kalerkantho


‘কেউ বিচারের ঊর্ধ্বে নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘কেউ বিচারের ঊর্ধ্বে নয়’

পরিবহন শ্রমিক-মালিক সমিতির টানা ধর্মঘটের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা নূহ-উল-আলম লেনিন বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। গাড়িচালকরা নিজেদের না শুধরে মানুষকে আরো দুর্ভোগে ফেলে দিয়েছে। এ ধর্মঘটকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আদালতের রায়ে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলার অধিকার পরিবহন শ্রমিকদের নেই। আদালতের রায়ের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাই এ রায়ে জনগণ কেন ভোগান্তিতে পড়বে? কাজেই আন্দোলনকারীদের অযৌক্তিক ধর্মঘট জনস্বার্থে দ্রুত প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। এ ছাড়া যেই গাড়িচালককে সাজা দেওয়া হয়েছে তিনি আদালতে যেতে পারেন। এ জন্য সারা দেশের মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো নিউজ অ্যান্ড ভিউজ অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন সাবেক কূটনীতিক ও সচিব মোফাজ্জল করিম।

আলোচনার শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, গাড়িচালকদের অবহেলার কারণে প্রতিদিন অগণিত মানুষ নিহত হচ্ছে। কথায় কথায় ধর্মঘট করে তারা জনগণকে জিম্মি করে ফেলে।

তাদের কারণে প্রতিদিন সড়কে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। তারা এখন যে সারা দেশে ধর্মঘট শুরু করেছে তা কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, আগে দেখতে হবে তারা কিভাবে মানুষকে বিপাকে ফেলছে। আপনি গণমাধ্যমে তাকালে দেখবেন, গাবতলীতে দফায় দফায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ২৫, পুলিশ বক্স ও রেকারে আগুন, গাড়ি ভাঙচুর  হয়েছে। দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে পরিবহন শ্রমিকরা চরম ভোগান্তিতে ফেলছে যাত্রীদের। গণপরিবহন শ্রমিকদের আকস্মিক কর্মবিরতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দেশের সাধারণ মানুষ। কোনো ধরনের আগাম ঘোষণা ছাড়া মঙ্গলবার সারা দেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে সাধারণ যাত্রীরা আটকা পড়েছে। পণ্য পরিবহন করতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। ঢাকা ও মানিকগঞ্জের পৃথক আদালতের রায়ে এক চালকের মৃত্যুদণ্ড এবং আরেক চালকের যাবজ্জীবন সাজায় ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে এ কর্মবিরতি পালন করছে শ্রমিকরা। এদিকে ধর্মঘটকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে রাজধানীর গাবতলী আন্ত জেলা বাস টার্মিনাল এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘটে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ। তারা বলছে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত দুজন চালককে সাজা দিয়েছেন। ওই সাজা বাতিলের জন্য যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করতেই গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিক নামধারীরা। এর আগেও বিভিন্ন দাবিতে এভাবেই গাড়ি চলাচল বন্ধ করেছে শ্রমিকরা। অযৌক্তিক এ পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমাধান আসছে।

আলোচনার এ পর্যায়ে মোফাজ্জল করিম বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের ক্ষমতায় থাকার সময় চালকদের অবহেলার কারণে কোনো মানুষের মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান হলেও সে আইন রাখতে পারেনি। বর্তমান আইনে রয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তা-ও বহাল রাখা যাবে কি না সন্দেহ। তিনি বলেন, আইন বাস্তবায়ন করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনার হার অনেক কমবে। তিনি বলেন, মানুষ শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায়। এভাবে চলতে পারে না। মানিকগঞ্জে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় জামির হোসেন নামের এক বাসচালকের যাবজ্জীবন সাজা হওয়ায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় দুই দিন পরিবহন ধর্মঘট চলার পর সোমবার প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও পরে শ্রমিক নেতারা কর্মসূচি বহাল রাখার কথা বলেন। এর মধ্যে ঢাকার সাভারে ট্রাকচাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে সোমবার ঢাকার আদালতে ট্রাকচালক মীর হোসেনের ফাঁসির রায় হলে ওই দিন রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে চলে যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে সারা দেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।


মন্তব্য