kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

ইয়াকুব (আ.) ও ইউসুফ (আ.)-এর ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ইয়াকুব (আ.) ও ইউসুফ (আ.)-এর ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ

৯৯. অতঃপর ইউসুফের পরিবার যখন তার কাছে পৌঁছল তখন সে তার মাতা-পিতাকে নিজের একান্তে স্থান দেয়। সে বলল, আপনারা আল্লাহর ইচ্ছায় নিরাপদে মিসরে প্রবেশ করুন। [সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৯৯ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : বৈমাত্রেয় ভাইদের সঙ্গে ইউসুফ (আ.)-এর পরিচয় হয়েছিল অনেক আগেই। ভাইয়েরা মিসর থেকে ফিরে এসে পিতার কাছে ইউসুফ (আ.)-এর দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছে। এ বিষয়ে আগের আয়াতগুলোতে বর্ণনা ছিল। এরপর ইয়াকুব (আ.) পুত্রের দাওয়াত কবুল করে সপরিবারে মিসরের পথে রওনা হয়েছেন। বিষয়টি ঘটনার আগে ও পরের কথা থেকে এমনিতেই বুঝে আসে। তাই এ বিষয়ে কোরআনে কিছু বলা হয়নি। আলোচ্য আয়াতে তাঁদের মিসরে গমনপরবর্তী কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পিতা ও পুত্রের মধ্যে মধুর মিলনের যে অনুভূতি, তা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। হজরত ইউসুফ (আ.) তাঁর পিতা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের স্বাগত জানানোর জন্য শহরের বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।

পবিত্র কোরআন শুধু ওই ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলেছে, হজরত ইউসুফ (আ.) অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে তাঁর পরিবার-পরিজনকে মিসরে বরণ করে নেন।

হজরত ইয়াকুব (আ.) পরিবারসহ মিসরে পৌঁছার সময় তাঁদের লোকসংখ্যা কত বিষয়ে তাফসিরবিদদের বিরোধ দেখা যায়। কোনো কোনো বর্ণনা মতে, ৭২ জন; অন্য বর্ণনা মতে, ৯৩ জন পুরুষ ও নারী ছিল। বাইবেলের বর্ণনা মতে, এ সময় মিসরে আগমনকারী ইয়াকুব (আ.)-এর পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যা ছিল ৬৭। অন্য পরিবারের যেসব মেয়েকে ইয়াকুব (আ.)-এর পরিবারে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের এ সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সে সময় হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর বয়স ছিল ১৩০ বছর।

আল্লামা ওহাবা জুহাইলি (রহ.) লিখেছেন, ইয়াকুব (আ.) তাঁর ছেলে ইউসুফ (আ.)-এর কাছে ২৪ মতান্তরে ১৭ বছর ছিলেন। পিতা ও পুত্রের মধ্যে বিচ্ছেদ কত বছর স্থায়ী ছিল—এ বিষয়েও মতানৈক্য আছে। সেটি যথাক্রমে ১৮/৪০/৮০ বছর। (আততাফসিরুর মুনির : ১৩/৭৬)

যা-ই হোক, ইয়াকুব (আ.) মিসরে পৌঁছার সময় নিকটবর্তী হলে ইউসুফ (আ.) ও শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাঁদের অভ্যর্থনা জানানোর লক্ষ্যে শহরের বাইরে এগিয়ে যান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে চার হাজার সশস্ত্র সিপাহি সামরিক কায়দায় অভিনন্দন জানাতে সমবেত হয়েছে। সবাই যখন মিসরে ইউসুফ (আ.)-এর ঘরে প্রবেশ করেন, তখন তিনি পিতা-মাতাকে নিজের একান্তে জায়গা করে দেন। (তাফসিরে মা’আরেফুল কোরআন)

এখানে প্রশ্ন জাগে, হজরত ইউসুফ (আ.)-এর সম্মানিত মাতা তো সেই শৈশবেই ইন্তেকাল করেছিলেন। তাহলে এখানে তাঁর মা বলে কাকে বোঝানো হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাব হলো, শৈশবে ইউসুফ (আ.)-এর মায়ের ইন্তেকালের পর তাঁরই এক খালা ‘লাইয়া’কে ইয়াকুব (আ.) বিয়ে করেছিলেন। তিনি একদিকে তাঁর খালা, অন্যদিকে পিতার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠায় লাইয়াও ইউসুফ (আ.)-এর মায়ের মতোই ছিলেন। তিনি তাঁকে মায়ের মতোই সম্মান দেখিয়েছেন। তাই তাঁকেও ইউসুফ (আ.)-এর ‘মা’ বলা হয়েছে।

এ ব্যাখ্যার আলোকে জানা যায়, সত্মাকেও মা বলা হয়। তাঁকে মায়ের মর্যাদা দিতে হবে। তাঁর সঙ্গে পর্দার বিধান নেই। তাঁকে নিজের মায়ের মতোই দেখতে হবে। যথাসাধ্য তাঁর খেদমত করতে হবে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য