kalerkantho


‘সবাই সচেতন হলে দুর্নীতি কমে যাবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘সবাই সচেতন হলে দুর্নীতি কমে যাবে’

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রেস সেক্রেটারি ও বর্তমানে সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসর প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। একসময় দুর্নীতির শীর্ষে থাকা দেশের তালিকায় যেখানে আমাদের অবস্থান ছিল, সেখান থেকে আমরা অনেকটা কমিয়ে আনতে পেরেছি। শুক্রবার দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে সারা দেশে আড়াই লাখেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নিয়েছে। এটা জনসম্পৃক্ততারই প্রমাণ। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই সচেতন হলে দুর্নীতি করার সাহস কেউ পাবে না। তবে অহেতুক কেউ যেন দুর্নীতির অভিযোগে কষ্ট না পায়, সে বিষয়েও আমাদের লক্ষ রাখতে হবে।

শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো ‘আজকের সংবাদপত্র’ অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে আবুল কালাম আজাদ এসব কথা বলেন। সাংবাদিক মীর মাসরুরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, দুর্নীতি এখন একটি সামাজিক ব্যাধির নাম। এই ব্যাধিতে সারা দেশে অনেকের জড়িয়ে পড়ার খবর আসছে। তবে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।

তারা সব জায়গায় নিজেদের লোক দিয়ে তদন্ত করছে। তারা দুর্নীতিবাজদের মনে আরো আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে পেরেছে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দেখেন, এটা তো শুধু  দুদকের একার কাজ নয়; সরকারও এ ক্ষেত্রে অনেক উদার নীতি দেখিয়েছে। আপনারা দেখেছেন যে এই সরকারের আগের আমলের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য, তাঁর স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকেও দুর্নীতির মামলায় জেলে যেতে হয়েছে। সরকার কোনো বিষয়ে আপস করে না। এ ছাড়া সেই যোগাযোগমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আসার পর তাঁকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় রাখেননি। এত বছর পর সেই কানাডার আদালতে প্রমাণ হলো, ওই অভিযুক্ত মন্ত্রী দোষ করেননি। ’

আবুল কালাম আজাদ আরো  বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, জড়িতদের ছাড়  দেওয়া হবে না। তিনি বলেছেন ‘এবার প্রশ্ন ফাঁসের কিছু ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। যখন বিভিন্ন জেলায় প্রশ্নপত্র পাঠানো হলো তখন তা ফাঁস হয়নি,  শেষরাত বা ভোররাত থেকে প্রশ্ন ফেসবুক থেকে আসছে। সত্য কি না মিথ্যা তা পরের দিনের প্রশ্নের সঙ্গে  মেলালেই বুঝতে পারবেন। ’ দুর্নীতি দমনে শিক্ষার গুরুত্ব উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছেন, ‘দুর্নীতি দমনে শিক্ষার বিকল্প  নেই। শিক্ষা ছাড়া সৎ মনমানসিকতা গড়ে উঠবে না; আর মানুষ সৎ না হলে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়। ’ এ জন্য তিনি শিক্ষা আইন নামে একটি আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করবেন বলে জানান। এ আইনের প্রয়োগে শিক্ষার্থীরা সত্মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘উন্নয়নের সুফল কখনোই ভোগ করা সম্ভব নয়, যদি না দুর্নীতি দূর করা যায়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। ’ সারা দেশে বিশাল মানববন্ধন আয়োজনের জন্য তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘দুর্নীতি দমনে সরকারের সমর্থন পাচ্ছি। এভাবে সমর্থন পেলে দুর্নীতি দমনে কমিশনের কাজটি সহজ হয়ে যায়। ’ পরবর্তী প্রজন্ম দুর্নীতি দমনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার মানে সরকার যে দুর্নীতি দমনে সহযোগিতা করছে তা দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্যেই দেখা গেল।

আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা এখনো সজাগ। তাদের নিবৃত্ত করা না গেলে প্রকৃত স্বাধীনতার সুফল ঘরে তোলা সম্ভব নয়। সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় নেতাও সে কথাই বলেছেন। এত দিন পর কি আমরা সেই ধারণা থেকেই বলতে পারি, আমাদের আরো বাস্তববাদী হওয়া দরকার, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া দরকার?

এ পর্যায়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যে ঘোষণা দেওয়া হয়, সেটি আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রস্তুত রেখেছিলেন বলেই তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘২৫শে মার্চ যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাজারবাগ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, তার আগেই আমাদের কাছে একটা খবর এলো। স্বাধীনতার বাণীটি আগেই প্রস্তুত করা ছিল। ’ তাই বলতে হবে, যারা বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে এ দেশের স্বাধীনতার ঘোষক অন্য কাউতে করতে চায় তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়।


মন্তব্য