kalerkantho


‘আমাদের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘আমাদের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেছেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার; সেটা যেকোনো সরকারের আমলেই হোক। আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলো হেরে গেলেই বলে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি, এটা যেমন ঠিক, তেমনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্যও নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকাও বড়।

বর্তমানে যে রাজনৈতিক দলগুলো আছে তারা তো বলছে তারা ঠিকমতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারে না। তাদের এ বিষয়ে কোনো গণতান্ত্রিক কথা থাকলে সরকার নিশ্চয়ই শুনবে। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে যেন কোনো অগ্নিকাণ্ড বা মানুষ হত্যা না হয়, সেদিকেও রাজনৈতিক দলগুলোকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ যাদের জন্য রাজনীতি তারাই যদি ভিকটিম হয় তাহলে রাজনীতি কাদের জন্য!’

শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো নিউজ অ্যান্ড ভিউজে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিক গোলাম মোর্ত্তজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক সাংবাদিক শ্যামল দত্ত।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, সামনে নির্বাচনের ঘণ্টা বাজবে। বিভিন্ন দল নির্বাচনী কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছে। সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির যদি আন্দোলন করার শক্তি না থাকে তাহলে আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে লাভ কী! তা ছাড়া এই সরকার তো কারো প্রতি কোনো অন্যায় করছে না বা কাউকে রাজপথে কোনো বাধাও দিচ্ছে না। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, যাদের আন্দোলন করার তাকত নেই তাদের কর্মসূচি না দেওয়াই ভালো।

তবে যারা ক্ষমতায় গেছে তারা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করতে ছাড়েনি। এখন বিএনপিও অনেক অভিযোগ করে। তাদের রাস্তায় নামার আগেই মারধর বা গ্রেপ্তার করা হয়। তাহলে তারা কিভাবে রাস্তায় নামবে?’

আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক বলেন, আমরা একাত্তরের ২৫ মার্চের ভয়াবহ বর্বরতার কথা শুনেছি। আজও সেই ঘটনা আমাদের মনে দাগ কেটে যায়। সে দিন নিরীহ বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে গণহত্যা দিবস পালনের। একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখে প্রধানমন্ত্রী নিজেও কেঁদেছেন। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তো কাঁদবেনই। তাঁর বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকেই বাঙালি জাতি সেদিন স্বাধীনতাযুদ্ধে সাড়া দিয়েছিল। তাই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে দহরম-মহরম করে তাদের পাকিস্তান চলে যাওয়া ভালো। তারা চলে গেলে আমার বাবা, যিনি বেহেশতে আছেন, তাঁর আত্মা শান্তি পাবে, আমার মায়ের আত্মা শান্তি পাবে। সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে। তিনি আরো বলেছেন, পাকিস্তানিরা এ দেশের রাস্তাঘাট চিনত না, তাদের রাস্তা কে চিনিয়েছে? ওই রাজাকার-আলবদররা চিনিয়েছে। তারা বাঙালিদের হত্যা করেছে। নারীদের ধর্ষণ করেছে। তাদের বিচার এ দেশে হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শেরপুরের একটি গ্রামের নাম সোহাগপুর থেকে হয়েছে বিধবাপুর। ওই গ্রামের অনেক মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়। আলবদর-রাজাকারদের সহযোগিতায়ই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ক্যাম্পে নিয়ে বাঙালি নারীদের ধর্ষণ করেছে। আমাদের দেশে কিছু দালাল আছে, তাদের কথা শুনে আমার নিজের লজ্জা লাগে। এই দালালরা দেশের ইতিহাস বিকৃত করে। ’

আলোচনার এ পর্যায়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, আমরা যারা দেশের ভালো চাই তাদের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা না হলে তারা জানবে কিভাবে। জাতীয় সংসদে যে গুরুত্বসহ ২৫ মার্চের সেই কালরাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাতে নতুন প্রজন্ম অনেক কিছু জানতে পারবে, শিখতে পারবে।


মন্তব্য