kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

কোরআনের প্রতিটি কথা সত্য

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কোরআনের প্রতিটি কথা সত্য

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

১. আলিফ-লাম-মীম-রা। এগুলো কোরআনের আয়াত।

যা তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, তা-ই সত্য। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ এতে বিশ্বাস স্থাপন করে না। (সুরা : রাদ, আয়াত : ১)

তাফসির : এখান থেকে সুরা রাদ শুরু হচ্ছে। সুরা রাদ পবিত্র মক্কা নগরীতে অবতীর্ণ হয়েছে। এ সুরায় মোট ৪৩টি আয়াত আছে। এ সুরায় পবিত্র কোরআনের সত্যতা, আল্লাহর একত্ববাদ, নবীদের নবুয়ত এবং সৃষ্টিজগতের রহস্য ও প্রকৃতিতে বেঁধে দেওয়া নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

এ সুরার নাম রাদ। রাদ অর্থ মেঘের গর্জন। আলোচ্য সুরায় এ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে।

তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে রাদ।

এ সুরা তিনটি অক্ষর—আলিফ-লাম-রা দিয়ে শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআনের পরিভাষায় এগুলোকে বলা হয় হুরুফে মুকাত্তাআত বা বিচ্ছিন্ন হরফসমূহ। পবিত্র কোরআনের ১১৪ সুরার মধ্যে ২৯টি সুরার শুরুতে এ ধরনের হরফ ব্যবহৃত হয়েছে। কোরআনের যেসব রহস্য উন্মোচন করা মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি, এ হরফগুলো তারই অন্তর্ভুক্ত। তাত্পর্যমণ্ডিত এ হরফগুলোর মর্ম মহান আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

সাংকেতিক এসব শব্দের মাধ্যমে আল্লাহ হয়তো বলতে চেয়েছেন, এ কোরআন চিরন্তন আসমানি কিতাব। তা আরবি বর্ণমালায় লিখিত হয়েছে। যদি তোমরা সক্ষম হও, তাহলে তোমরা আরবি বর্ণমালা ব্যবহার করে কোরআনের অনুরূপ একটি গ্রন্থ রচনা করে দেখাও।

আলোচ্য আয়াতের মূলকথা হলো, কোরআনের আয়াত বা বাক্যগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকেই মহানবী (সা.) লাভ করেছেন। নবী করিম (সা.)-এর ওপর তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। মহানবী (সা.) নিজে এ কিতাব রচনা করেননি। এর প্রতিটি কথা ও বক্তব্য সম্পূর্ণ সত্য। ওহির মাধ্যমে এ কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর।

এক শ্রেণির মানুষ মনে করে, বিশ্ব স্রষ্টার পক্ষ থেকে মানুষের কাছে ওহি আসা অসম্ভব! তারা মনে করে, মর্ত্যের মানুষের পক্ষে আসমানি প্রত্যাদেশ পাওয়া অতীব বিস্ময়কর! যুগে যুগে নবীদের ব্যাপারে অবিশ্বাসীরা এ সন্দেহ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে। মহানবী (সা.)-এর ব্যাপারেও আরবের কাফিররা বিস্ময় প্রকাশ করেছিল। আরবদের এমন বিস্ময়ের কারণ হলো আল্লাহর প্রজ্ঞাপূর্ণ ও জ্ঞানগর্ভ বাণী রাসুল (সা.)-এর মুখ থেকে নিঃসৃত হয়। এ বাণীর ক্ষমতা অতুলনীয়। এ বাণী মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে মুক্তির পথ দেখায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মহানবী (সা.)-এর মতো একজন লোকের মুখ থেকে কিভাবে এরূপ জ্ঞানগর্ভ বাণী নিঃসরিত হতে পারে, যিনি দুনিয়ার কারো কাছে জ্ঞান লাভ করেননি! এ বিষয়ে অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমার [মুহাম্মদ (সা.)] আগেও জনপদবাসীদের মধ্য থেকে মানুষকে পাঠিয়েছিলাম, যাদের কাছে ওহি প্রেরণ করতাম। ’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০৯)

তাই মুহাম্মদ (সা.) মানুষের দলভুক্ত হয়ে নবী হওয়ার মধ্যে আপত্তি থাকার কারণ নেই। বরং এটাই যুক্তিযুক্ত যে মানুষের নবী মানুষই হবেন, ফেরেশতা হবেন না। কেননা মানুষের আবেগ-অনুভূতি বোঝার জন্য, তাদের শক্তি-সাধ্য-সক্ষমতা অনুধাবনের জন্য মানুষেরই কেউ নবী হওয়া উচিত। মানুষের যে চাহিদা, তাদের যে মানবীয় দুর্বলতা, ফেরেশতারা কিছুতেই তা উপলব্ধি করতে পারবে না। ফেরেশতারা পাপ করতে জানে না। আল্লাহর অবাধ্য কোনো কাজ করতে জানে না। আর মানুষ, সে তো পাপ সাগরেই ডুবে থাকে। আবার হেদায়েত লাভ করে সে সঠিক পথেও আসতে পারে। তাই মানবীয় অনুভূতিসম্পন্ন ব্যক্তিই মানুষকে হেদায়েতের পথ দেখাতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘বলে দাও, ফেরেশতারা যদি নিশ্চিত হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করত, তবে আমি অবশ্যই তাদের (মানুষের) কাছে ফেরেশতা পাঠাতাম। ’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ৯৫)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য