kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

কার্ল মার্ক্স

প্রভাবশালী সমাজবিজ্ঞানী ও মার্ক্সবাদের প্রবক্তা কার্ল মার্ক্স। তিনি জীবিত অবস্থায় তেমন পরিচিত না হলেও মৃত্যুর পর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। বিংশ শতাব্দীতে সমগ্র মানবসভ্যতা মার্ক্সের তত্ত্ব দ্বারা প্রবলভাবে আলোড়িত হয়। তাঁর পুরো নাম কার্ল হাইনরিশ মার্ক্স। তিনি প্রুশিয়া সাম্রাজ্যের রাইন প্রদেশের ট্রিয়ারে এক ইহুদি পরিবারে ১৮১৮ সালের ৫ মে জন্মগ্রহণ করেন। ১৩ বছর পর্যন্ত বাড়িতে পড়াশোনা করে তিনি ট্রিয়ার জিমনেশিয়ামে ভর্তি হন। ১৭ বছর বয়সে সেখান থেকে স্নাতক করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব বনে আইনশাস্ত্রে ভর্তি হন। তাঁর ইচ্ছা ছিল সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে পড়ার। কিন্তু বাবার ইচ্ছায় বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

১৮৪৩ সালে তিনি প্যারিসে যান।

১৮৪৪ সালে জার্মান পত্রিকায় ‘লিগ অব দ্য জাস্ট’ নামের একটি প্রবন্ধ লেখেন। এর মধ্যে ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের সঙ্গে মার্ক্সের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পুঁজিবাদী সমাজে বিচ্ছিন্ন কর্মজীবী শ্রেণির বিপরীতে সাম্যবাদী সমাজের দর্শন নিয়ে লেখেন ‘ইকোনমিক অ্যান্ড ফিলোসফিক্যাল মেনুস্ক্রিপ্ট অব ১৮৪৪’ বইটি। এরপর একে একে লেখেন ‘দ্য জার্মান আইডিওলজি’, ‘দ্য পোভার্টি অব ফিলোসফি’ ইত্যাদি। ১৮৪৭ সালে মার্ক্স ও এঙ্গেলস কমিউনিস্ট লীগে যোগ দেন এবং যৌথভাবে রচিত হয় বিখ্যাত ‘দ্য কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’। ১৮৪৯ সালে মার্ক্স দেশত্যাগে বাধ্য হন এবং লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৮৫৭ সালে ৮০০ পৃষ্ঠার একটি পাণ্ডুলিপির কাজ শেষ করেন। এতে মূলধন, ভূমি-সম্পত্তি, মজুরি শ্রম, রাষ্ট্র, বৈদেশিক বাণিজ্য, বিশ্ববাজার প্রভৃতি বিষয় স্থান পায়। বইটির নাম ‘রাজনৈতিক অর্থনীতির সমালোচনার সাধারণ পরিচিতি’। সংক্ষিপ্ত নাম ছিল গ্রুনডিস। ১৮৫৯ সালে প্রকাশ করেন ‘কন্ট্রিবিউশন টু দ্য ক্রিটিক অব পলিটিক্যাল ইকোনমি’। ১৮৬৭ সালে মার্ক্সের অন্যতম বই ‘ডাস ক্যাপিটাল’-এর প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়, পরের খণ্ডগুলো যথাক্রমে ১৮৮৫ (দ্বিতীয়) ও ১৮৯৪ (তৃতীয়) সালে প্রকাশিত হয়। ১৮৮৩ সালের ১৪ মার্চ কার্ল মার্ক্স মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সমাধিফলকে কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর শেষ লাইন ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও এবং এত দিন দার্শনিকরা শুধু বিশ্বকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যাই করে গেছেন; কিন্তু আসল কাজ হলো তা পরিবর্তন করা’—দুটি বাক্য লেখা আছে।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য