kalerkantho


ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে দেখতে চাই

এ কে এম আতিকুর রহমান

৩০ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে দেখতে চাই

এবারের একুশে বইমেলায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী একজন বাংলাদেশির সঙ্গে পরিচয় হয়। কথা প্রসঙ্গে তিনি ঢাকা শহরের, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়, যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা আর সেসব থেকে উৎসারিত দুর্গন্ধের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করতে ভুল করলেন না।

প্রসঙ্গের ইতি টানতে গিয়ে আমাকে ঢাকা শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সংবাদপত্রে কিছু লেখার অনুরোধ জানালেন। আমি তাঁকে কথা দিলেও কার্যকর করতে একটু বিলম্বই ঘটে গেল।

ছোটবেলায় গুরুজনরা, বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষকরা সব সময়ই আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে বলতেন। আমরাও তাঁদের আদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খ পালন করতে সচেষ্ট থাকতাম। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে মনে করা হতো ইমানের অংশ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য তেমন একটা পয়সা খরচ হয় না। দরকার মাত্র ইচ্ছাশক্তির, সুন্দর থাকার মানসিকতার। শুধু নিজের বই-খাতা, পড়ার টেবিল-চেয়ার, পোশাক-পরিচ্ছদ বা বিছানাপত্র পরিচ্ছন্ন রাখাই নয়, প্রাথমিক ও হাই স্কুলের ছাত্র থাকাকালে আমাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ আর স্কুলের মাঠ পরিষ্কার রাখতে হতো। পরিচ্ছন্নতা শরীরকে রোগ-বালাইয়ের হাত থেকে যেমন রক্ষা করে, তেমনি রোগ ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করে।

আসলে সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা একান্ত অপরিহার্য। আর এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বলতে শুধু নিজের পরিধেয় কাপড়চোপড়, বিছানাপত্র বা ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখার কথা বোঝায় না, পারিপার্শ্বিক সব কিছুকে পরিচ্ছন্ন রাখার কথা বোঝায়। একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু শরীরকেই ভালো রাখে না, মনকেও ভালো রাখে।   

১৯৬৯ সালে কলেজে ভর্তি হয়ে ঢাকা শহরে সেই যে আসি, এখন চাকরি থেকে অবসর নিয়েও সেখানেই অবস্থান করছি। এই দীর্ঘ সময়ে ঢাকা শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার তেমন কোনো উন্নতি ঘটেছে কি না সন্দেহ। যা দেখে যাচ্ছি, তাতে এ কথাই বলতে হয় যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অপরিচ্ছন্নতাই যেন পাল্লা দিয়ে পুরো শহরটিকে গ্রাস করে ফেলেছে। তবে এ কথা ঠিক, প্রতিনিয়ত যে হারে ঢাকা শহরের আয়তন ও লোকসংখ্যা বাড়ছে সেদিক লক্ষ রেখে শহরটিকে পরিষ্কার রাখা খুব একটা সহজ কাজ নয়। সত্যিটা হলো, সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু এ কথাও ঠিক, পৃথিবীতে অসম্ভব বলতে কিছু নেই। সঠিক নেতৃত্ব, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকলে অনেক কঠিন কাজই সহজ হয়ে যায়।  

ঢাকা শহরটি পৃথিবীর আর দশটি রাজধানী শহরের মতো নয়। এর গুরুত্ব রাজধানী শহরের চেয়েও অনেক বেশি। এই শহরের আনাচকানাচে ও পার্শ্ববর্তী এলাকাজুড়ে রয়েছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও একুশে ফেব্রুয়ারিসহ অনেক ইতিহাসের স্মৃতি। সেসবের সাক্ষী হিসেবে ঢাকা শহর অবশ্যই অহংকার আর গৌরবের অধিকারী। কিন্তু সেই শহরটিকে যখন দুর্গন্ধ আর বহুবিধ দূষণে নিমজ্জিত দেখতে পাই তখন কষ্ট লাগাটা কি স্বাভাবিক নয়? অথচ কত চোখ ধাঁধানো নান্দনিক দালানকোঠায় প্রতিনিয়ত ভরে দেওয়া হচ্ছে আমাদের প্রিয় শহর ঢাকাকে। তাতে সৌন্দর্যবর্ধন হওয়ার কথা থাকলেও অপরিচ্ছন্নতা ও অব্যবস্থাপনার বেড়াজালে পড়ে সব কিছু কেমন যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে।    

