kalerkantho


এই সময়

ট্রাম্পের সফর ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আগামী রাজনীতি

তারেক শামসুর রেহমান

অন্যান্য   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পের সফর ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আগামী রাজনীতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ১২ দিনের এশিয়া সফর শেষ করেছেন। এই সফরে তিনি যেমন চীনে গিয়েছিলেন, ঠিক তেমনি ২১ সদস্যবিশিষ্ট অ্যাপেক বা এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন শীর্ষ সম্মেলনেও যোগ দেন।

এই সফরের মধ্য দিয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল যে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা আবারও প্রমাণিত হলো। চীন, জাপান, সেই সঙ্গে ভারত এ অঞ্চলে অবস্থিত। যদিও সফর তালিকায় ভারত অন্তর্ভুক্ত ছিল না, কিন্তু ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক সাম্প্রতিককালে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ অঞ্চলের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের যে স্ট্র্যাটেজি তাতে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ‘কৌশলগত অংশীদার’ হচ্ছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অর্থাৎ ভারতকে সরাসরি সম্পৃক্ত করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনে গিয়ে চীনের প্রশংসা করেছেন। চীন ও ভারত যখন দোকলাম নিয়ে এক ধরনের সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, তখন ট্রাম্পের চীনের প্রশংসা করা এবং চীনের সঙ্গে ২৫ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর মনে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র তার আগের, অর্থাৎ ‘প্রো-ভারত’ অবস্থান থেকে সরে গেছে! কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলে ভিন্ন কথা।

ভিয়েতনামে অ্যাপেক সম্মেলনে যোগ দিয়ে ট্রাম্প নরেন্দ্র মোদির কাজকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি চীনের সমালোচনা করেছেন। চীন সফর করেই তিনি ভিয়েতনাম গিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারত অর্থনৈতিক উন্নয়নে নজরকাড়া সাফল্য দেখিয়েছে। অন্যদিকে চীনের বাণিজ্যনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘ওই নীতির ফলে কাজ হারাচ্ছে মার্কিনরা। এভাবে চললে আমেরিকা অন্ধ হয়ে থাকবে না। ’ (আনন্দবাজার, ১০ নভেম্বর)। এর ব্যাখ্যা কী? চীনে গিয়ে তিনি চীনের প্রশংসা করলেও বাস্তব ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের যে স্ট্র্যাটেজি, তাতে ভারতের ভূমিকাকে তিনি অস্বীকার করতে পারেননি। চীনকে ‘ঘিরে ফেলার’ যে স্ট্র্যাটেজি, তাতে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এটি সত্য, যুক্তরাষ্ট্রের চীনের প্রয়োজন রয়েছে। ‘ব্যবসায়ী প্রেসিডেন্ট’ ট্রাম্পের চীনা নীতির পেছনে তাঁর ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি বড় ভূমিকা পালন করছে। চীনের কাছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র। আলাস্কা থেকে এই গ্যাস যাবে। এ ছাড়া তিন হাজার ৭০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে ৩০০টি বোয়িং বিমানও চীনের কাছে বিক্রি করা হবে। ফলে বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে চীনের তথাকথিত বাণিজ্যনীতি ট্রাম্পের কাছে গুরুত্ব পায়নি। অন্যদিকে ৬০০ মার্কিন কম্পানি বর্তমানে ভারতে ব্যবসা করছে। গত দুই বছরে ভারতে মার্কিন বিনিয়োগ ৫০০ শতাংশ হারে বেড়েছে। ২০১৬ সালে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১১৫ বিলিয়ন ডলার। এই পরিসংখ্যান ট্রাম্প অস্বীকার করেন কিভাবে? এর বাইরে রয়েছে ভারতের স্ট্র্যাটেজিক অবস্থান। চীন-ভারত দ্বন্দ্বকে যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সঙ্গে ভারতের দ্বন্দ্ব বাড়ছে। দোকলাম নিয়ে যে দ্বন্দ্ব, তার সাময়িক সমাধান হয়েছে বটে; কিন্তু উত্তেজনা রয়ে গেছে। চীন আবার সেখানে সড়ক নির্মাণ করছে। ভারতের অরুণাচল নিয়েও কিছুটা উত্তেজনা রয়েছে। ওই উত্তেজনা যেকোনো সময়ে সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে! কাশ্মীর নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্ভাব্য ‘হাতি বনাম ড্রাগন’ যুদ্ধে কেউই লাভবান হবে না। বিশ্ব আসরে প্রতীকী অর্থে ভারতকে তুলে ধরা হয় ‘হাতি’ হিসেবে। অর্থাৎ সিম্বলিক অর্থে ভারতকে হাতির সঙ্গে তুলনা করা হয়। আর চীনকে তুলনা করা হয় ড্রাগন হিসেবে। সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ভুটানের মধ্যবর্তী একটি ছোট্ট উপত্যকা দোকলাম নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছিল, এটি বিশ্লেষণ করতে গিয়েই বিশ্লেষকরা ‘হাতি বনাম ড্রাগন’-এর যুদ্ধের কথা বলেছিলেন। সেখানে এক ধরনের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ চলছে বটে; কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে কোনো পক্ষই যুদ্ধে যাবে না এবং ১৯৬২ সালের মতো একটি পরিস্থিতিও তৈরি করবে না। ১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধ হয়েছিল। আর তাতে ভারতের পরাজয় ঘটেছিল। নরেন্দ্র মোদি সরকার এ ধরনের একটি ঝুঁকি গ্রহণ করবে না। তবে ভারতের লোকসভায় যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যায় যুদ্ধবাজ কিছু সংসদ সদস্য চীনকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন। অর্থাৎ ‘যুদ্ধের’ পক্ষে বলছেন কেউ কেউ। পাকিস্তান নয়, বরং চীনই ভারতের এক নম্বর শত্রু—এমন কথাও বলছেন কোনো কোনো সিনিয়র রাজনীতিবিদ।

