kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

জামাল নজরুল ইসলাম

জামাল নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বিশ্বতত্ত্ববিদ ও অর্থনীতিবিদ। বিশেষভাবে খ্যাত মহাবিশ্বের উদ্ভব ও পরিণতি বিষয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য।

১৯৩৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহে বাবার কর্মস্থলে জন্ম। বাবা তখন এই শহরের মুন্সেফ (বর্তমানে সহকারী জজের সমতুল্য)। বাবার বদলি সূত্রে ওপার বাংলায় গিয়ে জামাল নজরুল কলকাতার মডেল স্কুল ও শিশু বিদ্যাপীঠে প্রাথমিক শিক্ষা নেন। পরে আবার চট্টগ্রামে এসে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় বিশেষ কৃতিত্ব রেখে ‘ডাবল প্রমোশন’ পান এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। নবম শ্রেণি পর্যন্ত এ স্কুলেই পড়েছেন। নবম শ্রেণিতে ওঠার পর পশ্চিম পাকিস্তানে যেতে হলে সেখানে ভর্তি হন লরেন্স কলেজে এবং সিনিয়র কেমব্রিজ ও হায়ার সিনিয়র কেমব্রিজ পাস করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিএসসি অনার্স করে কেমব্রিজে যান এবং প্রায়োগিক গণিত ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান থেকে আবারও স্নাতক ডিগ্রি এবং পরে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। এরপর এখান থেকে এসসিডি (ডক্টর অব সায়েন্স) ডিগ্রিও অর্জন করেন। এরপর তিনি ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরাল ফেলো ছিলেন। এরপর কেমব্রিজ ইনস্টিটিউট অব থিওরেটিক্যাল অ্যাস্ট্রোনমিতে গবেষণা করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, লন্ডনের কিংস কলেজ এবং মনে সিটি ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর অনেক গবেষণা নিবন্ধ বিখ্যাত সব বিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৮৩ সালে  কেমব্রিজ তাঁর গবেষণাগ্রন্থ ‘দ্য আল্টিমেট ফেইট অব দ্য ইউনিভার্স’ প্রকাশ করলে বিশ্বের কসমোলজিস্টদের মধ্যে হৈচৈ পড়ে যায়। বইটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়। পরের বছর কেমব্রিজ থেকেই প্রকাশিত হয় ‘ক্লাসিক্যাল জেনারেল রিলেটিভিটি’। তাঁর গবেষণা আইনস্টাইন-পরবর্তী মহাবিশ্ব গবেষণায় বিরাট অবদান রেখেছে। তিনি এ ধারার গবেষণা থেকেই পরে লেখেন ‘ফার ফিউচার অব দ্য ইউনিভার্স’ বা মহাবিশ্বের দূরবর্তী ভবিষ্যৎ। ১৯৮৪ সালেই তিনি বিদেশের সব আকর্ষণ ঠেলে দেশে চলে আসেন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে যোগ দেন তিন হাজার টাকা বেতনে। চট্টগ্রামের রিসার্চ সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্স (আরসিএমপিএস) তাঁর প্রতিষ্ঠিত। ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ ওই মহান বিজ্ঞানী আমাদের ছেড়ে গেছেন।

 

সূত্র : উইকিপিডিয়া


মন্তব্য