জানি বর্তমান সরকার ও ঢাকা শহরের দুই অকুতোভয় যোদ্ধা (উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়রদ্বয়) ঢাকাকে তিলোত্তমা শহরে রূপান্তর করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার জন্য এরই মধ্যে তাঁরা অনেক ভালো পদক্ষেপও গ্রহণ করেছেন, যা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে  হেঁটে চলার পথগুলোকে দখলমুক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। পানি নিষ্কাশন সিস্টেমকে আরো উন্নত করার জন্য পুরনো স্থাপনা ভেঙে নতুন লাইন পুনঃস্থাপন করে চলেছেন। অনেক দখলকৃত রাস্তাঘাট মুক্ত করে যান চলাচলের উপযুক্ত করে তুলেছেন। কিন্তু কী যেন কোথা দিয়ে ঘটে যাচ্ছে, আশানুরূপ ফলটি আসছে না। নানা দিক থেকে নানা ঝামেলা এসে প্যাঁচ লাগিয়ে দিচ্ছে। আন্তরিকতারও হয়তো অভাব নেই। এর পরও কেন যেন এগোচ্ছে না। গোলমেলে হয়ে নানা যন্ত্রণার সৃষ্টি করছে। পরিষ্কার বা সুন্দর শহরের যে ছবিটি চোখের সামনে টাঙিয়ে রেখেছি, সেটি কেমন যেন ঘোলাটে দেখাচ্ছে। তবে সেটি আমার চোখের ভুল কি না, তা অন্যরা অবশ্যই বলতে পারবে।

আমরা অর্থাৎ এই শহরে বসবাসরত সুনাগরিক নামের মানুষরা কি ঢাকা শহরকে সৌন্দর্যময় করার জন্য আমাদের করণীয়টি করছি? নিজেদের ঘরবাড়ি, বাড়ির সামনের সড়ক, কর্মস্থল ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে আমদের যে ভূমিকা তা কি আমরা যথাযথ পালন করছি? পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী বা প্রতিবেশী পরিজনদের কি আমরা পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে উপদেশ দিই বা সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করি? নিজেকে সচেতন করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যদেরও সচেতন করার ব্যাপারে আমাদের যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। শুধু সরকার আর নগরপিতাদের নয়, এ ব্যাপারে আমাদের প্রত্যেকের কিছু না কিছু করণীয়  রয়েছে। এ জন্য নগরবাসীদের সচেতনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জরুরিও বটে। সত্য কথাটি হলো, আমাদের অবহেলা আর উদাসীনতা চলতে থাকলে সরকার বা মেয়রদের নেওয়া কোনো প্রচেষ্টাই সহজে সফল হবে না।

ঢাকা শহরকে সবচেয়ে অপরিচ্ছন্ন করেছে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত খোলা ডাস্টবিন। শহরের অনেক স্থানেই পাকা ডাস্টবিন রয়েছে। আবার কোথাও রয়েছে ধাতব তৈরি ডাস্টবিন। তবে এগুলোর ঠাঁই একমাত্র ফুটপাত এবং সড়কের ওপর ছাড়া আর কোথাও হয় না। ওগুলোর আশ্রয় দেওয়ার মতো কোনো জায়গাই যেন কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। ওই সব খোলা ডাস্টবিনে রাখা বর্জ্য থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধ যেমন পথচারীদের অসহনীয় যন্ত্রণা দেয়, তেমনি যানজটেরও সৃষ্টি করে। অথচ সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা যায়। বর্তমান বিশ্বে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত। অনেক দেশই এই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ঢাকা শহরের সর্বত্র প্রতিদিন জমা হচ্ছে বিশাল পরিমাণের বর্জ্য। সাধারণত সিটি করপোরেশন ওই বর্জ্য সংগ্রহ করার কাজটি করে থাকে। কিন্তু বেসরকারি খাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হলে সরকারের যেমন আর্থিক সাশ্রয় হবে, তেমনি তারা এ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ অন্য কোনো কিছু তৈরি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা আমাদের একটি চিরন্তন অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন চলার পথে সিগারেট খেয়ে শেষ অংশটি, বাদাম খেয়ে কাগজের ঠোঙাটি, কলা খেয়ে সেটির খোসা সড়কের ওপরই ফেলে দিই। ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’র মতো যার যেখানে ইচ্ছা সেখানেই ময়লা ফেলি, হোক তা ঘরবাড়ির আঙিনা, হাটবাজার, পার্ক বা রাস্তাঘাট। এগুলো করে আমরা পুরো ঢাকা শহরটিকেই একটি মেগাডাস্টবিনে পরিণত করে ফেলেছি। আমরা কি তবে জাতি হিসেবে এতটাই অপরিচ্ছন্ন? যদি তা না হয়, তাহলে এসব আমরা কোথা থেকে শিখলাম? আমাদের সংস্কৃতির কি এ ব্যাপারে কোনো ভূমিকা রয়েছে? আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য কী বলে? না হলে আমরা কী করে এত অপরিচ্ছন্ন থাকতে পারি? আমরা কি যেখানে-সেখানে এই ময়লা-আবর্জনা ফেলাটা বন্ধ করতে পারি না? এই যে শিক্ষার হার হু হু করে বাড়ছে, কই তার প্রতিফলন তো কিছু দেখছি না? শিক্ষার্থীদের সচেতন করার লক্ষ্যে স্কুল-কলেজে কি এ বিষয়ে কোনোভাবেই কিছু একটা করা যায় না? করতে পারলে একটি প্রশংসনীয় কাজ হতো বলে মনে হয়।

