kalerkantho


বিশেষ সাক্ষাৎকার

জাতীয় পার্টি টিকে আছে, টিকে থাকবে

গোলাম মোহাম্মদ কাদের

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জাতীয় পার্টি টিকে আছে, টিকে থাকবে

সংসদের বিরোধী দল হওয়া সত্ত্বেও দেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির (জাপা) পরিচিতি এখনো তৃতীয় বৃহত্তম দল বা শক্তি হিসেবে। তাই নির্বাচনের রাজনীতিতে দলটি এখনো বড় ফ্যাক্টর বলে বিবেচিত। ফলে আগামী নির্বাচপূর্ব রাজনীতিতে জাপার অবস্থান কী হবে এ নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয় পেয়েছে জাপা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে জাপার সম্ভাব্য রাজনৈতিক অবস্থান তথা নির্বাচনপূর্ব রাজনীতির বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে কালের কণ্ঠ’র মুখোমুখি হয়েছেন দলটির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের)। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এনাম আবেদীন ও শারমিনুর নাহার

 

কালের কণ্ঠ : দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।

 

জি এম কাদের : দেশে কোথাও সহিংসতা নেই। সে হিসেবে শান্তিপূর্ণ বলা যায়। তবে মানুষের মনে অস্থিরতা আছে। অনিশ্চয়তা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। সামনে দেশ কোন দিকে যাবে, কোন পর্যায়ে আমরা পৌঁছব—সেটা ভালো, না মন্দ, এসব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা আছে।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করছেন?

 

জি এম কাদের : নির্বাচন ঘিরে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাই বলছি; যদিও শুধু নির্বাচন বলা ঠিক হবে না, নির্বাচনের আগে ও পরে। নির্বাচন হলে দেশ কোন দিকে যাবে? নির্বাচনে কে জয়লাভ করবে? শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকবে কি না, দেশে গণতান্ত্রিক যে প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছিল, সেটা অব্যাহত থাকবে কি না, জবাবদিহিমূলক সরকার বড় ধাক্কা খাবে কি না—এসব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শুধু সচেতন মানুষ নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেই আমি এক ধরনের অস্থিরতা দেখতে পাই।

 

কালের কণ্ঠ : এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টি কী ভাবছে?

 

জি এম কাদের : জাতীয় পার্টি সব সময় চেষ্টা করে গেছে দেশের মধ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার। একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ এগিয়ে যাক। এখানে পরস্পরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ অথবা বিরূপ মনোভাব অথবা সাংঘর্ষিক পরিবেশ যতটুকু সম্ভব দূর করা যায়। নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে, সবাই মিলে সহমত হয়ে এগিয়ে যাওয়া। এটা জাতীয় পার্টির গ্রহণযোগ্যতার একটা বড় কারণ। দলটি প্রতিহিংসামূলক বা বিদ্বেষমূলক কোনো কিছুতে জড়িত হয়নি কোনো সময়। শাসনামলেও তেমনভাবে হয়নি। পরেও সেটা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সব সমস্যার জন্য আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাদের চেয়ারম্যান বলেছেন আগামী নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে সাংবিধানিকভাবেই হবে।

 

জি এম কাদের : এটা বলার কারণ, এই পদ্ধতিকে আমরা সংসদে সমর্থন দিয়েছি। আমাদের কথা ছিল যে পদ্ধতিটা তৈরি করা হয়েছিল, মানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি (এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ২০০৬ ও ২০০৭ সালের নির্বাচন হওয়ার পর) তাকে সবাই নিজেদের মতো করে ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া এই পদ্ধতির কারণে সংসদীয় গণতন্ত্র একটা প্রশ্নের মুখে পড়েছিল।

 

কালের কণ্ঠ : মানে আপনারা বিরোধিতা করেছিলেন?

