kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো ।ধারাবাহিক

পাপীরা যেকোনো সময় আজাবে পতিত হতে পারে

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পাপীরা যেকোনো সময় আজাবে পতিত হতে পারে

১০৭. (যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না) তারা কি আল্লাহর সর্বগ্রাসী শাস্তি থেকে নিরাপদ হয়ে গেছে? অথবা (তারা কি এ ব্যাপারে নিরাপদ হয়ে গেছে যে) তাদের কাছে হঠাৎ কেয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা টেরও পাবে না! (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০৭)

তাফসির : মহানবী (সা.) মানবতার মুক্তি ও হেদায়েতের জন্য প্রচণ্ড অনুরাগী ছিলেন। এ বিষয়ে আগের আয়াতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, বেশির ভাগ মানুষ ঈমানদার হবে না। তারা যদি আপনার কথায় বিশ্বাস স্থাপন না করে, তাহলে আপনি মনঃক্ষুণ্ন হবেন না, কারণ তারা বিশ্বজগতের স্রষ্টা মহান আল্লাহকেও বিশ্বাস করে না। এ ছাড়া তাদের মধ্যে যারা বাহ্যত ঈমান এনেছে, তাদের সবার ঈমান পরিপূর্ণ নয়। কেননা তাদের বেশির ভাগ শিরক করেছে।

আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, হে রাসুল! আপনি অবিশ্বাসীদের হুঁশিয়ার করে দিন যে ইহকালে যদি পাপের জন্য কারো শাস্তি না হয় বা কেউ যদি অকস্মাৎ মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সে পার পাবে না। কেয়ামতের দিন তাদের পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। জাহান্নামের শাস্তি সেদিন তাদের গ্রাস করবে। কাজেই কেয়ামতের শাস্তির কথা সবারই মনে রাখা উচিত। এ জীবনই শেষ নয়।

পরকালে আরো একটি জীবন আছে। তখন মানুষকে প্রতিটি কাজের জন্য হিসাব দিতে হবে। প্রত্যেকেই তাদের ভালো কাজের সুফল পাবে। আবার পাপের জন্য উপযুক্ত শাস্তিও ভোগ করবে।

পাপীরা যেকোনো সময় আল্লাহর আজাবে পতিত হতে পারে। এক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কত কত এলাকা আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের ওপর আমার আজাব এসেছে রাতে বা দিনের বেলায়, যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত অবস্থায় মানুষ বিশ্রামরত থাকে। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৪)

রাত ও দুপুর বিশ্রামের সময়। এগুলো এক ধরনের গাফিলতি ও উদাসীনতার সময়। এ দুই সময়ই মানুষ ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে একটু আরামের জন্য নিজেকে সোপর্দ করে। একটুখানি প্রশান্তি লাভ করে। এমন সময় ভীষণ আজাব নেমে আসার সংবাদ কঠিন অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। এভাবেই অতীতে বহু ক্ষমতাবান, প্রাচুর্যের অধিকারী ও দৈহিক শক্তিমত্তার অধিকারী জাতি নিজেদের পাপাচারের কারণে ধ্বংস হয়েছে। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি কত জনপদ ধ্বংস করে দিয়েছি, যার বাসিন্দারা নিজেদের ঐশ্বর্যের কারণে দম্ভ করত। সেগুলো ছিল তাদের আবাসভূমি। তাদের পর এসব জনপদে মানুষ সামান্যই বসবাস করেছে। অবশেষে আমিই (সেগুলোর) মালিক রয়ে গেছি। ’ (সুরা : কাছাছ, আয়াত : ৫৮)

শুধু অতীতেই নয়, বর্তমান যুগের পাপীরাও নির্ভয় হয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। পাপীদের ওপর যেকোনো সময় আল্লাহর আজাব আসতে পারে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘এই জনপদের অধিবাসীরা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গেছে যে আমার আজাব তাদের ওপর রাতের বেলা এসে পড়বে, অথচ তখন তারা থাকবে ঘুমে অচেতন? আর এই জনপদবাসী কি এ থেকে নিরাপদ হয়ে গেছে যে তাদের ওপর আমার আজাব দিনের বেলায় এসে পড়বে, অথচ তখন তারা থাকবে খেলাধুলায় মত্ত?’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৯৭-৯৮)

একই প্রসঙ্গ পবিত্র কোরআনে ভিন্নভাবেও এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা হীন চক্রান্তে লিপ্ত থাকে, তারা কি এরূপ আশঙ্কা থেকে মুক্ত রয়েছে যে আল্লাহ তাদের ভূগর্ভে বিলীন করে দেবেন না? কিংবা এমন জায়গা থেকে আজাব আসবে না, যার সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই? অথবা চলাফেরা করার সময় তিনি তাদের পাকড়াও করবেন না? তারা তো তা ব্যর্থ করতে (ঠেকাতে) পারবে না। ’ (সুরা : নাহল,     আয়াত : ৪৫-৪৬)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য