kalerkantho


‘জঙ্গিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা দরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘জঙ্গিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা দরকার’

দেশের বিভিন্ন স্থানে আটক জঙ্গিদের মামলাগুলো বছরের পর বছর না চালিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিচারের পাশাপাশি তাদের মধ্যে যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায় তাদের চিহ্নিত করে সমাজে ফিরিয়ে আনারও ব্যবস্থা থাকতে হবে।

না হলে তারা কোনোভাবে জেলমুক্তি পেলে আবারও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়বে। ’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এই প্রথম আন্তর্জাতিক পুলিশ সম্মেলন। সেই সম্মেলনেও আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সমন্বিত সিদ্ধান্ত হতে পারে। এটি হলে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। ’ রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো ‘চব্বিশ ঘণ্টা’য় আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সায়রা তাবাসসুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. জিয়া রহমান ও সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, ঢাকায় শুরু হয়েছে ১৪ দেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলন। ইন্টারপোল ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে শুরু হওয়া সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বক্তারা কমন কাউন্টার ডাটা বেইস গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। সম্মেলন উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সম্মেলনে জঙ্গিবাদ দমন, মানবপাচার, সন্ত্রাসী অর্থায়ন, মাদকদ্রব্য পাচার রোধ, অবৈধ অস্ত্র, চোরাচালান প্রতিরোধ, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা স্থান পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ সম্মেলন বাংলাদেশে প্রথম, এটা নিয়ে কী বলবেন?

জবাবে অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, ‘সম্মেলনে হয়তো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেই সবাই ঐক্যবদ্ধ হবেন। তবে আমরা যেটা বলতে পারি, আমাদের সামাজিকভাবে এ প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘জঙ্গিদের মোকাবেলা ভালোভাবে করতে হবে, যাতে কোনো জঙ্গি আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে। ’ তিনি বলেন, ‘যতটা জানা গেছে, সাত বিভাগে জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট ১৬৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলা পরিচালনায় প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সম্প্রতি সংসদে আইনমন্ত্রী বলেছেন, জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট মামলার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬০টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৬টি, রাজশাহী বিভাগে ২৭টি, খুলনা বিভাগে ১২টি, বরিশাল বিভাগে সাতটি, সিলেট বিভাগে আটটি, রংপুর বিভাগে ১৯টি মামলা হয়েছে। মন্ত্রী এও বলেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের চেয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচারে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তাই বলছেন সরকার নিশ্চয়ই জঙ্গিদের দ্রুত বিচার নিয়ে আন্তরিক। তবে আমরা যদি সামাজিকভাবে এই জঙ্গিদের প্রতিরোধ করতে পারি, তাদের চিহ্নিত করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে পারি, তবে তারা আর এগোতে পারবে না। ’

এ পর্যায়ে সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, ‘জঙ্গিদের মামলাগুলো যেসব আদালতে বিচারাধীন, সেসব আদালতে যেন সার্বক্ষণিকভাবে বিচারক নিযুক্ত থাকেন, অর্থাৎ বিচারকশূন্যতার কারণে মামলার বিচার কার্যক্রম যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ নির্মূল করার লক্ষ্যে ও অভিযুক্ত জঙ্গিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার সদা সচেষ্ট ও যত্নবান থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশা জনগণের। ’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পুলিশ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ কোনো একক দেশের সমস্যা নয়। এটা বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশ তার ভুক্তভোগী। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রিয়; কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান একে অপরে মিলেমিশে বাস করছে। ’

আলোচনার এ পর্যায়ে ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। বাংলাদেশের রয়েছে হাজার বছরের ঐতিহ্য। এটা নিয়ে আমরা যেমন অতীতে গর্ব করতাম, এখনো করি এবং ভবিষ্যতেও করব। ’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে মুষ্টিমেয় কিছু লোক ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের পুলিশকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ওই গোষ্ঠীকে দমন করতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার হচ্ছে, যেমন করেই হোক জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের দমন করা হবেই। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে বর্তমান সরকার। এটা সরকারের বড় অঙ্গীকার। এভাবে সরকারের প্রতিটি সেক্টর যদি জঙ্গিদের প্রতিরোধে এবং তাদের বিচারে সচেষ্ট হয়, তবে জঙ্গিবাদের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। ’


মন্তব্য