kalerkantho


সমাজ, এনজিও ও ‘কাদম্বিনী’ কথা

আবদুল বায়েস

অন্যান্য   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সমাজ, এনজিও ও ‘কাদম্বিনী’ কথা

কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করতে গিয়েছিলাম বরিশালে। অনেকটা রথ দেখা ও কলা বেচার মতো।

সফরের শেষ প্রান্তে এসে বৃহত্তর বরিশালের উন্নয়ন সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে একটি আলোচনাসভায় যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য হলো। কথায় আছে, আমি বলি কী আর আমার সারিন্দা বাজায় কী! বরিশালের উন্নয়ন সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে আলাপের জায়গা দখল করে নিল এনজিওর তাবৎ সমস্যা তথা ক্রান্তিকাল। আমরা অর্থাৎ ডা. মুহাম্মাদ মুসা, শফিকুল ইসলাম, আকরামুল ইসলাম, কে এ এম মোরশেদ ও মাজহারুল ইসলাম কিছুটা হকচকিত হলেও হতাশ হলাম না, কারণ এনজিও ঐতিহ্যগতভাবে এ দেশে উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার।  

দুই.

কান দিতেই আলোচনার ‘বিউগলে’ যেন করুণ সুর টের পেলাম; আনন্দের চেয়ে আর্তনাদের আহাজারি বেশি; সম্ভাবনার চেয়ে শক্তিশালী তাদের সমস্যা। শুধু বৃহত্তর বরিশালে নয়, সারা বাংলাদেশে নাকি এনজিওগুলোর এখন দারুণ দুর্দিন যাচ্ছে; মধ্য গগনের সূর্য এলিয়ে পড়েছে এবং রমরমা কর্মকাণ্ড থিতিয়ে পড়েছে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এনজিও এরই মধ্যে তাদের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে ফেলেছে এবং আরো কিছু প্রস্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বক্তাদের মতে, চলমান দুর্দিনের কারণগুলো হচ্ছে—ক. বৈদেশিক সাহায্য ও অনুদান কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি কাটছাঁট ও কর্মী ছাঁটাই; খ. স্থানীয় ও জাতীয় কর্তৃপক্ষের সংবেদনশীল ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব; গ. কিছু কিছু এনজিওর অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পুরো এনজিও খাতের ক্ষুণ্ন ভাবমূর্তি; ঘ. এনজিও রাজনীতিকীকরণ এবং ঙ. এনজিওগুলোর মধ্যে দলাদলি, বিভাজন। বুঝতে কষ্ট হলো না যে যারা শুধু সেবাভিত্তিক কর্মকাণ্ডে জড়িত সেসব এনজিও ‘লাইফ সাপোর্ট’ নিয়ে বেঁচে আছে মরার মতো আর ক্ষুদ্রঋণের সঙ্গে সম্পৃক্ত এনজিওগুলো পানির ওপর নাক ভাসিয়ে কোনোমতে টিকে আছে। তবে যে অবস্থায় থাক না কেন, এনজিও খাতের সার্বিক দুষ্কাল নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ আছে বলে মনে হলো না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই দুঃসময়ে ত্রাহি ত্রাহি ডাকের পরও পাশে দাঁড়ানোর মতো ‘কোথাও কেউ নেই’।

তিন.