এখনো এই ঢাকা শহরে দিনদুপুরে হাজার মানুষের ভিড়ে সড়কের পাশে মানুষকে প্রস্রাব করতে দেখা যায়। প্রস্রাবের গন্ধে সেখান দিয়ে হেঁটে যেতেও কষ্ট হয়। ঢাকা শহরের কয়েকটি স্থানে পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা আছে এবং অনেক স্থানে নির্মাণ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ কথা সত্য যে ঢাকা শহরের লোকসংখ্যার অনুপাতে টয়লেটের সংখ্যা খুবই কম। আর এ জন্যই কি বাধ্য হয়ে লজ্জাশরমের মাথা খেয়ে জনসমক্ষে এভাবে সড়কের পাশে ওই কাজটি করতে হয়, নাকি এটি আমাদের চরিত্রের একটি দিক, অভ্যাসের প্রতিফলন? ব্যক্তিগতভাবে আমি এ ঘটনা কিছুতেই মানতে পারি না। আসলে শিক্ষার বা সচেতনতার অভাবেই বোধ হয় ওই লোকগুলো লজ্জাশরমের ধার ধারছে না। আশপাশের অনেকের লজ্জা করলেও যেই ব্যক্তিরা ওই কাজটি করে থাকে তাদের কিছুই যায়-আসে না। বিদেশিরা যখন এসব নিয়ে হাসাহাসি করে, তাদের দিকে তাকাতে পারি না। এর ফলে অবশ্যই আমাদের দেশের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন হয়। শহরটিকে অপরিচ্ছন্ন করার এই সহজ পদ্ধতিটিকে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। পাবলিক প্লেসে ধূমপান করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলে জনসমক্ষে এই প্রস্রাব করার জন্য কি শাস্তির বিধান করা যায় না?

ঢাকা শহরের ব্যস্ততম এলাকায় এমন কোনো সড়ক নেই, যার ফুটপাতের ওপর দোকানপাট বসে না। দোকানপাট থাকার কারণে ওই সব এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে নানা রকমের আবর্জনা। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্বটি বোধ হয় কেউ নিতে চায় না। আমার বিশ্বাস, ওই সব এলাকায় যাতায়াতকারী ব্যক্তি মাত্রই এ কথার সত্যতা স্বীকার করবে। ভাসমান এই দোকানপাট সড়কে পথচারীদের চলাফেরাকেই বিঘ্নিত করে না, সড়কের পাশে অবস্থিত সুন্দর সুন্দর দালানকোঠার সৌন্দর্যও নষ্ট করে। আশার কথা, ইদানীং কিছু সড়ক থেকে দোকানপাট উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। হয়তো কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরো গুরুত্ব দেবে।