 

জি এম কাদের : করেছিলাম তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায়। পরে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় নির্বাচন আর সবার অংশগ্রহণে হলো না। আমরাও ভাবছিলাম, সবাই অংশ না নিলে এটার মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে না। আর সামনের দিনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া এটা হবে না। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ার জন্য আমরা প্রচেষ্টা চালিয়েছিলাম। কিন্তু হলো না। যেহেতু হলো না, সেহেতু সামনের দিকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলেই শুধু এটার পরীক্ষা করা সম্ভব। সেই পরিপ্রেক্ষিতে হয়তো চেয়ারম্যান এটা বলেছেন।

 

কালের কণ্ঠ : অনেকটা পরীক্ষামূলকভাবেই কিন্তু গতবারের নির্বাচন হয়ে গেল।

 

জি এম কাদের : না, এটা পরীক্ষামূলক হয়নি এই কারণে যে ওখানে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক রাজনৈতিক দল, যারা সরকারের বিপক্ষে ছিল, তারা অংশগ্রহণ করেনি। গণতন্ত্রের মূলকথা জনগণের শাসন। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সরকার হবে। সেই ভিত্তিতেই সরকার দেশ শাসন করবে। এর জন্য জনসম্পৃক্ততা জরুরি। জনগণের ক্ষমতা জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে কাউকে দিয়ে দেয়। তারপর সেই জনপ্রতিনিধি জনগণের মতামতের ভিত্তিতে কাজ করেন। সে জন্য কয়টা দল অংশ নিল তার চেয়েও বড় ব্যাপার কত লোক ভোট দিতে গেল। এবারের নির্বাচনে যেহেতু বেশির ভাগ মানুষ ভোট দেয়নি, তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আবরণে যেভাবে জনগণের ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটা নৈতিকভাবে বৈধ নয়। কারণ জনগণ এই ক্ষমতা জনপ্রতিনিধিদের দেয়নি। তারা ভোট দিতে যায়নি। বড় জনপ্রিয় দলগুলো যদি অংশগ্রহণ না করে, তারা যদি নির্বাচন বর্জন করার ডাক দেয়, তাহলে অনেক মানুষই অংশগ্রহণ করবে না। এ ক্ষেত্রে এটাকে গণতন্ত্রের বিজয় বলা যাবে না। হয়তো নির্বাচন বলা যেতে পারে।

 

কালের কণ্ঠ : আগামী নির্বাচন নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী?

 

জি এম কাদের : এখন এটা আমাদের সবারই দায়িত্ব। বাহ্যিকভাবে মনে হচ্ছে কিছু দল চাচ্ছেই না যে এটা একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। কিছু দল চাচ্ছেই না যে এটা অবাধ, সুষ্ঠু হোক। এটার একটা সংমিশ্রণ প্রয়োজন। যারা চাচ্ছে যে সঠিক একটা নির্বাচন হোক, সেটার পক্ষেই সবার থাকা উচিত। নির্বাচন করাই গণতন্ত্র নয়। দরকার সব দলের অংশগ্রহণ। দলের কারণে হয়তো বেশির ভাগ মানুষ আসে। সব মানুষ যদি ভোট দিতে আসে, তারা যদি সঠিকভাবে ভোট দিতে পারে, সেই ভোটের গণনা যদি সঠিক হয়, সেটা হলো সঠিক নির্বাচন। সেই নির্বাচন করার জন্য সার্বিকভাবে সবার থাকা প্রয়োজন।

 

কালের কণ্ঠ : এই সদিচ্ছা কি আপনি বড় দুই দলে দেখতে পাচ্ছেন?

 

জি এম কাদের : নাম বলতে চাই না; তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে, কিছু দল চাচ্ছেই না যে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। আবার অনেকে খুব সিরিয়াসলি চাচ্ছে। সামনের নির্বাচনে এটাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছি।

 

কালের কণ্ঠ : বড় দুই দলের বাইরে আপনারা ফ্যাক্টর। কারণ গতবার আপনারা যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে না যেতেন, তাহলে তারা তো সংসদ গঠন করতে পারত না। এবার আপনাদের মনোভাব কী?

