kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়ার আগে সুযোগ দেওয়া হয়

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়ার আগে সুযোগ দেওয়া হয়

১১০. (সত্য ধর্ম প্রচারের কাজ অব্যাহত ছিল) একপর্যায়ে রাসুলরা যখন (মানুষের হেদায়েতের ব্যাপারে) নিরাশ হয়ে গেল এবং মানুষ ভাবল, (শাস্তির ব্যাপারে) রাসুলদের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য এলো।

এভাবে আমি যাকে ইচ্ছা করি, সে উদ্ধার পায়। অপরাধী সম্প্রদায়ের ওপর থেকে আমার শাস্তি রদ করা যায় না। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১১০)

তাফসির : আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতিকে সঠিক পথপ্রদর্শনের উদ্দেশ্যে যুগে যুগে নবী ও রাসুল প্রেরণ করেছেন। কিন্তু দেখা গেছে, বহু মানুষ তাঁদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এমনকি তারা নবী-রাসুলদের মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেছে। আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষের প্রতিক্রিয়া যা-ই হোক না কেন, নবী-রাসুলরা সত্য প্রচারের কাজে অনড় ও অবিচল ছিলেন। তাঁরা কখনোই অর্পিত দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে কুণ্ঠাবোধ করতেন না।

অবিশ্বাসী কাফিররা নবী-রাসুলদের বিদ্রূপ করে বলত, যদি তাদের কথা সত্যি হতো, তাহলে এত দিনে আসমানি আজাব নেমে আসত। আর আমরা সেই আজাবে পুরোপুরি নাস্তানাবুদ হয়ে যেতাম।

যখন অবিশ্বাসীদের ঔদ্ধত্য এত দূর গড়াত তখনই নবী ও তাঁর অনুসারীদের জন্য আসমানি সাহায্য নেমে আসত। যেমন—হজরত নুহ (আ.) প্রায় হাজার বছর সত্যের বাণী প্রচার করেছেন; কিন্তু দেখা গেল, খুব অল্পসংখ্যক মানুষ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিল। তাই একসময় আসমানি আজাব নেমে আসে। মহাপ্লাবন তাদের গ্রাস করে। ফলে মুষ্টিমেয় বিশ্বাসী ছাড়া সবাই ধ্বংস হয়েছিল।

এই আয়াত থেকে আমরা জানতে পারি, পাপের শাস্তি শুধু পরকালের জন্যই নির্ধারিত নয়। ইহজগতেও পাপের শাস্তি ভোগ করতে হতে পারে। আল্লাহ অনেক সময় পাপাচারীকে অনুশোচিত হয়ে সত্যের দিকে ফিরে আসার সুযোগ দেন। ফলে ইহকালের আজাব কখনো কখনো বিলম্বিত হয়।

শিরক ও কুফরের কারণে পাপী ও অবিশ্বাসীদের ওপর চরম শাস্তি অবতীর্ণ হওয়ার কথা। অব্যাহত অবাধ্যতা, পাপাচার, অনাচারের কারণে তাদের ওপর আল্লাহর আজাব অবতীর্ণ হওয়ার কথা। কিন্তু দয়ালু আল্লাহর নীতি হলো দুনিয়ায় তিনি সহসাই কাউকে পাকড়াও করেন না। পাপাচারের সঙ্গে সঙ্গে কাউকে গ্রেপ্তার করেন না। তিনি অপরাধীদের অবকাশ দেন। সৎ পথে আসার সুযোগ দেন। তার পরও যারা নিজেদের শুধরে নেয় না, হেদায়েতের পথে ফিরে আসে না, তিনি তাদের অত্যন্ত কঠিনভাবে পাকড়াও করেন। তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়াও অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে যায়। এটাই আল্লাহর নীতি। এটাই চিরন্তন সত্য। আবার এই অবকাশ এ জন্যও হতে পারে, যাতে অপরাধীদের অপরাধ নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছে যায়। ইরশাদ হয়েছে : ‘কাফিররা যেন কিছুতেই মনে না করে যে আমি অবকাশ দিই তাদের মঙ্গলের জন্য; আমি তাদের অবকাশ দিই যাতে তাদের পাপ বৃদ্ধি পায়। তাদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তি রয়েছে। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৭৮)

যুগে যুগে আল্লাহ জালিমদের পাকড়াও করেছেন। তারা নিজেদের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ভেবেছিল, ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিল, জুলুম করেছিল। বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহ তাদের কথা দৃষ্টান্তস্বরূপ বর্ণনা করেছেন, যাতে পরবর্তীরা তা থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ জালিমকে অবকাশ দেন, তারপর যখন পাকড়াও করেন তখন আর কোনো ছাড় দেন না। ’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ২৫৮৩)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য