kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো | ধারাবাহিক

মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকাই নবী-রাসুলদের কাজ

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকাই নবী-রাসুলদের কাজ

১০৮. বলে দাও, এটাই আমার পথ—আমি মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করি পূর্ণ জ্ঞান ও প্রমাণসহ। আমার অনুসারীরাও (এভাবেই মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করে)। আল্লাহ মহিমান্বিত। আর যারা আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০৮)

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে মানুষকে সত্যের দিকে আহ্বানের পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, ঈমান ও বিশ্বাস হতে হবে পূর্ণ জ্ঞান ও অকাট্য প্রমাণনির্ভর। প্রথমে আল্লাহকে চিনতে হবে বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে। জ্ঞান ও বিবেকের সাহায্যে আল্লাহর অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে হবে। এরপর পূর্ণ ঈমান ও বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে এটাই ছিল নবী করিম (সা.)-এর পদ্ধতি। আর বিশ্বাসের শিথিলতা কিংবা শিরক ঈমানের দুর্বলতার পরিচায়ক।

তাই ইসলাম প্রচারকের দায়িত্ব হলো, প্রথমে নিজেকে শিরক থেকে মুক্ত করা। পরে অন্যকে এ ব্যাপারে সতর্ক করা।

এই আয়াতে মহান আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তুমি বলো, আমি পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও প্রমাণসহ তোমাদের আল্লাহর পথে আহ্বান করছি। আমার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ মহান দায়িত্ব পালনে আমি ও আমার অনুসারীরা দৃঢ়, অটল ও আপসহীন থাকব। ’

এই আলোচনার মাধ্যমে বোঝা যায়, মহানবী (সা.)-এর দাওয়াতি কার্যক্রম নিছক কোনো চিন্তাধারা নয়, বরং তা পরিপূর্ণ জ্ঞান, পর্যাপ্ত বুদ্ধিমত্তা ও পরিণত প্রজ্ঞার ফল। দাওয়াতি এ কার্যক্রমের বৈশিষ্ট্যে তাঁর বিশেষ অনুসারী সাহাবায়ে কেরামও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘এখানে অনুসারী বলে সাহাবায়ে কেরামকে বোঝানো হয়েছে। তাঁরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর জ্ঞানের ধারক-বাহক। ’ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘সাহাবায়ে কেরাম এ উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তিবর্গ। তাঁদের অন্তর পবিত্র ও তাঁদের জ্ঞান সুগভীর। তাঁদের মধ্যে লৌকিকতার নাম-গন্ধও নেই। আল্লাহ তাআলা তাঁদের মহানবী (সা.)-এর সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছেন। তোমরা তাঁদের চরিত্র, অভ্যাস ও পদাঙ্ক অনুসরণ করো। কেননা তাঁরা সরল-সঠিক পথের পথিক। ’

সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যুগে যুগে নবী ও রাসুলরা এই উদ্দেশ্যেই প্রেরিত হয়েছেন। এ কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলা হলে দ্বীনের খুঁটি নড়বড়ে হয়ে যাবে। মহাবিপর্যয় ঘটবে। পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহি ছড়িয়ে পড়বে। মূর্খতার বিপ্লব ঘটবে। ফেতনা-ফ্যাসাদ ব্যাপক আকার ধারণ করবে। নির্বুদ্ধিতা ও অনৈক্য দেখা দেবে। শহর-বন্দর বিরান হয়ে যাবে। মানবজাতির ধ্বংস সাধিত হবে। যখন সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার কার্যক্রম পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে তখন মানুষের অন্তরে চাটুকারিতা ও তোষামোদ করার প্রবণতা প্রবল হবে। তাই সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই আয়াতের মাধ্যমে রাসুলে করিম (সা.) আরো ঘোষণা দিয়েছেন, আমি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ও ছোট-বড় সব ধরনের শিরক কর্ম থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, আমার দাওয়াতের উদ্দেশ্য মানুষকে নিজের দাসে পরিণত করা নয়, বরং আমি নিজেও আল্লাহর দাস। মানুষকেও কেবল আল্লাহর দাসত্ব স্বীকার করতে হবে। কেননা তিনিই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা, মালিক ও প্রতিপালক। তাই উপাসনা করতে হলে একমাত্র তাঁরই উপাসনা করতে হবে। সৃষ্ট বস্তুর উপাসনা করা শিরক। আল্লাহ শিরক থেকে পবিত্র।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য