kalerkantho


‘এবার নির্বাচনে অগ্নিপরীক্ষা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘এবার নির্বাচনে অগ্নিপরীক্ষা হবে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হাসান তালুকদার বলেছেন, বিদায়ী বছরে রাজনৈতিক অঙ্গনে হতাশার একটি দিক হলো, আগামী জাতীয় নির্বাচন কিভাবে হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। দেশে আজও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে আশার দিক হলো—নির্বাচন নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সমঝোতামূলক প্রস্তাব বা সংলাপের কথা বলা হচ্ছে। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবেশ সুষ্ঠু করতে ক্ষমতাসীন দল ও বিএনপিকে আলোচনায় বসতে হবে। কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আলোচনার পথ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইনডিপেনডেন্টের টক শো আজকের বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে ‘বছর শেষে’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় অধ্যাপক ড. এস এম হাসান তালুকদার আরো বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান নির্বাচনকালীন যে সরকার থাকবে, তাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সরকারি দল যে ধরনের সুযোগ পাবে, অন্যরা সে সুযোগ পাবে না। তা ছাড়া নির্বাচনকালে সরকার শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে—এ কথা সংবিধানে বলা নেই। তারা সবই করতে পারবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন বছরে দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকশিত হবে, নির্বাচনকালে সরকার নিয়ে একটি সমাধান আসবে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হবে।

অধ্যাপক ড. এস এম হাসান তালুকদার বলেন, ২০১৭ সালে সরকারের সফলতার মধ্যে রয়েছে জঙ্গি দমন, রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন, নারীর ক্ষমতায়ন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেসকোর স্বীকৃতি, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনের আয়োজন ইত্যাদি।

অন্যদিকে ব্যর্থতার মধ্যে রয়েছে নারী নির্যাতন, গুম-খুন বৃদ্ধি, শিক্ষায় অবনতি, ব্যাংকে ধস, ধনী-দরিদ্র বৈষম্য, সামাজিক অবক্ষয়, সীমান্ত হত্যা অব্যাহত, পানি সমস্যা, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হওয়া, ফুটবল খেলায় পিছিয়ে থাকা, বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদ খালি থাকা ইত্যাদি। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, শিক্ষামন্ত্রীর ঘুষ খাওয়া নিয়ে বক্তব্য। যতই ব্যাখ্যা দেওয়া হোক, মন্ত্রী হিসেবে আইন অনুযায়ী তিনি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, ২০১৭ সালে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ। সম্প্রতি আইনমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন। অথচ ছুটিতে যাওয়ার সময় অসুস্থতার কথা বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাষ্ট্র ভেঙে পড়বে। বিনা বিচারে হত্যা করলে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়বে।

সলিমুল্লাহ খান বলেন, গত বছরের অর্থনৈতিক উন্নতির কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ব্যাংকে প্রচুর তরল টাকা পড়ে আছে। সে জন্য সুদের হার কম। অর্থনৈতিক মন্দা ভাব বিরাজ করছে। আমরা সংকটে আছি। বিনিয়োগের সুযোগ না থাকলে বিভিন্নভাবে টাকা পাচার হবেই। তিনি বলেন, বিদায়ী বছরে গুম-খুন, সংখ্যালঘু ও নারী নির্যাতন বেড়েছে। ড্রাইভারদের হত্যার লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য একটি আইন হয়েছে। এটি একটি ভালো দিক।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সলিমুল্লাহ খান বলেন, চলতি বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। এ সময়ের মধ্যে অনেক কিছু ঘটতে পারে। বিএনপি কিভাবে নির্বাচনে যাবে, তারা সহায়ক সরকারের কথা বললেও এখনো তার রূপরেখা দেয়নি। এ নিয়ে অস্থিরতা আছে। তবে সব কিছু হবে জনগণের চাওয়া অনুযায়ী। অবশ্য বিএনপিও চাপের মধ্যে আছে। কারণ খালেদা জিয়ার মামলার রায় কী হবে, তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের শান্তিপূর্ণ মাধ্যম নির্বাচন। এবার নির্বাচনে অগ্নিপরীক্ষা হবে। শান্তিপূর্ণভাবে সরকার পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। আমরা অনির্বাচিত কোনো সরকার চাই না।

সলিমুল্লাহ খান বলেন, নির্বাচন নিয়ে আস্থাহীনতার একপর্যায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময় এ সরকার গঠন নিয়ে নানা কৌশল নেওয়া হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ সরকার তা বাতিল করে দেয়। বিএনপি নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরে এই পদ্ধতি হারিয়েছে। এখন বর্তমান সরকার যেন এ ধরনের কাজ না করে। কারণ নির্বাচনই শেষ কথা নয়। জনগণের বিপ্লবের একটি সুযোগ আছে।


মন্তব্য