 

জি এম কাদের : জাতীয় পার্টি এ জন্য ফ্যাক্টর, কারণ অন্য দুটি দল খুব শক্তিশালী এবং তাদের অবস্থান পাশাপাশি। কাজেই সেখানে অল্প একটু পার্থক্য, যেটা শুধু জাতীয় পার্টিই করতে পারে। সেই সামান্যতম পার্থক্য যেদিকে যায়, পাল্লা সেদিকেই ভারী হয়। যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলেই এই শর্ত প্রযোজ্য, অন্যথায় নয়। ভোটের রাজনীতিতে যদি কোনো পার্টি এক লাখ ভোট পায় আর অন্য পার্টি এক লাখ এক ভোট পায়, তাহলে এই একটা ভোটই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক লাখ নয়।

 

কালের কণ্ঠ : জাতীয় পার্টি কোন দিকে থাকবে?

 

জি এম কাদের : এটা বলার এখনো সময় আসেনি। আর এককভাবে আমি এটা বলতে পারব না। কারণ আমাদের একটি কমিটি আছে। সেখানে সবার আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে।

 

কালের কণ্ঠ : কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলিয়ে একটি জোট হয়েছে। জাতীয় পার্টির কি নিজের কোনো জোট করার ইচ্ছা আছে?

 

জি এম কাদের : আমার ব্যক্তিগত মত হলো এসব জোট নির্বাচনে কোনো কাজে আসবে না। অবশ্য নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্যই তারা এটা করেছে। এবার যদি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়, তাহলে সুস্পষ্টভাবে জনগণের সামনে দুটি পক্ষ থাকবে। জনগণ মোটামুটি দুটি দলে ভাগ হয়ে যাবে। খুব সামান্য অংশই হয়তো এর বাইরে থাকবে। জনগণের মধ্যে ভাগ হওয়া একটা অংশ চাইবে এই সরকারই আবার ফিরে আসুক। আর কিছু মানুষ চাইবে সরকারের পরিবর্তন। দেশের জনগণ এর বাইরে তৃতীয় কোনো চিন্তা করবে না।

 

কালের কণ্ঠ : রংপুরের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জয়ী হওয়ার কারণ কী?

 

জি এম কাদের : এখানে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। প্রথমত, আমাদের প্রার্থী যিনি, তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতিতে আছেন। আগেও উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। কোনো দুর্নাম নেই। দুর্নীতিমুক্ত। সব মানুষের সঙ্গে সমানভাবে ওঠাবসা। শ্রমিক, কৃষক, মুটে-মজুরের সঙ্গে যেমন সহজে মিশে যেতে পারেন, তেমনি শিক্ষক, ডাক্তার, বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গেও মেশার, কথা বলার সামর্থ্য ও যোগ্যতা তাঁর আছে। দ্বিতীয়ত, জাতীয় পার্টির একটা গ্রহণযোগ্যতা রংপুর অঞ্চলে আছে। কারণ এ এলাকার মানুষ মনে করে তারা অবহেলিত। পরিসংখ্যানগতভাবেও আমরা দেখি, এটা পশ্চাৎপদ অঞ্চল। অবহেলিত বলেই পশ্চাৎপদ। এই অবহেলার কারণ সাধারণ মানুষ মনে করে যে তাদের কথা বলার মতো রাজনৈতিক আশ্রয়স্থল নেই। তাই যখন জাতীয় পার্টি তৈরি করা হলো আর রংপুরের এরশাদ সাহেব যখন তার নেতা হলেন তখন এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে একটু ভরসা এলো। এরশাদ বা জাতীয় পার্টি এখানকার মানুষের জন্য কাজ করেছে। অনেক করেছে। একটি উদাহরণ দিই; যেমন যমুনা সেতু। স্বাধীনতার পর থেকে সব সরকারই এটা করার ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অনেকের কাছেই এটা ছিল অসম্ভব। একমাত্র এরশাদই যমুনা সেতু করার চিন্তা করেছিলেন এবং পাশাপাশি এটাকে মাল্টিপারপাস করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সেতুতে রেললাইন, গ্যাস, বিদ্যুৎ—সব সংযুক্ত করেছিলেন। সুতরাং রংপুরবাসীর ধারণা, তিনি রংপুরের কারণেই এটা করেছিলেন। তাই তারা মনে করে, তাদের একমাত্র রাজনৈতিক মঞ্চ হলো জাতীয় পার্টি। তাই তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগের যে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল তিনি কাজ করেছিলেন এর আগে। আর তাঁর কাজের কারণে অনেকের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করতে দেখা গেছে। অনেকে তাঁর ওপরে অসন্তুষ্ট ছিল। এটা হয়তো আমাদের প্রার্থীর ক্ষেত্রে ইতিবাচক হিসেবে কাজ করেছে। চতুর্থত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি মহাজোট সরকারের গত ক্যাবিনেটে ছিলেন, এই ক্যাবিনেটে নেই। আপনি আবার মহাজোট সরকারের আস্থাভাজন। তাহলে ক্যাবিনেটের বাইরে কেন?

