kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

২০ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

কমল দাশগুপ্ত

কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক কমল দাশগুপ্ত ১৯১২ সালের ২৮ জুলাই নড়াইল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা তারাপ্রসন্ন দাশগুপ্ত ছিলেন উচ্চাঙ্গসংগীতের অনুরাগী। কমল দাশগুপ্তের শিক্ষাজীবন শুরু কলকাতায়। ১৯২৮ সালে তিনি ক্যালকাটা একাডেমি থেকে ম্যাট্রিক এবং পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে বিকম পাস করেন। মীরার ভজনে সুরের প্রয়োগ বিষয়ে গবেষণা করে তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৩ সালে ‘ডক্টরেট অব মিউজিক’ ডিগ্রি লাভ করেন। কমল দাশগুপ্তের সংগীতে হাতেখড়ি ভাই বিমল দাশগুপ্তের কাছে। পরে দিলীপ কুমার রায়, কানা কেষ্ট, ওস্তাদ জমিরুদ্দিন খাঁ প্রমুখের কাছে তিনি সংগীত শেখেন। তিনি আধুনিক বাংলা, উর্দু, হিন্দি, ঠুমরি ও চলচ্চিত্রে সংগীতে কণ্ঠদান ও সুরারোপ করেন। সুরের রাজ্যে কমল দাশগুপ্ত ছিলেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি। রাগ ও ঠুমরি ছিল তাঁর সুর রচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এর সঙ্গে বাংলা গানের নানা ধারাকে তিনি ভেঙে-গড়ে মিশিয়ে দিয়েছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের সুরকার হিসেবেও কমল দাশগুপ্ত খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি প্রায় ৮০টি ছায়াছবিতে সংগীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। আমেরিকার ‘ওয়ার প্রপাগান্ডা’ ছবির নেপথ্য সংগীতেও তিনি কাজ করেন। কমল দাশগুপ্ত নজরুলের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য লাভ করেন এবং প্রায় ৪০০ নজরুলসংগীতে সুরারোপ তাঁর শিল্পীজীবনের এক বিরাট কৃতিত্ব। তাঁর সুরারোপিত গানের সংখ্যা প্রায় আট হাজার। সংগীতের ক্ষেত্রে তাঁর মৌলিক অবদান ‘স্বরলিপির শর্টহ্যান্ড পদ্ধতি’র উদ্ভাবন এবং আকারমাত্রিক পদ্ধতি ও স্টাফ নোটেশন পদ্ধতির স্বরলিপি স্থাপন। ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে গ্রামোফোন ডিস্কে তাঁর সুরে গাওয়া বহু গান অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। সেসবের মধ্যে ‘সাঁঝের তারকা আমি’, ‘আমি ভোরের যূথিকা’ প্রভৃতি গান আজও জনপ্রিয়। ১৯৭৪ সালের ২০ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]



মন্তব্য