরেকটি হলো, তারা স্বেচ্ছাচারিতা করে, এতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এ ছাড়া দুর্নীতিগ্রস্তও আছে। এই স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারণে পুলিশের ভালো কাজগুলো ম্লান হয়ে যায়। পুলিশ এ দেশের জনগণ। তাদের মধ্যে কিছু লোক খারাপ হতে পারে। কিন্তু ব্যালান্সটা এদিক-ওদিক হয়ে গেলে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন চলে আসে। কেউ অপরাধ করলে তার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের মুখোমুখি করাই পুলিশের কাজ। এ কাজে পুলিশকে অবশ্যই ভালো হতে হবে। ভালো কাজ করার জন্যই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জঙ্গি দমনসহ অনেক ভালো কাজ করছে, এটা যেমন ঠিক, তেমনি পুলিশের সাহায্য নিতে গেলে বা কেউ কোনো জিডি করতে গেলে প্রায় ক্ষেত্রে টাকা ছাড়া হয় না।’

এলিনা খান আরো বলেন, ‘আগে পুলিশের ম্যানপাওয়ার, লজিস্টিক সাপোর্ট কম থাকার কথা শুনতাম, কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় এসব অনেক বাড়ানো হয়েছে। এই অবস্থায় তো দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বেচ্ছাচারী পুলিশ দেখতে চাই না। পুলিশের মধ্যে মনিটরিংটা যদি জোরালো করা হয়, সেটা পুলিশের মধ্য থেকে করা যাবে না, পুলিশের অন্য যে গ্রুপ আছে তাদের দিয়ে মনিটরিং বা জবাবদিহির ব্যবস্থা করলে পুলিশ আরো ভালো কাজ করবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে।’



মন্তব্য