kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

শয়তান পাপীদের দৃষ্টিতে পাপাচার শোভিত করে তোলে

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শয়তান পাপীদের দৃষ্টিতে পাপাচার শোভিত করে তোলে

৬৩. শপথ আল্লাহর, আমি তোমাদের আগেও বহু জাতির কাছে রাসুল পাঠিয়েছি। কিন্তু শয়তান ওই সব জাতির কার্যকলাপ তাদের দৃষ্টিতে শোভন করেছিল। সুতরাং শয়তান আজ তাদের অভিভাবক। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৩)

তাফসির : আগের আয়াতে অবিশ্বাসীদের একটি ভ্রান্ত ধারণার অপনোদন করা হয়েছিল। তাদের দাবি, মঙ্গল ও কল্যাণ নাকি সব সময় তাদের পক্ষে থাকে! আলোচ্য আয়াতে অবিশ্বাসীদের ঈমান না আনার একটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, নবী পাঠানোর ধারাবাহিকতা আগে থেকেই চলে আসছে। এটা অভিনব বা নতুন কিছু নয়। অর্থাৎ মানুষের পক্ষে ঈমান আনা সহজ হওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা মহান আল্লাহ করে রেখেছেন। কিতাব পাঠানো হয়েছে। নবী পাঠানো হয়েছে। মানুষকে বিবেক-বুদ্ধি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বহু মানুষ ঈমান আনেনি। এর অন্যতম কারণ হলো, তারা খোদা প্রদত্ত ঈমানি শক্তি কাজে লাগায়নি। তারা বরং শয়তানের অনুসরণ করেছে। শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের অপকর্ম শোভন করে দিয়েছে।

নবী ও নবুয়তের ধারাবাহিকতায় মহানবী (সা.) আরবে আগমন করেছেন। মক্কার মুশরিকরা মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করত। তাঁর আহ্বানে তারা কর্ণপাত করত না। এ আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সান্ত্বনা দিয়েছেন যে এর আগেও বহু নবীর উম্মত তাঁদের ওপর ঈমান আনেনি। এতে নবীদের কোনো দোষ নেই। নবীরা এর জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হবেন না। নবীদের দায়িত্ব শুধু আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়া।

এ আয়াতের একটি বিষয় খুবই লক্ষণীয়। এখানে বলা হয়েছে, শয়তান মানুষের সামনে তাদের খারাপ কাজগুলো অত্যন্ত শোভন করে তুলে ধরে। শয়তান এটা করে থাকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য।

এ বিষয়ে অন্য আয়াতে এসেছে, ‘যিনি প্রত্যেক মানুষের কাজকর্মের পর্যবেক্ষক, তিনি কি তাদের সমান, যাদের তারা (আল্লাহর সঙ্গে) অংশীদার সাব্যস্ত করে? অথচ তারা আল্লাহর বহু শরিক (অংশীদার) দাঁড় করেছে। বলে দাও, আল্লাহর অংশীদের পরিচয় দাও। অথবা তোমরা কি আল্লাহকে এমন কিছুর সংবাদ দিতে চাও, যা তিনি জানেন না। (অথচ কোনো কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নেই)। তা না হলে তোমরা বাহ্যিক (অসার) কথা বলছ? বরং যারা কাফির, তাদের ছলনা তাদের কাছে শোভন প্রতীয়মান হয় এবং তাদের সৎ পথ থেকে নিবৃত্ত করা হয়েছে। আর আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ৩৩)

শয়তান শব্দটি একটি পরিভাষা হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই সব ধর্মের মানুষের কাছে সুপরিচিত। এ শব্দ সর্বপ্রথম জিনদের আদি পিতার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, যে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে প্রথম মানুষ আদম (আ.)-এর সামনে সিজদাবনত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আরবি ভাষায় শয়তান মানে সীমা লঙ্ঘনকারী, দাম্ভিক ও স্বৈরাচারী। এই বৈশিষ্ট্যের জিন ও মানুষ উভয়ের জন্যই শয়তান পরিভাষা ব্যবহৃত হয়। কোরআন মজিদে উভয়ের জন্য শয়তান পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। শয়তান কাদের অভিভাবক—এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদের অন্ধকার থেকে বের করে আলোর পথে নিয়ে যান। আর যারা কুফরি করে, তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত (শয়তান ও খোদাদ্রোহী অপশক্তি)। এরা তাদের আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো জাহান্নামের অধিবাসী...।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৭)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য