 

জি এম কাদের : দেখুন, এটা প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি নির্বাচনে গিয়েও আবার উইথড্র করেছেন, কেন?

 

জি এম কাদের : এটা করার কারণ হলো দলীয় সিদ্ধান্ত। চেয়ারম্যান যা করবেন, আমরা তা-ই করব বলে ঠিক হয়েছিল। একেবারে শেষ মুহূর্তে যখন বিএনপি এলো না তখন আমাদের দিক থেকে প্রস্তাব ছিল, আরো একটু সময় বাড়িয়ে বিএনপিকে আনা হোক। কিন্তু তার পরও যখন তারা এলো না তখন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেই হিসাবে প্রথমে আমি ঘোষণা দিলেও পরে বাতিল করেছিলাম। পরে যদিও আমার বাতিল চিঠিটা গৃহীত হয়নি টেকনিক্যাল কারণে। হয়তো আমি নির্বাচন করতে পারতাম। কিন্তু তখন আমার বিবেকে বাধে যে আমার কথায় ১৫০ জন নমিনেশন বাতিল করল। ফলে আমি আর করব না। তাই নির্বাচন করিনি। দলের প্রতি, সবার প্রতি আন্তরিক থেকেছি। তবে নির্বাচন বর্জন করার পক্ষে আমি ছিলাম না। মনে করেছিলাম, নির্বাচন বর্জন করে জাতীয় পার্টির কোনো লাভ হবে না। তবু যখন দলীয় শৃঙ্খলার ব্যাপার ছিল, আমি অমান্য করিনি। চেয়ারম্যানের কথা মেনে নিয়েছি।

 

কালের কণ্ঠ : এ কারণেই কি সরকারের বাইরে?

 

জি এম কাদের : দেখুন, আমি কখনো অমুক পদ চাই, এটা চাই—এমনভাবে বলিনি। ক্ষমতা পাওয়ার জন্য বেশি বেশি দেখানোও আমার স্বভাবে নেই।

 

কালের কণ্ঠ : ক্ষমতার লোভ ছিল না?

 

জি এম কাদের : ক্ষমতার লোভ বলব না, একটা দায়িত্ব নেব, মানুষের জন্য কাজ করব, এই ইচ্ছা তো সব সময় ছিল। মন্ত্রী থাকা অবস্থায় আমি যেসব কাজ করেছি, সেগুলোতে মানুষের ভোগান্তি কমেছে। মানুষ সেসব গ্রহণ করছে। ফলে আবারও মানুষের জন্য কাজ করার আকাঙ্ক্ষা ছিল। আর মন্ত্রী হলে মানুষ যেসব কাজ করে যেমন তারা তিন-চার পুরুষ ধরে বসে খেতে পারবে—এত অবৈধ রোজগার, এসবে আমার আকাঙ্ক্ষা ছিলও না, নেইও।

 

কালের কণ্ঠ : পরে তো আবার আপনাদের দলের চারজনকে নেওয়া হলো...

