kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

হাজী মুহম্মদ মুহসীন

দানবীর হাজী মুহম্মদ মুহসীনের জন্ম ১৭৩২ সালের ৩ জানুয়ারি হুগলি জেলায়। তাঁর পিতৃপুরুষের বসবাস ছিল ইস্পাহান (পারস্য)। হুগলির বণিক হাজী ফৈজুল্লাহ তাঁর বাবা, মা জৈনাব খানম। জৈনাব খানমের প্রথম বিয়ে হয়েছিল হুগলির ব্যবসায়ী এবং নদীয়া ও যশোরের জায়গিরদার আগা মোতাহারের সঙ্গে। মন্নুজান খানম তাঁদের ঔরসজাত সন্তান। আগা খান মোতাহার মৃত্যুকালে তাঁর যাবতীয় সম্পত্তি মন্নুজানকে দান করে যান। জৈনাব খানম এরপর হাজী ফৈজুল্লার সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। হাজী মুহম্মদ মুহসীনের বাল্যশিক্ষা হুগলিতে। ঘরেই পণ্ডিতের কাছে আরবি ও ফারসি ভাষা শেখেন তিনি। ভোলানাথ ওস্তাদের কাছে সেতার ও সংগীতের তালিম নেন। মুর্শিদাবাদে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে থাকাকালেই তাঁর মা-বাবা মারা যান। মন্নুজানের সঙ্গে হুগলির ফৌজদার মির্জা সালাউদ্দীনের বিয়ে হয়। বোনের বিয়ের পর মুহসীন ১৭৬২ সালে দেশ ভ্রমণে বের হন। ২৭ বছর আরব, মিসর ও পারস্য ভ্রমণ করে ফিরে আসেন। এরপর কখনো মুর্শিদাবাদ, কখনো হুগলি, কখনো ঢাকায় তিনি বসবাস করেছেন। মির্জা সালাউদ্দীনের মৃত্যুর পর বৈপিত্রেয় ভগ্নি মন্নুজানের সম্পত্তির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মুহসীন। ১৮০৩ সালে মন্নুজান মারা যাওয়ার আগে তাঁর সমুদয় সম্পত্তি মুহসীনকে দান করে যান। বিশাল এ সম্পত্তির আয় চিরকুমার মুহসীন তাঁর নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ব্যয় না করে দীন-দুঃখীদের জন্য ব্যয় করেছেন। ১৮০৬ সালে মুহসীন ফান্ড গঠন করে ধর্ম ও জনহিতকর কাজে সব সম্পত্তি দান করেন। বৃত্তির অর্থে হাজার হাজার ছাত্রের উচ্চশিক্ষা লাভ হয়। মুহসীন ছিলেন দানশীল, দয়াবান, ধর্ম ও বিদ্যানুরাগী। আরবি, ফারসি, উর্দু, ইংরেজি ভাষা এবং ইতিহাস ও বীজগণিতে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন। ১৮১২ সালের ২৯ নভেম্বর মহান এই দানবীর মৃত্যুবরণ করেন।

[বাংলা একাডেমির ‘চরিতাভিধান’ অবলম্বনে]



মন্তব্য