kalerkantho


আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি বাড়াতে হবে

মো. নুরুল আনোয়ার

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি বাড়াতে হবে

ইংরেজি ২০১৭ সালটি মনে হচ্ছে সেদিন এলো, চোখের পলকে আবার শেষ হয়ে গেল ভালো-মন্দ অনেক ঘটনা-অঘটনের জন্ম দিয়ে। এই প্রায় এক বছরের খেরোখাতা ওল্টালে আমাদের অনেক প্রাপ্তি, যোগ, আবার ব্যর্থতাও চোখে পড়ে। প্রথমেই অপ্রাপ্তি বা ব্যর্থতার কথা বললে গাজন নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আমাদের প্রাপ্তিগুলোই একবার দেখে নিই।

প্রথমেই বলা যায় স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান দুটি স্প্যানের কথা, আমরা পারব। ঢাকা শহরের দৃশ্যমান মেট্রো রেলের অগ্রগতি কম কিসে, এই শহরের ১২ কিলোমিটার বহুমুখী মৌচাক ফ্লাইওভার, অনেক যন্ত্রণা দিয়ে চালু হয়েছে। চট্টগ্রামের দুটি বড় ফ্লাইওভারও চালু হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশের সুড়ঙ্গ সড়কটিও শেষের পথে। ঢাকা-চট্টগ্রাম আংশিক রেলের ডাবল লাইন সম্পন্ন, সঙ্গে ভৈরব-আশুগঞ্জ, গঙ্গাসাগরে বড় দুটি রেলসেতু পেয়েছি। ফেনীর পদুয়ার মোড়ের ছয় লেনের ফ্লাইওভার সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সড়কপথের দুই ঘণ্টা অসহনীয় বিলম্বের অবসান ঘটল। গাজীপুর-ঢাকা, চন্দ্রা-উত্তরা, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেস রোডের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে সোনার বাংলা নামে ননস্টপ দৃষ্টিনন্দন ও আরামদায়ক ট্রেনের উপহারও বলার মতো। সরকারি চাকরিতে বিপুল সংখ্যক নিয়োগ ও পদোন্নতির পদক্ষেপও এড়ানো যাবে না। বিদ্যুৎ খাতের উন্নতি প্রশংসার দাবি রাখে। এ বছর আমরা বড় দুজন প্রতিভাবান ব্যক্তিকে হারিয়েছি, আধুনিক চট্টগ্রামের অবকাঠামো উপহার দেওয়ার জনক আলহাজ এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, অন্যজন ঢাকা উত্তরের প্রতিভাবান বহু কারিশমার অধিকারী মেয়র অনিসুল হক। তিনি বড় অকালে চলে গেলেন। এ ছাড়া হারিয়েছি নায়করাজ রাজ্জাক, গায়ক আব্দুল জব্বার, বারী সিদ্দিকীসহ অনেক গুণীজনকে।

প্রবল ঝড় তোলা ঘটনা ও ব্যর্থতাও ছিল আমাদের। মিয়ানমার থেকে ১০ লাখ রোহিঙ্গার আগমন এবং আমাদের দেশে আশ্রয়গ্রহণ। খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুট, সংক্ষেপে ‘এথনিক ক্লিনজিং’ ও গণহত্যার শিকার হয়ে এরা বাংলাদেশে এসেছে। আমাদের সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসিসহ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আমাদের উদ্যোগকে সমর্থন করেছে। রাশিয়া, চীন ও ভারতও হালে কিছুটা নমনীয় হয়েছে। ফলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চুক্তি হয়েছে এবং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন এত সহজ হবে না। কারণ মিয়ানমার তাদের নিশ্চিহ্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এই গণহত্যা চালিয়েছে। বর্তমানে যা করছে, তা বিশ্ববাসীর চাপে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে ২০১৭ সালের বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনের কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এটা ছিল অগ্রহণযোগ্য ব্যর্থতা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষা, চাকরির পরীক্ষাসহ সব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহোৎসব ছিল বছরজুড়ে। এর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কিছু লোকসহ সংশ্লিষ্টরা জড়িত ছিল। এই দুষ্কর্মটি জাতিকে মেধাশূন্য করবে, এ ক্ষেত্রে আমরা হেরে গেছি। সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে দুর্নীতি। শিক্ষামন্ত্রী সজ্জন ও সৎ ব্যক্তি, অনেক কষ্টে বলেছেন, ‘ঘুষ খান অল্প রেটে’। মন্ত্রী আসল কাজে অসফল, কিন্তু ব্যস্ত ছিলেন অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিয়ে। স্কুলের কচিকাঁচাদের নিয়ে। এতে ছাত্রদের শৈশব ও কৈশোর নিহত হয়েছে।