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এনজিও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। আমার চিন্তার সঙ্গে অনেকের মিল না-ও থাকতে পারে। স্বাভাবিক কারণে তাই সংলাপ শেষে রুমে গিয়ে পোঁটলা গোছাতে গোছাতে এনজিওর দুর্দিন আমার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠল। সেই শুরু থেকে মূলত দুদিক থেকে এনজিও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কট্টর সমালোচনা শুনে আসছি। প্রথমে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য দিয়ে আক্রমণ শুরু। বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি মহাজনদের মতো শোষণমূলক, যা দরিদ্রকে আরো দরিদ্র করে রাখার জন্য মোক্ষম একটি অস্ত্র বৈ কিছু নয়। এনজিওর ঋণগ্রহীতারা আধুনিক ‘উপেন’, যারা ঋণ নিতে জমি বন্ধক দেয় না সত্যি, তবে নিশ্চিত যে তারা নিঃশেষিত হয়। এনজিওর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় তির্যক সমালোচনা সামাজিক আন্দোলন ঘিরে; যথা নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, মেয়েদের শিক্ষা, বাল্যবিবাহ রোধ ইত্যাদি। প্রথম সমালোচনায় আদাজল খেয়ে আকণ্ঠ নিমজ্জিত এ দেশের প্রগতিশীল ও প্রতিক্রিয়াশীল উভয় গোষ্ঠী আর দ্বিতীয় ‘জেহাদে’ জড়িত শুধু প্রতিক্রিয়াশীল। যাই হোক, ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, এস আর ওসমানী, শহিদ খন্দকার (প্রয়াত), মাহবুব হোসেন প্রমুখ প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ আয়বর্ধন ও দারিদ্র্য হ্রাসে ক্ষুদ্রঋণের ইতিবাচক প্রভাব পেয়েছেন যেমন, নেতিবাচক প্রভাব পেয়েছেন অনেক বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী। বলা বাহুল্য, নিষ্প্রতিভ আমি আপাতত কোনো ধরনের বিতর্ক উসকে দিতে চাই না।

চার.

কথায় আছে, অন্ধ হলেই প্রলয় বন্ধ হয় না; শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না। বাংলাদেশের এযাবৎকালের সামাজিক খাতের উন্নয়নে এনজিওর ভূমিকা নিয়ে যাঁরা প্রণিধানযোগ্য পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বাংলাদেশের মানব উন্নয়ন পথে যতটুকু অর্জন বা কৃতিত্ব, তা সনাতনি পদ্ধতির (যথা আয় মধ্যস্থতা অথবা সরকারি সাহায্যনির্ভরতা) সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। অর্থাৎ মাথাপিছু আয় বেড়েছে, এমনকি সরকারও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে, তার পরও তারা এককভাবে সামাজিক খাতের নির্দেশকে উন্নতি ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধল কে? অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ মনে করেন যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের জন্য প্রশংসাসূচক ‘উন্নয়ন ধাঁধা’ পরিচয় এনে দিয়েছে। তার একটি হচ্ছে, কম খরচে সমাধান (Low-cost solution) ও অন্যটি কার্যকর সামাজিক উদ্যোগ (Social mobilization)। প্রথমটি কম খরচে ডায়রিয়া ও কলেরার মতো মারণব্যাধি রোধে ওর‌্যাল স্যালাইন তৈরির কাজ, আর দ্বিতীয়টি সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যমান সমাজে ক্রমবর্ধিষ্ণু সচেতনতা সৃষ্টি। একদিকে এনজিওর উপস্থিতি ও অন্যদিকে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নবধারামূলক চিন্তা-চেতনাসমৃদ্ধ এসব কর্মসূচির অনুকরণীয় বিস্তারে (Scaling-up) সাহায্যকরত লাখ লাখ শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছে। বাংলাদেশে শিশুমৃত্যু হারের নিম্নমুখী প্রশংসনীয় প্রবণতার মূলে সেই ওর‌্যাল স্যালাইন ম্যাজিক। তা ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির দ্রুত বিস্তার ও মহিলাদের মধ্যে সামাজিক সংযোগ ও চলমানতাও এ ক্ষেত্রে অবদান রেখে থাকতে পারে। দারিদ্র্য নিরসনে ক্ষুদ্রঋণের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে অস্বীকার করার উপায় নেই যে এর বাইরে মহিলাদের দ্বারা সংগঠিত ঋণগোষ্ঠী কিছু অ-অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দেয় (যেমন—এনহেনসড এজেন্সি বা সম্প্রসারিত নিযুক্তক, ক্ষমতায়ন ও পারস্পরিক সাহায্য)। এমনি করে, অনেকটা নীরবে ও নিভৃতে, এমনকি দৃষ্টির অগোচরে এনজিও খাতের মাধ্যমে একটি সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা অন্যান্য উন্নয়ন হস্তক্ষেপ বাস্তবায়নের কাজ সহজতর করে তোলে।

পাঁচ.

