kalerkantho

26th march banner

ব্যক্তিত্ব

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

বিসমিল্লাহ খান

ভারতের উচ্চাঙ্গসংগীতজগতের কীর্তিমান পুরুষ ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের জন্ম ১৯১৬ সালের ২১ মার্চ। সানাইকে উচ্চাঙ্গসংগীত বাদনের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে এই অমর শিল্পী উচ্চাঙ্গসংগীতজগতে ওস্তাদ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পীদের মধ্যে তিনি তৃতীয়, যাঁরা ভারতরত্ন পদক পেয়েছেন। তিনি ছিলেন অল্পসংখ্যক গুণীর মধ্যে একজন, যিনি ভারতের চারটি সর্বোচ্চ বেসামরিক পদকে সম্মানিত হয়েছেন। তাঁর বাবা পয়গম্বর খান ও মা মিঠান খান।

সানাইকে উচ্চাঙ্গসংগীতজগতে যন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একক কৃতিত্ব ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের। ১৯৩৭ সালে কলকাতায় অল ইন্ডিয়া মিউজিক কনফারেন্সে সানাই বাজিয়ে একে ভারতীয় সংগীতের মূলমঞ্চে নিয়ে আসেন। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি দিল্লির লাল কেল্লায় অনুষ্ঠিত ভারতের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে বিসমিল্লাহ খান  তাঁর অন্তরের মাধুরী ঢেলে রাগ কাফি বাজিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন সারা ভারতবর্ষকে।

ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের উচ্চাঙ্গসংগীতজগতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীতজ্ঞ হিসেবে অমর হয়ে থাকবেন। ব্যক্তিসত্তা হিসেবে তিনি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। তিনি যেসব পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তার মধ্যে আছে ভারতরত্ন পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ, পদ্মশ্রী, সংগীত নাটক একাডেমি পুরস্কার, তানসেন পুরস্কার, মধ্য প্রদেশ সরকার প্রদত্ত তালার মৌসিকী। সংগীত নাটক একাডেমির ফেলো বিসমিল্লাহ খান সম্মানসূচক ডক্টরেট পেয়েছেন বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

সানাইয়ের এই দিকপাল ২০০৬ সালের ২১ আগস্ট বারানসির হেরিটেজ হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে ভারত সরকার এক দিনব্যাপী জাতীয় শোক পালন করে।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য