kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

নবী-রাসুলদের বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়েছে

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নবী-রাসুলদের বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়েছে

১০২. এসব অদৃশ্যলোকের সংবাদ, যা আমি ওহির মাধ্যমে তোমাকে অবহিত করছি। ষড়যন্ত্রকালে যখন তারা [ইউসুুফ (আ.)]-এর ভাইয়েরা] মতৈক্যে পৌঁছেছিল তখন তুমি তাদের সঙ্গে ছিলে না। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০২)

তাফসির : হজরত ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনি পুরোপুরি বর্ণনা করার পর আলোচ্য আয়াতে নবী করিম (সা.)-কে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, এই কাহিনি আমি ওহির (আসমানি প্রত্যাদেশ) মাধ্যমে তোমাকে অবহিত করেছি। তুমি ইউসুফের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলে না। দুনিয়ার কারো কাছ থেকে তুমি তা শেখোনি। কোনো বই-পুস্তক থেকেও তুমি তা পাঠ করোনি। কাজেই তুমি যা বলছ, তা ওহির জ্ঞানের আলোকেই বলছ। এতে তোমার নবুয়তের সত্যতা প্রমাণিত হয়।

এ আয়াত থেকে জানা যায়, নবী-রাসুলদের বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কেও এমন অনেক বিষয় জানানো হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষ জানত না। এমনকি এমন বিষয়ও তাঁকে জানানো হয়েছে, এর আগে পৃথিবীর কোনো মানুষ যা জানত না।

এ কথা আলোচ্য আয়াত থেকেও বোঝা যায়। একই বক্তব্য রয়েছে সুরা হুদের মধ্যে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘এসব অদৃশ্যলোকের সংবাদ আমি তোমাকে ওহির মাধ্যমে অবহিত করেছি। এর আগে তুমিও তা জানতে না এবং তোমার সম্প্রদায়ও জানত না। সুতরাং ধৈর্য ধারণ করো। শুভ পরিণাম মুত্তাকি বা খোদাভীরুদের জন্য। ’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৪৯)

মহানবী (সা.)সহ অন্যান্য নবীকেও বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়েছে। হজরত ইয়াকুব (আ.) সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এরপর যখন সুসংবাদবাহক উপস্থিত হলো এবং তার মুখের ওপর জামাটি রাখল তখন সে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেল। সে বলল, আমি কি তোমাদের বলিনি যে আমি আল্লাহর কাছ থেকে যা জানি, তোমরা তা জানো না। ’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৯৫-৯৬)

হজরত সুলাইমান (আ.)-এর গভীর প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি সম্পর্কে একটি ঘটনা হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। দুজন নারীর দুটি সন্তান ছিল। একদিন নেকড়ে বাঘ এসে একটি বাচ্চা নিয়ে যায়। তাদের প্রত্যেকেই দাবি করে, তোমার বাচ্চা নিয়ে গেছে, যেটি আছে সেটি আমার বাচ্চা। বিষয়টি ফয়সালার জন্য ওই দুই নারী দাউদ (আ.)-এর কাছে এলো। তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ নারীর পক্ষে রায় দেন। তখন তারা বেরিয়ে সুলাইমান (আ.)-এর কাছে আসে এবং সব কথা খুলে বলে। সুলাইমান (আ.) তখন একটি ছুরি আনতে বলেন এবং বাচ্চাটিকে দুই টুকরো করে দুই নারীকে দিতে চাইলেন। তখন কনিষ্ঠ নারী বলল, আল্লাহ আপনাকে অনুগ্রহ করুন, বাচ্চাটি ওই নারীর। অর্থাৎ প্রয়োজনে বাচ্চাটি ওই নারীকে দিয়ে দিন। তবু তাকে হত্যা করবেন না। তখন সুলাইমান কনিষ্ঠ নারীর পক্ষে রায় দেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৭৬৯)। এভাবে কৌশলে তিনি সত্য উদ্ঘাটন করেছিলেন।

হজরত দাউদ (আ.) সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আমি তাকে [দাউদ (আ.)] তোমাদের জন্য বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে তা তোমাদের যুদ্ধে তোমাদের রক্ষা করতে পারে। সুতরাং তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে না?’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৭৯)

হজরত ইয়াহ্ইয়া (আ.) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে ইয়াহ্ইয়া, এই কিতাব দৃঢ়তার সঙ্গে গ্রহণ করো। আমি তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম জ্ঞান। ’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ১২)

হজরত আদম (আ.) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘আর তিনি (আল্লাহ) আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিয়েছেন...। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩১)

উল্লিখিত আয়াতগুলো থেকে খুব স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায়, নবী-রাসুলদের বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়েছে।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য