এনজিও খাত নিখাদ হবে, এমন ভাবনা ঠিক নয় যেখানে পুরো সমাজ নিখাদ নয়। এই জগতে ভালো-মন্দ উভয় দিকই আছে। হয়তো অর্থনীতির বিখ্যাত গ্রেসামস ল এখানেও কাজ করে থাকতে পারে—‘খারাপ মুদ্রা ভালো মুদ্রাকে বাজারছাড়া করে’—অর্থাৎ খারাপ এনজিওর তোড়ে ভালো এনজিও ভেসে যায়। তবে মাথাব্যথার সঙ্গে রাগ করে যেমন মাথা কাটতে নেই, তেমনি হাতেগোনা কয়েকটি এনজিওর ‘অপকর্মের’ দায় সব এনজিওর ঘাড়ে ফেলা সুবিবেচনাপ্রসূত নয়। এমনতরো অবস্থায় দেশের ও দশের স্বার্থে সরকারের উচিত হবে একটি যৌক্তিক অবস্থানে উপস্থিত হওয়া। যেমনি করে একদা বিশ্বনন্দিত এনজিও ব্র্যাকের মাধ্যমে ওর‌্যাল স্যালাইন ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল এবং এখনো যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া দূরীকরণে ব্র্যাকের সঙ্গে কাজ চলছে, তেমনি করে এনজিওগুলোর সাহায্য নিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার আশু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মনে রাখা দরকার যে এখনো বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা প্রতিকূল পরিবেশে রয়েছে, যেখানে পারতপক্ষে কেউ সেবাপণ্য নিয়ে পা ফেলতে চায় না। বিশেষত, অবহেলিত, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে, যেখানে সরকারি, এমনকি এনজিওর উপস্থিতি খুব ক্ষীণ, সেসব দুর্গম এলাকায় সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে এনজিওকে কাজে সম্পৃক্ত করে সামাজিক কল্যাণ বৃদ্ধির প্রচুর অবকাশ রয়েছে। আর একটি কথা। যতই ঢাকঢোল পেটানো হোক না কেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও গ্রামবাংলায় মোট যত খানা আছে তার মধ্যে মাত্র অর্ধেক খানা ঋণ সুবিধার আওতায় রয়েছে। আবার যারা ঋণগ্রহীতা, তাদের এক-তৃতীয়াংশ এখনো মহাজন তথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ণিত ‘বাবু’দের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নেয় (মাসে ১০ শতাংশ)। মোট ঋণগ্রহীতার মাত্র ১০ শতাংশ ‘ভাগ্যবান’ ব্যাংক থেকে ঋণ পায়; অভাগা দরিদ্র ৬০ শতাংশ মাথা ঠোকে এনজিওর দুয়ারে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশ, অতিসম্প্রতি পর পর দুটি প্রলয়ঙ্করী বন্যায় মানুষ নগদ অর্থের জন্য সম্পদ বিক্রি করে চলেছে। কোথায় পাবে সে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় চলমান পুঁজি? ঈশ্বর যেমন ভদ্রপল্লীতে বাস করেন বলে বলা হয়, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর ঋণসুবিধাও তেমনি ভদ্রদের জন্য সুরক্ষিত। তথাকথিত ‘অভদ্র’ ও দরিদ্রদের জন্য এনজিওর দ্বার খোলা রাখলে আখেরে সরকার তথা সমাজই লাভবান হবে বলে বিশ্বাস। অন্য একটা কারণেও এনজিওর টিকে থাকা প্রয়োজন। উদীয়মান শিক্ষিত বেকারত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, জঙ্গি চেতনার বিস্তৃতি ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে এনজিওগুলোকে সম্পৃক্ত করে সরকার তার ইপ্সিত সামাজিক উন্নয়ন তথা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। গেল ৪৫ বছরের ‘অকল্পনীয়’ ইতিবাচক অর্জনের পেছনে সরকার যেমনি ছিল ‘নায়ক’, তেমনি এনজিও ছিল ‘পার্শ্বনায়ক’। ভবিষ্যতের দিনগুলোতে উদীয়মান নতুন নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ তথা ‘খলনায়ক’ মোকাবেলায় নায়ক ও পার্শ্বনায়কের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার বিকল্প আছে বলে আমরা মনে করি না।

ছয়.

