kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

আবু জাফর শামসুদ্দীন

সাংবাদিক-সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীন ১৯১১ সালের ১২ মার্চ তৎকালীন ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম মোহাম্মদ আক্কাছ আলী ভুঁইয়া।

গ্রামের প্রভাত পণ্ডিতের পাঠশালায় আবু জাফরের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু। ১৯২৪ সালে তিনি জুনিয়র মাদরাসা এবং ১৯২৯ সালে হাই মাদরাসা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ভর্তি হলেও পরীক্ষা না দিয়েই পড়াশোনা ছেড়ে দেন। দৈনিক সোলতান পত্রিকায় সহসম্পাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু। পরে তিনি  খুলনা, কলকাতা ও কটকে কিছুকাল সরকারি চাকরি করেন। পাশাপাশি তিনি আজাদ, ইত্তেফাক, পূর্বদেশ ও  সংবাদ পত্রিকায় বিভিন্ন পদে চাকরি করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখেছেন। ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে সহকারী অনুবাদকের পদে কাজ করেন। প্রথম জীবনে তিনি মানবেন্দ্রনাথ রায়ের র‌্যাডিক্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত হলেও ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানী ন্যাপ গঠন করলে সেখানে যোগ দেন। ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল লেখক হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ, বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট সোসাইটি, বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদ, বাংলাদেশ আফ্রো-এশীয় লেখক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে উচ্চপদে কাজ করেছেন। উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে তাঁর লেখালেখি শুরু। তাঁর সুবৃহৎ উপন্যাস ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ বাংলা সাহিত্যে অনবদ্য সৃষ্টি। এ ছাড়া ‘ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান’, ‘পরিত্যক্ত স্বামী’, ‘প্রপঞ্চ’, ‘সংকর সংকীর্তন’, ‘দেয়াল’ ইত্যাদি উপন্যাস এবং ‘শেষ রাত্রির তারা’, ‘রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা’, ‘ল্যাংড়ী’ ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। তিনি বেশ কয়েকটি জীবনী, আত্মজীবনী, নাটক, ভ্রমণকাহিনী ও স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থও রচনা করেন। শিল্পীর সাধনা ও পার্ল বাকের সেরা গল্প তাঁর দুটি অনুবাদগ্রন্থ। সাংবাদিকতা ও সাহিত্য সাধনা দুটিই তাঁকে প্রচুর খ্যাতি ও পুরস্কার এনে দিয়েছে। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও সাংবাদিকতার জন্য একুশে পদক পান। ১৯৮৮ সালের ২৪ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য