kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

অমীমাংসিত বিষয়ে মীমাংসার জন্য কোরআন নাজিল হয়েছে

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অমীমাংসিত বিষয়ে মীমাংসার জন্য কোরআন নাজিল হয়েছে

৬৪. আমি তো তোমার কাছে এ গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি, যারা এ বিষয়ে মতভেদ করে তাদের সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। আর (এই কোরআন) ঈমানদারদের জন্য পথনির্দেশ ও রহমতস্বরূপ। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৪)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, যুগে যুগে নবী-রাসুল প্রেরিত হয়েছেন। তাঁরা মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করেছেন। আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, নবী ও নবুয়তের ধারাবাহিকতায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পাঠানো হয়েছে। তাঁর ওপর মহাগ্রন্থ আল কোরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। এই কোরআনের বক্তব্য ও বাণী অত্যন্ত যৌক্তিক, সুপ্রমাণিত ও সুস্পষ্ট। যারা এই কোরআনকে নিজেদের জন্য জীবন বিধান হিসেবে গ্রহণ করে, তারাই সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে।

কোরআনের আগে বহু আসমানি ধর্মগ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছে; কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেসব গ্রন্থে ব্যাপকভাবে বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। আকিদা-বিশ্বাস থেকে বিধানাবলি—কোনো কিছুই বিকৃতির হাত থেকে রেহাই পায়নি। যখন থেকে আগের ধর্মগ্রন্থগুলোতে মানুষের হস্তক্ষেপ শুরু হয়, তখন থেকে সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। পরিবর্তনের পথ ধরে আগের আসমানি গ্রন্থগুলোর মধ্যে মানব রচিত জ্ঞান ও চিন্তাধারা স্থান করে নেয়। অন্যদিকে মানুষের জ্ঞান নির্ভুল নয়, অকাট্যও নয়। মানুষের জ্ঞান খুবই সীমিত। তাই সেসব বিকৃত বর্ণনার সঙ্গে উন্নত গবেষণা ও নিখুঁত বিশ্লেষণের সংঘর্ষ দেখা দেয়। হাজার বছরের ইতিহাস সাক্ষী, অবতীর্ণ হওয়ার দিন থেকে আজ পর্যন্ত কোরআন অবিকৃত ও অক্ষত অবস্থায় আছে। যুগে যুগে বিভিন্ন জাতি ও ধর্মে বিশ্বাস ও উপাসনায় যেসব বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে, কোরআন সেগুলোর ব্যাপারে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে। এরই সঙ্গে কোরআন পরিবর্তিত দুনিয়ার যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সামর্থ্য রাখে। জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পের যতই উন্নতি হোক না কেন, কোরআনের বক্তব্য ও বিধানের ওপর সেগুলো কোনো প্রভাব ফেলে না। ধর্ম ও বিজ্ঞানের দ্বন্দ্বে খ্রিস্টধর্ম প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। এর কারণ তাদের ধর্মগ্রন্থে বিকৃতি ঘটেছে। ইসলামের ইতিহাসে এই দ্বন্দ্ব ও সংঘাত অনিবার্য নয়। কারণ ইসলাম ও কোরআনের জ্ঞান সঠিক উৎস থেকে আহরিত হয়েছে এবং বিশেষ ব্যবস্থায় তা সুরক্ষিত রয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠিত সত্যের সঙ্গে ইসলামের বিরোধ নেই, কোরআনের বিরোধ নেই। কোরআন ও অন্যান্য আসমানি গ্রন্থের মধ্যে এটি অন্যতম পার্থক্য।

কোরআন ও অন্যান্য আইন-দর্শনের মধ্যে পার্থক্য হলো—কোরআনের বক্তব্য ও বিধান খুবই সুসংহত, সুস্পষ্ট ও সব সময়ের উপযোগী। অন্যদিকে অন্যান্য আইন-দর্শনকে জটিল ও দুর্বোধ্য করে তোলা হয়েছে। সেগুলো রচিত হয়েছে নির্দিষ্ট সময় ও বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। একসময় সে আইনের কার্যকারিতা থাকে না। সে দর্শন সেকেলে হয়ে পড়ে। ফলে নতুন আইন ও দর্শনের প্রয়োজন হয়। কোরআনের বক্তব্য ও বিধান সব দেশের, সব যুগের মানুষের জন্য। পাশাপাশি কোরআনের বক্তব্য ও বাণী সুস্পষ্ট। বিভিন্ন স্থানে কোরআনের এক আয়াত অন্য আয়াতের ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। সুতরাং কোরআনের নবীর দায়িত্ব শুধু এতটুকুই যে তিনি তা তাঁর উম্মতের কাছে পৌঁছে দেবেন। তিনি অমীমাংসিত বিষয় মীমাংসা করে দেবেন। এর বাইরে কাউকে ঈমান আনতে বাধ্য করা তাঁর দায়িত্ব নয়। কেননা কোরআনের সব কিছুর মীমাংসা করা হলেও সবাই এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারবে না। শুধু তারাই উপকৃত হতে পারবে, যারা ঈমানের দৌলত লাভ করেছে। এই কোরআন ঈমানদারদের জন্য পথনির্দেশ ও রহমতস্বরূপ।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য