কোচিং বাণিজ্যও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি বরং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাত্র ও অভিভাবকদের আরো কোচিংমুখী করেছে। ইয়াবা ও মাদক আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এমনকি তরুণী গৃহবধূদেরও গ্রাস করেছে, ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকার গহ্বরে। বাড়ছে যৌন অপরাধ, পরকীয়া, বহুক্রিয়া ও ধর্ষণ। যানবাহনে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাও  আমাদের শুনতে হচ্ছে। এর জন্য দায়ী নারী-পুরুষের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে একত্রে বিচরণ, ওয়েবসাইটে পর্নো দেখার সুবিধা, মাদকের সহজপ্রাপ্যতা, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের প্রচলন, পারিবারিক বাঁধন ও ধর্মীয় অনুশাসনের অভাব। এটা নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক দায়িত্ব মায়েদের। তাঁদের যুবক ছেলেদের নারীদের মর্যাদা সম্পর্কে জ্ঞান দিতে হবে। মেয়েদের শেখাবেন প্রলোভন থেকে দূরে থাকা ও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে। এতে ৯০ শতাংশ ধর্ষণ বা কৃত্রিম ধর্ষণের ঘটনা কমে যাবে। সুধীজনরা এটি পুলিশের ওপর দিয়ে ভারমুক্ত থাকেন। পুলিশ তো ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে পারে না। ঘটনার পর বিষয়টি তদন্ত করে মাত্র। নকল ক্যান্সারের ওষুধও ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা চীন থেকে ১২ টাকায় তৈরি করা হয়। মানসিকতার দৈন্যতা কোথায় নিয়ে গেছে আমাদের। নকল ইয়াবা তৈরি হচ্ছে দেশে। এই ইয়াবার সঙ্গে জড়িত সীমান্তে বিজিবি, ভেতরে পুলিশ, পরিচালনায় রাজনৈতিক দলীয় কর্মী। ঘুষ বাণিজ্য ছাড়া সরকারি অফিসগুলোতে কোনো কাজ হয় না। চাকরি পেতে, স্কুলে ভর্তি হতে, বদলি, পদোন্নতি, উঁচু-নিচু সবখানেই ঘুষে সয়লাব। ভালো হয় অফিস দপ্তরগুলোয় ঘুষের রেট ও তালিকা ঝুলিয়ে দিলে। ভোক্তাদের হয়রানি কমবে অন্তত। সুশাসনের সূচকও ছিল অতি নিম্নমুখী, ব্যাংক জালিয়াতরা এখনো বেশ নিরাপদে আছে, সমুদ্রবন্দরে জাহাজ জট ছিল যন্ত্রণাদায়ক। এমপিওভুক্তি ও বেতন সমতার দাবিতে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ধর্মঘট আমরণ অনশনে রূপান্তরিত হয়েছিল। এমপি, নেতা, সচিব, মন্ত্রী সবাই হয়েছেন দর্শক। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কারো কোনো যেন দায়িত্ব নেই।