কয়েক মাস ধরে দোকলাম নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। সেখানে দুই দেশের সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। চীন ও ভুটানের মাঝখানে ৮৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট এই মালভূমিটি ভুটানের হলেও চীন এর মালিকানা দাবি করছে। সেখানে চীন এখন একটি সড়ক নির্মাণ করছে। আর তাতেই আপত্তি ভারতের। ভারত এই সড়ক নির্মাণকে তার নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসেবে দেখছে। যদিও দোকলাম নিয়ে চীন ও ভুটানের মধ্যে দ্বন্দ্ব, সেখানে ভারতের জড়িত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ভারত ও ভুটানের মধ্যকার ৭০ বছরের পুরনো মৈত্রী চুক্তি অনুযায়ী ভারত ‘আমন্ত্রিত’ হয়ে দোকলামে সেনা পাঠিয়েছিল। সংকট বাড়লে ভুটান ভারতকে তার সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার ‘অনুরোধ’ জানালেও ভারত তাতে কর্ণপাত করেনি। বরং দোকলাম মালভূমির ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভারত নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি গ্রাম থেকে সেখানে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিয়েছিল। সেখানে এখন ভারতীয় বাহিনী ছাউনি ফেলেছে। কৌশলগতভাবে দোকলাম ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখান থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে শিলিগুড়ি করিডর। ভারতের ভয়টা এখানেই। চীন যদি শিলিগুড়ি করিডরে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, তাহলে ভারতের সাত বোন রাজ্যের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তাই দোকলাম নিজের এলাকা না হওয়া সত্ত্বেও ভারত এখানে সেনা মোতায়েন করেছে। ফলে দোকলামের কর্তৃত্ব নিয়ে যদি চীন-ভারত যুদ্ধ বাধে, তাতে ‘সুবিধা’ নেবে তৃতীয় পক্ষ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র। আপাতদৃষ্টিতে সেখানে এক ধরনের ‘স্ট্যাটাস কো’ বজায় রয়েছে সত্য, কিন্তু চীন-ভারত দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা এটি বলার চেষ্টা করছেন যে ভারত মহাসাগরের ‘নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে এক ধরনের ‘সীমিত সংঘর্ষের’ জন্ম হতে পারে! চীনের যথেষ্ট স্বার্থ রয়েছে ভারত মহাসাগরে। চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নিয়ে ভারত আতঙ্কিত। চীনের ‘মুক্তার মালা’ নীতি ভারতের জন্য একটি চিন্তার কারণ। এমনকি এই ‘মুক্তার মালা’  নীতি, যেখানে চীন এ অঞ্চলের সমুদ্রবন্দরগুলো ‘কানেকটস’ করেছে, তা ভালো চোখে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্রও। স্ট্র্যাটেজিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারত মহাসাগর (ভারত মহাসাগরভুক্ত অঞ্চলে রয়েছে বিশ্বের তেলের রিজার্ভের ৬০ শতাংশ, আর বিশ্বের গ্যাস রিজার্ভের তিন ভাগের এক ভাগ) আগামী দিনে প্রত্যক্ষ করবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন রয়েছে ভারতের সাহায্য-সহযোগিতার। ভারতকে ‘কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে ঘোষণা করার পেছনে কাজ করছে এই স্ট্র্যাটেজি। আর এই স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবেই একটি ‘চার দেশীয় ঐক্য’ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চার দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে তিনটি দেশই প্যাসিফিক অঞ্চলভুক্ত। ভারত এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এর নতুন নামকরণ হয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক। চীনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত অ্যালায়েন্স গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রচেষ্টা।

চীনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যতই চীনের প্রশংসা করুন না কেন, বাস্তব ক্ষেত্রে চীনই তাঁর প্রতিপক্ষ। চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বড় অর্থনীতি। এই অর্থনীতি এখন যুক্তরাষ্ট্রকে, বিশ্ব অর্থনীতি, তথা রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে। তাই চীন-ভারত দ্বন্দ্বকে কাজে লাগাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। অনেক দিন থেকেই লক্ষ করা যাচ্ছিল যে চীনের  বিরুদ্ধে প্রক্সি বাহিনী হিসেবে ভারতকে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এটা যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো কৌশল। স্নায়ুযুদ্ধ চলার সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে ব্যবহার করেছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে। তখন ইউরোপের কর্তৃত্ব ও প্রভাববলয় বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম হয়েছিল। আজ একুশ শতকে এসে স্নায়ুযুদ্ধের নতুন এক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে এশিয়ায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের বদলে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট। আর চীনের বিরুদ্ধে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারতকে ব্যবহার করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই ভারতকে নিয়েই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের সঙ্গে ভারতের দ্বন্দ্বকে কাজে লাগাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ কর্মসূচির ব্যাপারে ভারতের আপত্তি রয়েছে। ভারত তাতে যোগ দেয়নি, যদিও বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বিরুদ্ধে ভারতকে ব্যবহার করতে চায়। অনেকের মনে থাকার কথা, কিছুদিন আগে ভারত দক্ষিণ চীন সাগরে চারটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছিল। ভারত ভিয়েতনাম নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দক্ষিণ চীন সাগরে গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাব্যতা নিয়ে গভীর কূপ খননে নিয়োজিত। চীন এই কাজকে ভালো চোখে দেখছে না। দোকলামের পর লাদাখে অতি সম্প্রতি ভারত ও চীনের দ্বন্দ্ব ও সম্ভাব্য একটি সংঘর্ষের খবর সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, আফগানিস্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে নয়া স্ট্র্যাটেজি, তাতে যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত সেখানে একটি বড় ভূমিকা পালন করুক। আফগানিস্তানে ভারতের ভূমিকা বাড়ছে। সেখানে ভারতের একটি বিমানঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ভারতীয় মহাসাগরে প্রভাববলয় বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ভারতের সঙ্গে চীনের এক ধরনের ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ চলছে। চীনের পাশাপাশি ভারত ও ভারত মহাসাগরভুক্ত কোনো কোনো দেশে তাদের নৌঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করছে। ফলে চীনকে ‘গিলে ফেলার’ যুক্তরাষ্ট্রের যে দীর্ঘ স্ট্র্যাটেজি তাতে ভারত অন্যতম অংশীদার হবে—এটাই স্বাভাবিক। তাই ট্রাম্প যখন এশিয়ায় দীর্ঘ সফরে এসেছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নিয়েও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল অনেকের।

ফলে ট্রাম্পের এশিয়া সফরের পর যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, তা হচ্ছে এই সফরে কী পেলেন ট্রাম্প? প্রথমত, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও প্রমাণিত হলো। এ অঞ্চলের গুরুত্ব বাড়ছে অন্য অঞ্চলগুলোর চেয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের গুরুত্বকে তার স্বার্থে নিতে চায়। দ্বিতীয়ত, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শুধু ব্যবসায়িক। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের ‘বাণিজ্যিকযুদ্ধ’-এর সম্ভাবনা বাড়ছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের প্রশংসা করার অর্থ হচ্ছে, চীনা জনমানসে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। উত্তর কোরিয়া প্রশ্নে তাঁর চীনা সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু চীনবিরোধী অ্যালায়েন্স গড়ে তোলার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র তার স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করেনি। তৃতীয়ত, ভারত এ অঞ্চলের উঠতি শক্তি। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ‘কৌশলগত সম্পর্ক’ আগামী দিনে এ অঞ্চলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চতুর্থত, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য না করলেও এখানে চীনের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এ অঞ্চলে টহল অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা। পঞ্চমত, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা রয়েই গেল।

লেখক : অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

tsrahmanog@gmail.com


মন্তব্য