এবার এনজিওগুলোর জন্য কিছু কথা বলা প্রয়োজন। দিন বদলায়, প্রেক্ষিত বদলায়। এনজিওর দুর্দিন-দুর্দিন বলে বিলাপ করে, দেয়ালে মাথা ঠুকে কোনো লাভ হবে না। বেশ কিছু এনজিওর বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি ও অত্যাচারের অভিযোগ আছে। এনজিও মালিকদের আয়েশি জীবন যাপন নিয়ে তির্যক মন্তব্যের কমতি নেই। এনজিওর নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করার অহর্নিশ অভিযোগ বাতাসে ভেসে বেড়ায়। সুতরাং এসব থেকে বেরিয়ে এসে এনজিও খাতকেও তার খোলনলচে বদলাতে হবে। ভবিষ্যতে এনজিও শুধু সাহায্যনির্ভর হলে চলবে না, নিজেও উপার্জন করতে হবে; নবধারামূলক চিন্তা-ভাবনা দিয়ে আয়ের উৎস খুঁজতে হবে। পরের ধনে পোদ্দারির দিন গত প্রায়; ভবিষ্যৎ এনজিওকে শুধু দেয় সেবার পরিমাণের দিকে তাকালে চলবে না, প্রতিটি সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। এই পরিবর্তন ও করণীয়গুলো মাথায় রেখে যারা অগ্রসর হতে অপারগ, তেমন এনজিওর বিদায় অত্যাসন্ন। তবে এনজিওগুলোকে যেমন বদলাতে হবে, তেমনি বদলাতে হবে সামাজিক ও সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি। বর্তমান বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, অশিক্ষা-কুশিক্ষা, জঙ্গিবাদ, পরিবেশ দূষণ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত একটি সমাজকে সর্বাত্মক সাহায্য করতে পারে একমাত্র এনজিও তথা সুধীসমাজ। সুতরাং দেশের স্বার্থেই আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এনজিওগুলোকে অর্থায়ন করে বাঁচিয়ে রাখা উচিত বলে আমরা মনে করি।

সাত.

ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে শত সমালোচনার জবাব দেওয়া এ নিবন্ধের লক্ষ্য ছিল না। বলতে চাই, বাংলাদেশের সামাজিক খাতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে, বিশেষত শিশু ও মাতৃমৃত্যু, সাক্ষরতা, সামাজিক সচেতনতা, মহিলাদের ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি তথা ‘উন্নয়ন ধাঁধা’ শিরোপা লাভে সরকারের পাশাপাশি এনজিওগুলোর ভূমিকা অস্বীকার করা সুবিবেচনার কাজ নয়। বস্তুত এটি বাংলাদেশের জন্য গর্বের কথা যে সামাজিক উন্নয়নে নবধারামূলক সরকার-এনজিও মডেল পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। জিডিপিতে এনজিওর অবদান ৫-৬ শতাংশ, প্রায় প্রতিটি গ্রাম আজ এনজিওসেবার আওতায় এসে গেছে, দেশের ও সমাজের স্বার্থে এমন এক পরিস্থিতিতে এনজিওগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় সামাজিক খাতে বিরাট বিপর্যয় ঘটতে পারে। তখন হয়তো বুক চাপড়ে সবাই এনজিওকে স্মরণ করবে। রবীন্দ্রনাথের কাদম্বিনী ‘মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই’ আর বাংলাদেশের এনজিও বেঁচে থেকেও জানান দিচ্ছে সে বেঁচে নেই। এটাই দুঃখজনক সংবাদ।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়


মন্তব্য