kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো | ধারাবাহিক

আল্লাহ তাআলা খুঁটি ছাড়াই বিশাল আকাশ সৃষ্টি করেছেন

২০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আল্লাহ তাআলা খুঁটি ছাড়াই বিশাল আকাশ সৃষ্টি করেছেন

২. আল্লাহই ঊর্ধ্বদেশে স্তম্ভ ছাড়া আকাশমণ্ডলী স্থাপন করেছেন, যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মাধীন করেছেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত আবর্তন করে। তিনি সব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নিদর্শনগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ বিষয়ে নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পারো। [সুরা : রাদ, আয়াত : ২ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে মহান আল্লাহর মাহাত্ম্য ও সৃষ্টিজগতে তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে আকাশমণ্ডলীর কথা, মহাশূন্যে ভাসমান অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের কথা। এগুলো আবর্তিত হয় নির্দিষ্ট কক্ষপথে। কোথাও কোনো অনিয়ম নেই, দুর্ঘটনা নেই। এ নিয়ে ভাবলে মনে হয়, অদৃশ্য স্তম্ভের ওপর ভর করে এসব গ্রহ-উপগ্রহ অদৃশ্য পথে আবর্তিত হচ্ছে। আসলে এসব সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতার নিদর্শন। আল্লাহ ছাড়া কারো পক্ষে সৃষ্টিজগতে এ ধরনের শৃঙ্খলা বিধান করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি বিষয়টি এমন নয় যে তিনি বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করে তা উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দিয়েছেন, বরং সব সৃষ্টিই তাঁর নিয়ন্ত্রণের অধীনে রয়েছে। তাঁর নির্ধারিত সীমারেখার বাইরে যাওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। সব সৃষ্টবস্তু গতিশীল ও চলমান। আর এই গতি ও চেতনার সঞ্চালক হলেন মহান আল্লাহ।

এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, তা হলো এ জগেক অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি। আল্লাহ বিশেষ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। আর এই উদ্দেশ্য হচ্ছে এ জগতের অবসানের পর আখিরাতের অনন্ত অসীম জীবনের সূচনা করা। গোটা সৃষ্টিজগৎ সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে।

মহান আল্লাহ এ বিশ্বকে ক্রমে ক্রমে সৃষ্টি করেছেন। এটাই আল্লাহর সৃষ্টির নিয়ম। প্রকৃতির দিকে দৃষ্টি দিলে একই নিয়ম দেখা যায়। জগতের সব কিছুই ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গতার দিকে এগিয়ে যায়। আল্লাহ ইচ্ছা করলে গোটা সৃষ্টিজগৎ এক মুহূর্তে সৃষ্টি করতে পারতেন; কিন্তু তা না করে তিনি পৃথিবীকে ধাপে ধাপে সৃষ্টি করেছেন। এতে মানুষকে ধীরতা ও স্থিরতা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ শনিবারে মাটি সৃষ্টি করেছেন। রবিবারে পাহাড় সৃষ্টি করেছেন। সোমবারে বৃক্ষলতা সৃষ্টি করেছেন। মঙ্গলবারে অপছন্দনীয় ও খারাপ বস্তু সৃষ্টি করেছেন। বুধবারে আলো সৃষ্টি করেছেন। বৃহস্পতিবারে বিচরণশীল সব প্রাণী সৃষ্টি করেছেন। আর জুমার দিন আসরের পর (শেষ সময়ে) আদমকে সৃষ্টি করেছেন।’ (মুসলিম শরিফ : হাদিস : ২৭৮৯)

এই বিশ্বজগৎ বিশেষ পরিকল্পনায় সৃষ্টি করা হয়েছে। এটা কোনো দুর্ঘটনার ফল নয়। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে বিশ্বসংসারকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলাই এ বিশ্ব চরাচরের স্রষ্টা। আসমান ও জমিনের ভেতর যা কিছু আছে, এসব তিনিই সৃষ্টি করেছেন। তিনি চন্দ্র ও সূর্য সৃষ্টি করেছেন। রাত ও দিনের পালা নির্ধারণ করেছেন। সুন্দর তারকারাজি দিয়ে রাতের আকাশকে সাজিয়েছেন। বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় নিয়ামতরাজি দিয়ে পৃথিবীকে ভরে দিয়েছেন। এসব তাঁর অস্তিত্বের নিদর্শন।

এ পৃথিবী সৃষ্টির পর আল্লাহ তাআলা মহান আরশে সমাসীন হয়েছেন। আরশ আল্লাহর সর্ববৃহৎ সৃষ্টি, যা আসমান ও জমিনের ছাদের মতো। সেটি বিশ্বজাহানকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। তাঁর আরশে সমাসীন হওয়ার ধরন ও পদ্ধতি মানুষের জ্ঞানের ঊর্ধ্বে।

আরশে পাকে সমাসীন হয়ে মহান আল্লাহ এ পৃথিবীর সব কাজ পরিচালনা করেন। বিশ্বকে সৃষ্টি করার পর তিনি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাননি, বরং নিজের সৃষ্ট বিশ্বজাহানের শাসন কর্তৃত্বের আসনে তিনি সমাসীন হয়েছেন। এ সৃষ্টিজগতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল এতটুকুই নয় যে তিনি একসময় একে সৃজন করেছেন; বরং বিশ্বচরাচর সর্বক্ষণ তাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য