পানি নিষ্কাশনের জন্য বিদ্যমান ড্রেনেজ সিস্টেম পরিবর্তন করার কাজকর্ম চলছে বেশ তোড়জোড় করেই গত বছর থেকে। অনেক সড়কেই কাজটি শেষ হয়েছে, কোথাও আবার কাজ চলছে। মাসের পর মাস চলে যায়, কাজ আর শেষ হয় না। শীতের সময় শেষ হলে ভালো কথা। তা না হলে বর্ষায় বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলোকে খাল বানিয়ে ফেলে। এ ছাড়া বৃষ্টির পানি সরে যাওয়ার মতো যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে ঢাকা শহরের অনেক নামিদামি ব্যস্ত সড়কও খালে পরিণত হয়। তবে জমা হওয়া ওই পানি একটি ভালো কাজ করে থাকে, সেটি হলো শহরের সব ময়লা-আবর্জনা নিজের বুকে তুলে নেয়। প্রতিবছরই ওই নোংরা পানি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কত ময়লা-আবর্জনা আমরা যেখানে-সেখানে ফেলি, যা ওই পানিতে ভেসে বেড়ায়। এর পরও কি আমরা এ ব্যাপারে সামান্যতম দায়ভার নিয়ে ঢাকা শহরটিকে পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্যোগী হতে পারি না? 

এ শহরজুড়েই অগণিত বস্তি গড়ে উঠেছে। মূলত সরকারের অব্যবহৃত জমিতেই ওই সব বস্তি গড়ে ওঠে। তবে ব্যক্তিমালিকানার জমিতেও যে বস্তির মতোই ঘরবাড়ি গড়ে ওঠে না তেমন নয়। যেভাবেই বস্তি গড়ে উঠুক, সব বস্তির পরিস্থিতি বলতে গেলে একই। সাধারণত ছিন্নমূল বা স্বল্প আয়ের মানুষগুলোই বস্তির বাসিন্দা হয়ে থাকে। সরকারি জমির বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন করতে হবে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর এলাকায়। আর ব্যক্তিমালিকানার বস্তি বন্ধ করে দিতে হবে বা পরিচ্ছন্ন পরিবেশের শর্ত মানার সাপেক্ষে কম ভাড়ার ঘর তৈরি করার অনুমতি দেওয়া যায়। তবে ঢাকা শহরে যাতে কোনো বস্তি গড়ে উঠতে না পারে সেদিকে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে।

ঢাকা শহরে দেয়ালে লিখন বা পোস্টার লাগানো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে বড় সড়কগুলোর পাশের দেয়ালে। যে উদ্দেশ্যে দেয়ালগুলোতে অর্থ ব্যয় করে রং করা হলো, তা আর থাকল না। এ ছাড়া পোস্টার ছিঁড়ে গিয়ে বা কেউ ছিঁড়ে সড়কের ওপরই ফেলে। এ ধরনের কাজ শুধু সৌন্দর্যই নষ্ট করে না, পরিবেশকে অপরিচ্ছন্ন করে তোলে। দেয়ালে লিখন আর পোস্টার লাগানো বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। প্রয়োজনে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জরিমানার ব্যবস্থা করা যায়।

ঢাকা শহরে যেসব জলাশয়, ঝিল, খাল ও নদী রয়েছে সেগুলো দখল ও দূষণমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এগুলোকে শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে উপযুক্ত করে তোলার পদক্ষেপ নিতে হবে। হাতিরঝিল যেমন শহরের সৌন্দর্যবর্ধন করেছে, তেমনি আশপাশের এলাকার যাতায়াতব্যবস্থাও সহজ করেছে। কিন্তু ঝিলের পানির দুর্গন্ধ দূর করার বিষয়টি এড়িয়ে গেলে এমন সুন্দর ঝিলটিকে সর্বাঙ্গ সুন্দর করার প্রশ্নটি রয়েই যাবে। আমার বিশ্বাস, কর্তৃপক্ষের নিশ্চয়ই এ ধরনের কোনো উদ্দেশ্য নেই। অন্যদিকে বুড়িগঙ্গার ব্যাপারেও আমাদের ভাবতে হবে। এ নদীর পানিকে পানি বলা কতটুকু যুক্তিসংগত হয় জানি না। তবে তা যেন পানি হয়ে ওঠে সে ব্যবস্থাই নিতে হবে। তা ছাড়া নদীর দুই তীর দখলমুক্ত করে সড়ক করে দিলে যেমন ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, তেমনি যোগাযোগব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটবে।

আমার এ কয়েকটি কথা বলার একটাই উদ্দেশ্য, একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে ঢাকাকে দেখতে চাই। বিশ্ববাসীর কাছেও ঢাকা হয়ে উঠুক একটি পরিচ্ছন্ন রাজধানী শহর। আসুন, আমরা সবাই ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে ওপরের এ কয়টি বিষয়েই না হয় একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে যাই।  

 

লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব


মন্তব্য