kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

চূড়ান্ত অমঙ্গল অবিশ্বাসীদের জন্য

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চূড়ান্ত অমঙ্গল অবিশ্বাসীদের জন্য

৬২. তারা (মুশরিকরা) যা অপছন্দ করে, তা-ই তারা আল্লাহর প্রতি আরোপ করে। তাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করে যে মঙ্গল তাদেরই জন্য রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের জন্য রয়েছে (জাহান্নামের) আগুন। তাদেরকেই সবার আগে সেখানে নিক্ষেপ করা হবে। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৩)

তাফসির : আগের আয়াতে মুশরিক ও অবিশ্বাসীদের ওপর দ্রুত আজাব না আসার কারণ বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে অবিশ্বাসীদের অন্য একটি ভ্রান্ত ধারণার অপনোদন করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, মক্কার মুশরিকরা ফেরেশতাদের আল্লাহর কন্যা মনে করত। এটা ছিল তাদের অজ্ঞতা ও নিকৃষ্ট মানসিকতার পরিচায়ক। এর চেয়েও আশ্চর্যজনক হলো, অবিশ্বাসীদের মধ্যে এই প্রবণতা প্রবল যে তারা বরাবরই নিজেদের অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে! তারা মনে করে, দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা তাদের জন্য। এমনকি কেউ কেউ এমন কথাও বলে যে দুনিয়ায় আমরা বিশ্বাসীদের চেয়ে ভালো আছি। আর যদি পরকাল থেকেই থাকে, তাহলে সেখানেও আমরা ভালো থাকব। তারা ভাবে, মঙ্গল সব সময় তাদের পক্ষে! এমন মনগড়া ধারণার বিরুদ্ধে আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে চূড়ান্ত অমঙ্গল তাদের জন্য। পরকালে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। এসব অবিশ্বাসীকে অন্য পাপীদের আগে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

ওপরের আলোচনা থেকে আয়াতের বক্তব্যের বিপরীত দিকও পরিষ্কার। সেটি হলো, চূড়ান্ত মঙ্গল ঈমানদার ও বিশ্বাসী মানুষদের জন্য। তাদের অনাবিল শান্তির আধার জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। এ কথা এসেছে কোরআনের অন্য আয়াতে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম বস্তু (জান্নাত) এবং আরো অধিক কিছু। মলিনতা ও অপমান তাদের মুখমণ্ডল আচ্ছন্ন করবে না, তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৬)

জান্নাত কল্পনাতীত বিষয়। জান্নাতের রূপ-সৌন্দর্য সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে যতটুকু বর্ণনা করা হয়েছে, এর বাইরে চিন্তা করা মানুষের সাধ্য ও শক্তির ঊর্ধ্বে। মানুষ তার চোখ, কান, অন্তর দিয়ে তা কখনো অনুভব করতে পারবে না। জান্নাত অনাবিল শান্তির আধার। অতৃপ্তি, অভাব, অনটন বলতে সেখানে কিছু নেই। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল, জান্নাত সম্পর্কে আমাদের বর্ণনা করুন। কী দিয়ে জান্নাত নির্মিত হয়েছে?’ তিনি বলেন, ‘তার দেয়ালের একটি করে ইট সোনা দিয়ে এবং আরেকটি ইট রুপা দিয়ে নির্মিত। তার সিমেন্ট হলো উন্নত মৃগনাভি। তার প্লাস্টার ইয়াকুত ও মোতি এবং তার মাটি ওয়ারছ (নামের সুগন্ধি) ও জাফরান। যারা এতে প্রবেশ করবে তারা অমর হবে। কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। চিরসুখী হবে; অসুখী হবে না। তাদের যৌবন শীর্ণ হবে না। আর তাদের কাপড় ছিন্নভিন্ন করা হবে না।’” (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ৯৭৪৪)

জান্নাতের নিয়ামত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্বর্ণখচিত আসনে তারা পরস্পর মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে বসবে। তাদের সেবায় ঘোরাফেরা করবে চিরকিশোরেরা, পানপাত্র, কুঁজা ও প্রস্রবণ নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে। সেই সুরা পানে তাদের শিরঃপীড়া হবে না, তারা জ্ঞানহারাও হবে না। তাদের জন্য আরো রয়েছে পছন্দমতো ফলমূল, আর তাদের ঈপ্সিত পাখির গোশত ও ডাগর-চোখা সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ হুর। এগুলো তাদের কর্মের পুরস্কারস্বরূপ। সেখানে তারা শুনবে না কোনো অসার কথা অথবা পাপ বাক্য, শান্তি আর শান্তির বাণী ছাড়া।’ (সুরা ওয়াকিয়া : ১৫-২৬)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য