kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

শওকত ওসমান

কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে উচ্চকিত কণ্ঠস্বর। ‘ক্রীতদাসের হাসি’ তাঁর একটি জনপ্রিয় ঐতিহাসিক উপন্যাস। পুরো নাম শেখ আজিজুর রহমান। শওকত ওসমান তাঁর সাহিত্যিক নাম। তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার আলিয়া মাদরাসা থেকে প্রবেশিকা, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে আইএ ও বিএ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ করেন। গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে চট্টগ্রাম কলেজ অব কমার্স এবং ১৯৫৯ সাল থেকে ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৭২ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে যান। চাকরিজীবনের প্রথম দিকে কিছুদিন কৃষক পত্রিকায় সাংবাদিকতাও করেন। শওকত ওসমানের উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আছে উপন্যাস : ‘জননী’, ‘ক্রীতদাসের হাসি’, ‘সমাগম’, ‘চৌরসন্ধি’, ‘রাজা উপাখ্যান’, ‘পতঙ্গ পিঞ্জর’; গল্পগ্রন্থ : ‘জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প’, ‘মনিব ও তাহার কুকুর’ ও ‘ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্ব্বী’; প্রবন্ধগ্রন্থ : ‘ভাব ভাষা ভাবনা’, ‘সংস্কৃতির চড়াই উত্রাই’, ‘মুসলিম মানুষের রূপান্তর’; নাটক : ‘আমলার মামলা’, ‘পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা’; শিশুতোষ গ্রন্থ : ‘ওটেন সাহেবের বাংলো’, ‘মস্কুইটোফোন’, ‘ক্ষুদে সোশ্যালিস্ট’, ‘পঞ্চসঙ্গী’ এবং রম্যরচনা : ‘নিজস্ব সংবাদদাতা প্রেরিত’। কিছু স্মৃতিকথাও তিনি লিখেছেন। অনূদিত গ্রন্থের মধ্যে আছে, ‘নিশো’, ‘লুকনিতশি’, ‘বাগদাদের কবি’, ‘টাইম মেশিন’, ‘পাঁচটি কাহিনী’ (লিও তলস্তয়), ‘স্পেনের ছোটগল্প’, ‘পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে মানুষ’ ইত্যাদি। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি, আদমজী সাহিত্য, একুশে পদক, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারসহ (১৯৯৭) নানা সম্মাননা পেয়েছেন। ১৯৯৮ সালের ১৪ মে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]



মন্তব্য