kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

নবীরা ভিনগ্রহের কেউ নন

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নবীরা ভিনগ্রহের কেউ নন

১০৯. (হে মুহাম্মদ) তোমার আগেও আমি জনপদবাসীদের মধ্য থেকে মানুষকেই পাঠিয়েছিলাম, যাদের কাছে অহি প্রেরণ করেছিলাম। তারা (অবিশ্বাসীরা) কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি এবং তাদের আগের লোকদের কী পরিণাম হয়েছিল, তা কি তারা দেখেনি?

যারা খোদাভীরু তাদের জন্য পরকালের আবাস শ্রেয়।

তোমরা কি বোঝো না? (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০৯)

তাফসির : অবিশ্বাসীরা রাসুল (সা.)-এর ব্যাপারে যেসব আপত্তি করেছিল তার অন্যতম হলো, আল্লাহ যদি রাসুল পাঠাতেই চান, তাহলে রাসুল হিসেবে তিনি ফেরেশতাদের মধ্য থেকে কাউকে মনোনীত করতে পারতেন। আলোচ্য আয়াতে কাফিরদের এই ভ্রান্ত মানসিকতার জবাবে বলা হয়েছে, তারা কি তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শোনেনি যে অতীতের সব নবীই ছিলেন মানুষ। নবীরা ভিনগ্রহের কেউ নন। আকাশ থেকে কোনো ফেরেশতা নবী হিসেবে কখনো আসেননি। আকাশ থেকে ফেরেশতা নেমে এলেও তারা ঈমান আনবে না।

আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদগণ লিখেছেন, আল্লাহ তাআলা কেবল পুরুষদেরই নবী হিসেবে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। কোনো নারীকে নবী হিসেবে মনোনীত করা হয়নি। বেশির ভাগ ওলামায়ে কেরাম এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) লিখেছেন, কারো কারো মতে, হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর স্ত্রী সারাহ, মুসা (আ.)-এর মাতা এবং ঈসা (আ.)-এর মাতা মারিয়াম বিনতে ইমরান নবুওতপ্রাপ্ত ছিলেন।

প্রমাণ হিসেবে তাঁরা বলেন, হজরত সারাহ (আ.)-কে ফেরেশতারা সুসংবাদ দিয়েছিলেন, ইসহাক (আ.)-এর পর ইয়াকুব (আ.) জন্মগ্রহণ করবেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তার স্ত্রী [ইব্রাহিম (আ.)-এর স্ত্রী ‘সারা’ কাছেই] দাঁড়িয়ে ছিল। সে হেসে ফেলল। তারপর আমি তাকে ইসহাক ও ইসহাকের পরে ইয়াকুবের (জন্মের) সুখবর দিলাম। সে বলল, কী আশ্চর্য! আমি সন্তানের জননী হব, অথচ আমি বৃদ্ধা আর আমার স্বামীও বৃদ্ধ! এটা অবশ্যই ভারি আশ্চর্যের ব্যাপার। তারা [ফেরেশতারা ইবরাহিম (আ.)-এর স্ত্রীকে] বলল, আল্লাহর কাজে তুমি কি বিস্ময় বোধ করছ? (অথচ) হে নবীর পরিবার! তোমাদের প্রতি রয়েছে আল্লাহর অনুগ্রহ ও কল্যাণ। নিশ্চয় আল্লাহ প্রশংসিত, মহিমাময়। ’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৭১-৭৩)

হজরত মুসা (আ.)-এর মায়ের কাছেও ‘অহি’ নাজিল হয়েছিল। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি মুসার মায়ের কাছে অহি পাঠিয়েছিলাম, তুমি তাকে দুধ পান করাও। ’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭)

এখানে স্পষ্ট করে ‘অহি’ শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে।

হজরত মারিয়াম (আ.)-এর কাছে জিবরাঈল (আ.) হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্মগ্রহণ করার সুসংবাদ দিয়েছিলেন। কোরআন শরিফে তা উল্লেখ করে বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, যখন ফেরেশতারা বলেছিল, হে মারিয়াম, আল্লাহ তোমাকে মনোনীত ও পবিত্র করেছেন। বিশ্বের সব নারীর ওপর তোমার মর্যাদা উন্নীত করেছেন। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৪২)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এরপর লিখেছেন, এই সীমিত পরিসরে ‘অহি’ অবতীর্ণ হওয়া নারীদের নবী হওয়ার প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়। তা ছাড়া ‘অহি’ বলতে এখানে বিশেষ নির্দেশনাও বোঝানো হতে পারে।

তিনি আরো লিখেছেন, নবী হওয়া বলতে যদি বিশেষ মর্যাদা বোঝানো হয়, তাহলে অনেক নারীই বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নারীরা নবী হতে না পারলেও সিদ্দিকা তথা সৎ ও সত্যবাদী হতে পারেন। অনেক নারী ‘সিদ্দিকা’ ছিলেন। কোরআন শরিফে এসেছে—‘ঈসা কেবল আল্লাহর রাসুল ছিল। তার আগেও অসংখ্য রাসুল অতিবাহিত হয়েছে। তার মা সিদ্দিকা ছিল। তারা উভয়ে পানাহার করত। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৭৫)

আলোচ্য আয়াতে স্পষ্ট ভাষায় হজরত মারিয়াম (আ.)-কে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে। তিনি নবী বা রাসুল হয়ে থাকলে অবশ্যই তা উল্লেখ করা হতো। কিন্তু পবিত্র কোরআনে তা উল্লেখ করা হয়নি।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য