আলোচ্য বছরটিতে কয়েকটি ভোগ্যপণ্য ও খাদ্যশস্যের মূল্য বৃদ্ধি সর্বকালের সেরা রেকর্ড করেছে; এর মধ্যে উচ্চতায় আছে চাল ও পেঁয়াজ। দেশি পেঁয়াজ ১৪০ টাকা পর্যন্ত সম্মানী আদায় করে ছেড়েছে। এদিকে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে কোল্ড স্টোরেজের আলু। পাঁচ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করতে পারছে না মালিকরা। সরকার কম দরে কিনে রোহিঙ্গাদের দিলে সব কূল রক্ষা হবে। আরেকটি হচ্ছে গরুর মাংস। মাংস বলতে বাঙালির রসনায় গরুর মাংস বোঝায়। ৩০০ টাকা কেজি থেকে ৪৫০ টাকা। এরপর গাবতলী হাট এবং পথে চাঁদাবাজির অভিযোগে ধর্মঘট, পরিণতিতে ৫৮০ টাকা কেজি। চাঁদাবাজি এখন সর্বগ্রাসী, নেই এমন ক্ষেত্র—যেখান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ আসে না। মুক্তিযোদ্ধা সনদও দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত নয়। এবার নজর দেওয়া যাক আইন-শৃঙ্খলা, অপরাধ দমন, জঙ্গি তৎপরতা, অপহরণ, গুম ইত্যাদির দিকে। সম্পত্তি হরণসংক্রান্ত অপরাধ গ্রহণযোগ্য মাত্রায় থাকলেও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনাও ঘটেছে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতনের অর্থ লুটের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা শহরে। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর বিমানবন্দর সড়কসহ কিছু এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশির ভাগই পুলিশের নথিতে নেই। দুই-একটি ঘটনা জিডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আগেও পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ খাওয়ার অভিযোগ আসত। পুলিশ অপরাধীদের বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য উেকাচ নিত। হালে পুলিশ ধৈর্যহারা, অন্যের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের মতো কাজে সময় নষ্ট করে না, সরাসরি নিজেরাই ডাকাতি-ছিনতাই করতে শুরু করেছে। উদাহরণ দিয়ে কলেবর বাড়ালাম না। পুলিশের মধ্যে ডিবি এ ব্যাপারে বেশি অগ্রসরমাণ। র‌্যাবও এ ধরনের কর্ম মাঝেমধ্যে করে থাকে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে নওগাঁর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মান্দার মাজহারুল ইসলাম জিএসকে অবৈধ আটক ও হত্যার অভিযোগে র‌্যাব ৫-এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের কম্পানি কমান্ডার আল মুরাদসহ আরো ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে নিহতের স্ত্রী অভিযোগ দায়ের করেছেন।

গুম, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধ পরিস্থিতি ও ঘটনাগুলো এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে জাতীয় দৈনিকে এ বিষয়গুলো প্রধান শিরোনাম ও সম্পাদকীয়তে বহুবার এসেছে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের সংশ্লিষ্ট তথ্যটির দিকে তাকালে পরিস্থিতির একটা চিত্র পাওয়া যায়। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমগ্র দেশে ৩৯৫ জন নিখোঁজ বা গুম হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ৫২ জনের লাশ পাওয়া গেছে। ফিরে এসেছে ১৯৫ জন। এখনো ১৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর হিসাব করলে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব মতে, এই সংখ্যা আরো বেশি। উল্লিখিত ৩৯৫ জন গুমের ঘটনার মধ্যে ১৪৮টিতে র‌্যাব, ৪৬টিতে পুলিশ, ১০৬টিতে ডিবি, ১১টিতে ডিবি ও র‌্যাব, একটিতে শিল্প পুলিশ ও আনসারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। গুম হয়ে যারা ফিরে আসে তারা মুখে তালা দিয়ে রাখে বা অসংলগ্ন কথা বলে, যা জনমনে উল্লিখিত বাহিনীর সংশ্লিতার কথাই বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। অপহৃত অনিরুদ্ধ রায় বেলারুশের অনারারি কনসালের মতে ‘দে আর ভেরি প্রফেশনাল’ আটককালে স্পেশাল অ্যারেঞ্জমেন্ট আছে।

