kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর

মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ। তিনি ১৯৪৯ সালের ৭ মার্চ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর বাবা আব্দুল মোতালেব হাওলাদার। মহিউদ্দীন মুলাদীর পাতারচর স্কুলে প্রাথমিক, মুলাদী মাহমুদজান পাইলট হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অনার্স পড়াকালে সেনাবাহিনীর অফিসার ক্যাডেট নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে লেফটেন্যান্ট ও ১৯৭০ সালে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন। মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় মহিউদ্দীন সোয়াতে কর্মরত। দেশের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি জুলাই মাসে কর্মস্থল ছেড়ে দুর্গম পার্বত্য এলাকা অতিক্রমের ঝুঁকি নেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান তখন ৭ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার। সামরিক বাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের অফিসার মহিউদ্দীন সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুক্ত হন। তিনি কানসাট, আরগরারহাট, শাহপুরসহ কয়েকটি সফল অভিযান চালান। ডিসেম্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ দখলের জন্য তাঁকে একটি মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়। ১৩ ডিসেম্বর এক প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধাসহ তিনি রেহাইচরের মধ্য দিয়ে নৌকাযোগে মহানন্দা নদী পার হন এবং শত্রুর কয়েকটি বাংকার দখল করে নেন। তিনি শত্রুর মেশিনগান ধ্বংস করার পরিকল্পনা নিয়ে বাঁ হাতে এসএমজি ও ডান হাতে একটি গ্রেনেড নিয়ে গোপনে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসেন। হামাগুড়ি দিয়ে রাস্তা পার হয়ে তিনি গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এ সময়ই শত্রুর গুলি তাঁর কপালে বিদ্ধ হয় এবং তিনি শহীদ হন। ভোর রাতে মহিউদ্দীনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ছোট সোনামসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। দেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা তাঁর স্মৃতি বহন করছে। এগুলো হলো—বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর কলেজ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর গেট (ঢাকা সেনানিবাস), বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর হাই স্কুল (রহিমগঞ্জ), বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরণি (রাজশাহীর একটি সড়ক), বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ফেরি (বিআইডাব্লিউটিসি), বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ক্লাব (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য