kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ‘শাস্ত্রী’ উপাধিপ্রাপ্ত সংস্কৃত পণ্ডিত। তিনি এমএ ও আইন বিষয়ে পড়ার জন্য ভর্তি হয়েও পরে তা ছেড়ে দিয়ে হুগলির এক মাইনর স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। কিছুদিন ধর্মতলার খেলাতচন্দ্র মেমোরিয়াল স্কুলেও শিক্ষকতা করেছেন। এ ছাড়া ‘গোরক্ষিণী সভা’র ভ্রাম্যমাণ প্রচারক হিসেবে তিনি বাংলা, আসাম, ত্রিপুরা ও আরাকানের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন। ভাগলপুরের এক এস্টেটে সহকারী ম্যানেজার ছিলেন কিছুদিন। পরে গোপালনগর স্কুলে যোগ দেন এবং আমৃত্যু সেখানে কর্মরত ছিলেন।

১৯২১ সালে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ‘উপেক্ষিতা’ শিরোনামে গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু। ১৯২৫ সালে ‘পথের পাঁচালী’ লিখতে শুরু করেন। শেষ হয় ১৯২৮ সালে। তাঁর মেঘমল্লার, মৌরিফুল, যাত্রাবদল, চাঁদের পাহাড়, কিন্নরদল, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, স্মৃতির রেখা, হে অরণ্য কথা কও, ইছামতী, অশনিসংকেত প্রভৃতি রচনা আজও পাঠকদের অভিভূত করে। সত্যজিৎ রায় তাঁর ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের ভিত্তিতে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ছবিটি অসামান্য জনপ্রিয়তা পায়। তাঁর ‘অপরাজিত’ ও ‘অশনিসংকেত’ নিয়েও সত্যজিৎ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বিভূতিভূষণ সম্পাদনার কাজও করেছেন। তিনি ‘চিত্রলেখা’ নামে একটি সিনেমা পত্রিকা এবং হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে ‘দীপক’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৫১) লাভ করেন। ১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় বিভূতিভূষণ মৃত্যুবরণ করেন।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য