kalerkantho


‘তখন থেকেই জয় উঁকি দিচ্ছিল’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘তখন থেকেই জয় উঁকি দিচ্ছিল’

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক সদস্য ক্রিকেটার মেহরাব হোসেন অপি বলেছেন, ‘শততম টেস্ট ম্যাচে প্রথম থেকেই জয় উঁকি দিচ্ছিল। আমরা শুরু থেকেই আশাবাদী ছিলাম। আমরা ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাই। বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর সময়ও আনন্দ হয়েছিল। এবার শততম টেস্ট বিজয় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটা নিশ্চয় আমাদের দেশপ্রেমিক দর্শকরা মনে রাখবে। ’ তিনি বলেন, ‘সব খেলোয়াড় মনোযোগ দিয়ে খেলেছেন। সবাই একসঙ্গে ভালো করার চেষ্টা করেছেন। এটা আমাদের দলের জন্য একটি ভালো দিক। সেকেন্ড ইনিংসে আমরা যদিও কয়েকটি উইকেট হারিয়েছি। তার পরও প্রথম ইনিংসে আমরা অনেক ভালো করেছি।

’ রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল  আইয়ের সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো ইউনিভার্সেল আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক মীর মাসরুরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাবেক ক্রিকেটার মেহরাব হোসেন অপি সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, ‘আজ বাংলাদেশ শততম টেস্টে বিজয় ছিনিয়ে আনল। পুরো জাতি আমরা আনন্দে ভাসছি। আমাদের কাছে এটা অনেক বড় অর্জন। আপনি বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ক্রিকেট দলের সদস্য। আজকের এই আনন্দে আপনার অনুভূতি কেমন জানতে চাই। কিভাবে এ বিষয়কে বিশ্লেষণ করবেন?’

জবাবে মেহরাব হোসেন বলেন, ‘প্রথমেই আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানাই। তারা আবারও বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাসে বিশাল ও মনে রাখার মতো সম্মানসূচক বিজয় এনে দিয়েছে। তারা ভবিষ্যতে নিশ্চয় আরো ভালো করবে। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা যদি একটি খেলার দিকে ফিরে যাই, তাহলে দেখব, স্বপ্নের আবির মেখেই কাল শুরু হয়েছিল কলম্বো টেস্টের শেষ দিন। হাতছানি ছিল অনেক কিছু পাওয়ার। শততম টেস্টে স্বপ্নের জয়, সাদা পোশাকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম জয়, দেশের বাইরে বিরল জয়, ১-১-এ সিরিজ ড্র। লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথের ৩৯তম জন্মদিনটা বিষাদময় করে সব সমীকরণই মিলিয়ে ফেলল বাংলাদেশ। ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই হেরাথের জোড়া আঘাতে ঈশান কোণে জমেছিল সিঁদুরে মেঘ। কিন্তু তামিম ইকবালের রোদেলা ব্যাটিংয়ে মধ্যাহ্ন বিরতির পর কেটে যায় তা। উজ্জ্বল সূর্যের নিচে ঔজ্জ্বল্য ছড়ান সাকিবরা। তৃতীয় উইকেটে সাব্বির রহমানের সঙ্গে ১০৯ রানের অনবদ্য জুটিতে দলকে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে দেন তামিম। পথের শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারেননি তিনি দলকে, এই যা তাঁর দুঃখ। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে থামলেন ৮২ রানে। তামিমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাব্বিরও (৪১)। পেরেরার জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফিরেছিল শ্রীলঙ্কা। চার উইকেটে ১৫৬ রানে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। শেষ সেশনে দরকার আরো ৩৫ রান। দলীয় ১৬২ রানে সাকিবকে নিজের তৃতীয় শিকার বানিয়ে রোমাঞ্চ আরো জমিয়ে দেন পেরেরা। সাকিব যখন আউট হন, বাংলাদেশের তখন আরো ২৯ রান দরকার। কিন্তু তীরে এসে তরী ডুবতে দেননি মুশফিকুর (২২)। আম্পায়ার এস রাভি লেগ বিফোর দিয়েছিলেন মুশফিককে। রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। পরের ওভারে মোসাদ্দেকের ফিরতি ক্যাচ নিতে পারেননি হেরাথ। মোসাদ্দেক ও মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে বাকি পথটুকু পাড়ি দেন মুশফিক যোগ্য অধিনায়কের মতো। ইতিহাসে অমর হয়ে গেলেন বাংলাদেশের শততম টেস্টজয়ী অধিনায়ক মুশফিক। তাঁকে আমরা নিশ্চয়ই মনে রাখব। এই প্রথম দেখলাম লেন্থ লাইন মেনে বোলাররা বল করেছেন আর ব্যাটসম্যানদের রানের গড়ও ছিল ভালো। ’

আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, ‘আমরা বরাবরই দেখেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলায় আগ্রহ জোগান। রবিবার বিজয়ের পরপরই ক্রিকেটারদের টেলিফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?’

জবাবে মেহরাব হোসেন অপু বলেন, “এটা আমাদের জন্য গৌরবের যে আমাদের দেশের প্রধান নির্বাহী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় আমাদের পাশে থেকেছেন। আজও তিনি টেলিফোনে খেলোয়াড়দের বলেছেন, ‘তোমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছ, জয় বাংলা। ’

বাংলাদেশের শততম টেস্ট জয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের সব খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানান তিনি। এটা আমাদের জন্য একটি বড় পাওয়া যে প্রধানমন্ত্রী শত ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেছেন। ”


মন্তব্য