অন্যদিকে তিন বছর ১০ মাসে নিহত হয়েছে ৬৫৪ জন। ২০১৭ সালে ১০ মাস পর্যন্ত ১৩৯ জন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বিষয়টি গ্রাহ্য করছে না। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা দাবি করছে নিহতরা ডাকাত, অস্ত্র-মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ বা খুনি। যত বড় অপরাধী হোক, কাউকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ফেলা কোনো আইনেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিডিআর হত্যার আসামিদের বন্দুকযুদ্ধের পরিবর্তে আইনি যুদ্ধে ফেলা হয়েছে। ফলাফল দৃশ্যমান। এই সংক্ষিপ্ত পথই যদি অবলম্বন করতে হয়, তবে এত বড় ব্যয়বহুল পুলিশ-র‌্যাব বাহিনী রাখার কী দরকার? দরকারই বা কী এত বিশাল ব্যয়বহুল বিচারব্যবস্থার? তালিকা দিয়ে আনসার, গ্রাম-পুলিশ অর্থাৎ চৌকিদার-দফাদারদের দায়িত্ব দিলে তারাও সহজে কাজটি করতে পারবে। জনগণও এত বড় ব্যয়বহুল বাহিনী লালনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবে। ‘বন্দুকযুদ্ধের’ আরো একটি মারাত্মক বিষয় আছে। নিহতের দেহের কাছে অস্ত্র ও গুলি পড়ে থাকা। বন্দুকযুদ্ধকারী দলের বিরুদ্ধে যে কখনো নরহত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করবে না স্বজনরা, তার গ্যারান্টি কোথায়? তারা ঘটনার বিবরণের নোট রাখছে। উপযুক্ত সময়ে তা কাজে লাগাবে। মনে রাখতে হবে, ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না। ক্লিনহার্টের অপরাধীদেরও আইনের আওতায় আনা যাবে ও ক্ষতিপূরণ চাওয়া যাবে। আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু, জেলখানায় চার নেতার হত্যা, জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলা তার জ্বলন্ত প্রমাণ। বন্দুকযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীর নাম ও বিবরণ নিহতের স্বজনরা নোট করে রেখেছে। এদের নিয়ন্ত্রণকারীদের নামও সংগ্রহ করেছে। এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণকারীর অনুমোদন ছাড়া হয় না। ফলে একদিন, অনেক দিন পরে তিনিও সেই হত্যা মামলার আসামি হয়ে যেতে পারেন। পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব যা করছে তা জনস্বার্থেই করছে, শুধু দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে। দুর্জনদের শায়েস্তা করার সব বিধান আমাদের দেশের আইনে আছে। সেটাই সর্বোত্কৃষ্ট পথ। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে Notes on Indian Affairs, 1837-এ উল্লিখিত তৎকালীন প্রখ্যাত জেলা ও সেশন জজ ফ্রেজরিক শোর একটি কথিকার সংশ্লিষ্ট অংশ 'The police established by the British-Indian Government is, in its outlook precisely to that of London; the former is considered by the people as an intolerable evil, the later is universally allowed to a most admirable establishment highly conductive to the public good.'

সরকারের দৃশ্যমান বিপুল অর্জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওভার অ্যাকশনের জন্য ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আমরা কি ১৮৩৭ সালের অবস্থা থেকে এগোতে পেরেছি? তার দৃশ্যমান চেষ্টা কি আছে? আদৌ আমরা পরিবর্তন চাই কি না নিশ্চিত নই। মনে রাখতে হবে, কোনো মহা অনিষ্টকর অপকর্মের উদাহরণ সৃষ্টি করতে নেই। কারণ সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানদের জীবনে নেমে আসতে পারে অতীত কৃতকর্মের জন্য প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ‘সুনামি’।

লেখক : সাবেক আইজিপি



মন্তব্য