 

জি এম কাদের : সেটা একেবারে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ অনুযায়ী। তাঁর যাঁকে পছন্দ হয়েছে তাঁকে নিয়েছেন; যদিও আমি মনে করি, এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমি অবশ্য অতটা সংবিধান বুঝি না। কিন্তু যতটুকু বুঝি তাতে মনে করি, বিরোধী দলকে সংসদের এক সাইডে থাকতে হবে। বিপক্ষে থাকলে একদিকে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে এমনটাই আছে। ভাগ করে আমি একবার পক্ষে আর একবার বিপক্ষে গেলাম, এটা তো সংবিধানসম্মত না। টেকনিক্যাল সমস্যা হলো, যখন কোনো প্রস্তাবে আমি ‘না’ ভোট দেব তখন মন্ত্রিপরিষদের যেসব সদস্য আগেই মন্ত্রিপরিষদে প্রস্তাবটি পাস করে সংসদে এনেছেন, তাঁরা ‘না’ ভোট দিতে পারবেন না। কারণ তাঁরা মন্ত্রিসভায় আগেই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তখন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় তাঁদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।

 

কালের কণ্ঠ : তার পরও এ ব্যবস্থা টিকে আছে এবং আপনার পার্টি এটা নিয়ে সন্তুষ্ট আছে?

 

জি এম কাদের : টিকে আছে, টিকিয়ে রাখা হয়েছে বলে। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হতে হলে প্রেসিডিয়াম ও দলের চেয়ারম্যানের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম করা আছে।

 

কালের কণ্ঠ : তাহলে যাঁরা জাতীয় পার্টির মন্ত্রী তাঁদের চেয়ারম্যানের অনুমতি নেই?

 

জি এম কাদের : সেটা তাঁরা বলতে পারবেন, আছে কি না। 

 

কালের কণ্ঠ : আপনি দলের মধ্যে অনেকটা কোণঠাসা? এর কারণ কি আপনার জনপ্রিয়তা?

 

জি এম কাদের : অনেকটা কোণঠাসা, এটা তো ঠিকই। কিন্তু কী কারণ তা তো জানি না।

 

কালের কণ্ঠ : জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ জানতে চাই।

 

জি এম কাদের : জাতীয় পার্টির টিকে থাকার সম্ভাবনা আছে। একেবারে হয়তো এরশাদ সাহেবের ব্যক্তিগত ইমেজের কারণে যেটা টিকে আছে সেটা হয়তো আর থাকবে না; কিন্তু পার্টি থাকবে। সারা দেশে আমাদের সমর্থক আছে। কাজেই দলটিকে একটা ভালো রাজনীতি দিলে টিকে থাকবে।

 

কালের কণ্ঠ : ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টি কি এককভাবে নির্বাচন করবে, নাকি অন্য কারো সঙ্গে মিলে করবে?

 

জি এম কাদের : এটা বলার সময় এখনো আসেনি। আর এই সিদ্ধান্তটা চেয়ারম্যানই নেবেন।

 

কালের কণ্ঠ : জনগণের জন্য কিছু বলুন।

 

জি এম কাদের : আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আমার প্রত্যাশা হলো, আপনারা সৎ মানুষকে নির্বাচিত করবেন। জ্ঞানী, গুণী মানুষ যতই গরিব হোক, সততা তাঁর মধ্যে আছে। কাজেই সৎ মানুষকে নির্বাচন করবেন। আর টাকা-পয়সার দিকটা দেখবেন না। কারণ রাজনীতিবিদরা আপনাদের টাকাতেই অর্থবান হন। ফলে সেদিকে না দেখে সততা দেখুন। আপনাদের অর্থ যাতে আপনাদের কাজে ব্যবহার করা হয় তেমন সৎ ব্যক্তিকে নির্বাচন করুন।

 

কালের কণ্ঠ : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

 

জি এম কাদের : কালের কণ্ঠকেও অনেক ধন্যবাদ।


মন্তব্য