kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

জসীমউদ্দীন

পল্লীকবি জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যে চিরস্মরণীয় নাম। পুরো নাম জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। ‘কবর’ কবিতা তাঁর এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।

তিনি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন ফরিদপুরের হিতৈষী পাঠশালার শিক্ষক। জসীমউদ্দীন ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। এখান থেকে আইএ ও বিএ পাস করে ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পাস করেন। স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময়ই তিনি ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আনুকূল্যে পল্লীগীতি সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত হন। ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। ১৯৪৪ সালে যুক্ত হন প্রাদেশিক সরকারের পাবলিসিটি বিভাগে। ‘কবর’ কবিতাটি লেখেন কলেজে পড়ার সময়ই। ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’, ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ ও ‘মা যে জননী কান্দে’ তাঁর বিখ্যাত গাথাকাব্য। ‘রাখালী’, ‘বালুচর’, ‘ধানক্ষেত’, ‘মাটির কান্না’ তাঁর জনপ্রিয় কবিতার সংকলন। গদ্য রচনায়ও তাঁর অসামান্য হাত ছিল। যাঁদের দেখেছি, ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় অত্যন্ত সুখপাঠ্য দুটি স্মৃতিকথা। ‘হাসু’, ‘এক পয়সার বাঁশি’, ‘ডালিমকুমার’, ‘রসালো’ ইত্যাদি তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে তিনি একুশে পদক পান, ওই বছরেরই ১৩ মার্চ তিনি পরলোকগমন করেন। তাঁর অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়।

 

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]



মন্তব্য