kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

আনা আখমাতোভা

আনা আখমাতোভা খ্যাতনামা রুশ কবি। আসল নাম আনা আন্দ্রেইয়েভনা গোরেংকো। প্রায় অর্ধশতাব্দীজুড়ে তিনি রুশ কবিতার সেন্ট পিটার্সবার্গ ধারার প্রাণ ছিলেন। সময়, স্মৃতি, সৃজনশীল নারীদের পরিণতি, স্টালিনের রাজত্বের মধ্যে বেঁচে থাকার সংগ্রাম ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তিনি স্বল্প ও দীর্ঘ কবিতা লিখেছেন। আনা ১৮৮৯ সালের ২৩ জুন বর্তমান ইউক্রেনের কাছে ওডেসায় জন্মগ্রহণ করেন। কৈশোরে তাঁর মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। আনা কিয়েভ ও সেন্ট পিটার্সবার্গে পড়ালেখা করেন। প্রিয় কবি রাস্কিন, পুশকিন ও বারাতিনসকির কবিতা পড়ে উদ্বুদ্ধ হন এবং মাত্র ১১ বছর বয়সেই লিখতে শুরু করেন। নিজের নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবারের বাধা থাকায় তিনি এক তাতার পূর্বপুরুষের নাম ‘আখমাতোভা’ বেছে নেন। ১৯১০ সালে তিনি নবীন কবি নিকোলাই গুমিলইয়োভকে বিয়ে করেন। কিন্তু তিনি আনার কবি প্রতিভাকে সম্মান দেখাননি।

আনার প্রথম কবিতার বই ‘সন্ধ্যা’ ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়। ছোট পরিসরের হলেও কবিতাগুলো ছিল তীক্ষ মনস্তাত্ত্বিক। ফলে তা সহজেই সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ১৯১৪ সালে দ্বিতীয় বই ‘তসবিহ’ প্রকাশিত হওয়ার আগেই হাজার হাজার নারী কবি ‘আখমাতোভার মতো’ কবিতা লেখা শুরু করেন। তাঁর কবিতায় নারী-পুরুষের প্রেমের দোদুল্যমান ও মর্মভেদী মুহূর্তগুলো ছিল তখন ব্যাপক অনুকরণীয়। অনেকে তাঁর আভিজাত্য ও শিল্পের সততার জন্য তাঁকে ‘নেভার রানি’ এবং ‘রৌপ্য যুগের মধ্যমণি’ বলত। ১৯২৫ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত স্টালিন সরকার আনাকে কোণঠাসা করে রাখে। তাঁর কোনো কবিতা প্রকাশের অনুমতি পায়নি। রাষ্ট্রীয় নানা বাধা পেরিয়ে ১৯৫৩ সালে স্টালিনের মৃত্যুর পর নতুন প্রজন্মের কবিরা আনার কাছে আসতে থাকেন। আনাও বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি পান। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়। ১৯৬৬ সালের ৫ মার্চ আনা আখমাতোভা মৃত্যুবরণ করেন। বিশ্বের নানা ভাষাসহ বাংলা ভাষায়ও তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে। ১৯৮৯ সালে রাশিয়ায় তাঁর জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয়। মস্কোর যে বাড়িতে আনা বাস করতেন, সেখানে তাঁর স্মরণে একটি জাদুঘর নির্মিত হয়েছে।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য