kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

উত্তম খাদ্য খেজুর

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



উত্তম খাদ্য খেজুর

৬৭. খেজুর বৃক্ষের ফল ও আঙুর থেকে তোমরা মাদক ও উত্তম খাদ্য গ্রহণ করে থাকো। এতে অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। [সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৭ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে আল্লাহর বিভিন্ন নিয়ামতের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় আলোচ্য আয়াতে খেজুর ও আঙুর ফল সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। খেজুর ও আঙুর উত্তম খাদ্য হিসেবে পরিচিত। অবশ্য কেউ কেউ এ থেকে মদ বা নেশাজাতীয় পানীয় তৈরি করে থাকে। মহান আল্লাহ ফলমূল থেকে যে রিজিক দিয়েছেন, তা মানুষের জন্য উপকারী। কিন্তু বহু মানুষ তার অপব্যবহার করে। তারা তা থেকে গর্হিত উপায়ে মদ বা নেশাজাতীয় উপাদান তৈরি করে।

মানবসভ্যতার ইতিহাসে সুমিষ্ট ফল হিসেবে খেজুরের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এ গাছ প্রধানত মরু অঞ্চলে জন্মে। মাঝারি আকারের গাছ হিসেবে খেজুরগাছের উচ্চতা গড়ে ১৫ থেকে ২৫ মিটার হয়ে থাকে। এর লম্বা পাতা রয়েছে, যা পাখির পালকের আকৃতিবিশিষ্ট। দৈর্ঘ্যে পাতাগুলো তিন থেকে পাঁচ মিটার হয়। পাতায় দৃশ্যমান পত্রদণ্ড রয়েছে। রয়েছে এক বা একাধিক বৃক্ষকাণ্ড, যা একটিমাত্র শাখা থেকে বিস্তৃত হয়েছে!

পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে ৪০০ জাতেরও বেশি খেজুর পাওয়া যায়। খেজুরের আরবি প্রতিশব্দ হলো ‘তামার’। পবিত্র কোরআনে খেজুর বা খেজুরগাছসংক্রান্ত আলোচনা এসেছে ১৬টি সুরার ২১টি আয়াতে।

প্রায় ৩০০ হাদিসে খেজুর বা খেজুর বৃক্ষের প্রসঙ্গ আনা হয়েছে। এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, ওই দিন তাকে কোনো বিষ ও জাদু ক্ষতি করতে পারবে না।’ (আজওয়া খেজুর হলো মদিনার উত্কৃষ্ট মানের খেজুর)। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৪৪৫ ও মুসলিম, হাদিস : ২০৪৭)

‘আজওয়া’ ছাড়াও অন্য খেজুরের মধ্যেও এমন উপকারিতা রয়েছে। খেজুর তিনটি, পাঁচটি বা সাতটি অর্থাৎ বেজোড় করে খাওয়ায় উপকারিতা বেশি। তাই হাদিসে বেজোড় সংখ্যার কথা বলা হয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আলিয়ার (মদিনার গ্রাম) আজওয়া খেজুর রোগ নিরাময়কারী ও প্রাতঃকালীন প্রতিষেধক।’ (সহিহ মুসলিম)

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুরের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল, ক্যালসিয়াম, সালফার, আয়রন, পটাসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, কপার ও ম্যাগনেসিয়াম বিদ্যমান, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া খেজুর বহু রোগের প্রতিষেধক। খেজুর স্নায়বিক শক্তি বৃদ্ধি করে। খেজুর রক্তস্বল্পতা দূর করে। হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। যকৃৎ ও পাকস্থলীর শক্তি বাড়ায়। খেজুর রুচিবর্ধক। খেজুর দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পক্ষাঘাত ও অঙ্গহানি রোগের জন্য উপকারী। খেজুর ফুসফুসের সুরক্ষা বিধান করে। মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধ করে। গর্ভবতী মায়েরা খেজুর খেলে জরায়ুর মাংসপেশির দ্রুত সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে নিরাপদ প্রসবে সাহায্য করে। প্রসব-পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তক্ষরণ কমিয়ে দেয়। খেজুর কোলেস্টেরল থেকে মুক্তি দেয়। খেজুর পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা ও কফ দূর করে। শুষ্ক কাশি ও এজমার জন্য উপকারী। উচ্চমাত্রার শর্করা, ক্যালরি ও ফ্যাটসম্পন্ন খেজুর জ্বর, মূত্রথলির ইনফেকশন, যৌনরোগ, গনোরিয়া, কণ্ঠনালির ব্যথা, ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। খেজুর হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য