kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

শুভেচ্ছা বিনিময়ের ইসলামী পদ্ধতি

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শুভেচ্ছা বিনিময়ের ইসলামী পদ্ধতি

১০০. সে [ইউসুফ (আ.)] তার মাতা-পিতাকে উচ্চাসনে বসিয়েছে। তারা সবাই তার সম্মানে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। সে বলল, হে আমার পিতা! এটিই আমার আগের স্বপ্নের ব্যাখ্যা। আমার প্রতিপালক তা সত্যে পরিণত করেছেন। অবশ্যই তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, (বিশেষভাবে) যখন তিনি আমাকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছেন এবং শয়তান আমার ও আমার ভাইদের সম্পর্ক নষ্ট করার পরও আপনাদের মরু অঞ্চল থেকে এখানে এনে দিয়েছেন। আমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা তা নিপুণতার সঙ্গে করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। [সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০০ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর ইয়াকুব (আ.) সপরিবারে পুত্র ইউসুফ (আ.)-এর সঙ্গে দেখা করতে মিসরে গেছেন। হজরত ইউসুফ (আ.) তাঁর মাতা-পিতাকে রাজকীয় সম্মাননা দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁরা সিজদায় অবনত হয়েছেন।

এটি ছিল সম্মান প্রদর্শনের সে যুগের রীতি। পরস্পর দেখা-সাক্ষাৎ হলে কী করণীয়—এ বিষয়ে ইসলামের বিধান হলো—এক. প্রথমে তাঁকে সালাম দেবে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয়ের কথা বলব, যা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটাও। ’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৫৪)

দুই. সালাম বিনিময়ের পর মোসাফাহা (হাত মেলানো) করবে। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে দুজন মুসলিম পরস্পর মিলিত হয়, তারপর তারা মোসাফাহা করে, তারা (সেই স্থান থেকে) পৃথক হওয়ার আগেই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২১২)

তিন. পুরুষদের জন্য পরনারী এবং নারীদের জন্য পরপুরুষের প্রতি দৃষ্টিপাত করা নিষিদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য উত্তম। ’ (সুরা : নূর, আয়াত : ৩০)

চার. আগত ব্যক্তির জন্য মাথানত করা বা সিজদাবনত হওয়া যাবে না। এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করে, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ যখন তার ভাই বা বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তখন কি মস্তক অবনত করবে? মহানবী (সা.) বলেন, ‘না, কারো জন্য মস্তক অবনত করা যাবে না। কিন্তু মোসাফাহা করবে। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৭০২)

পাঁচ. হাসিমুখে অন্যের সঙ্গে মিলিত হওয়া। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা কোনো ভালো কাজকে ছোট মনে করবে না, যদিও তা অন্যের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাতের ব্যাপারেই হোক না কেন। অর্থাৎ হাসিমুখে অন্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাও পুণ্যের কাজ। ’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ২৬২৬)

ছয়. মেহমান এলে তাঁকে স্বাগত জানাবে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধিরা মহানবী (সা.)-এর কাছে আগমন করে, মহানবী (সা.) তাদের জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা কারা? তারা বলল, আমরা (আবদুল কায়েস গোত্রের) রবিআ শাখার লোক। মহানবী (সা.) বলেন, ওই জাতিকে মারহাবা! ওই প্রতিনিধিদলকে মারহাবা! এটা তোমাদের অপরিচিত কোনো জায়গা নয়। এখানে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। ’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩; মুসলিম, হাদিস : ১৭)

সাত. উপস্থিত যা আছে, তা দিয়ে আপ্যায়ন করা। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তোমার কাছে ইব্রাহিমের সম্মানিত মেহমানদের কথা পৌঁছেছে কি? যখন তারা তার কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, ‘সালাম’। জবাবে সেও বলল, ‘সালাম’। তারা ছিল অপরিচিত লোক। তারপর ইব্রাহিম তাঁর স্ত্রীর কাছে গেল এবং মোটাতাজা গরুর বাছুর ভুনা করে নিয়ে এলো। এরপর তা তাদের সামনে রেখে বলল, তোমরা খাচ্ছ না কেন?’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ২৪-২৭)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য