kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের ক্ষমা প্রার্থনা

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের ক্ষমা প্রার্থনা

৯৭. তারা বলল, ‘হে আমাদের পিতা, আমাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আমরা তো অপরাধী।

৯৮. সে [ইয়াকুব (আ.)] বলল, ‘শিগগিরই আমি আমার প্রতিপালকের কাছে তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। তিনি তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৯৭-৯৮)

তাফসির : বাস্তব ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা নিজেদের কৃত অপরাধ পিতার কাছে স্বীকার করে নেয়। এরপর তারা বলে, হে আমাদের পিতা, আপনি আমাদের গুনাহ মাফ করার জন্য আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করুন। আমাদের জন্য তাওবা ও ইস্তিগফার করুন। ইয়াকুব (আ.) সন্তানদের জন্য তাত্ক্ষণিক তাওবা ও ইস্তিগফার করেননি। তিনি কিছু সময় চেয়ে নেন। এক বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি শেষ রাত পর্যন্ত এবং অন্য বর্ণনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের শেষ প্রহর পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছিলেন। কেননা এ দুটি সময় দোয়া কবুলের উপযুক্ত সময়।

সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, মহান আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পৃথিবী থেকে নিকটতম আকাশে অবতরণ করেন। তিনি ঘোষণা করতে থাকেন, দোয়া করার জন্য কেউ আছ কি, তাহলে দোয়া করো, আমি তা কবুল করব। ক্ষমা চাওয়ার জন্য কেউ প্রস্তুত আছ কি, তাহলে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব।

‘তাওবা’ শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ ফিরে আসা। প্রত্যাবর্তন করা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় তাওবা বলা হয় কোনো পাপকাজ করে ফেললে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর ভয়ে তা পরিহার করা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তা না করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করা। ইমাম গাজ্জালি (রহ.) তাঁর ‘ইহইয়াউল-উলুম’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন : গুনাহের কাজে ধাবিত হওয়ার তিনটি স্তর রয়েছে—এক. কোনো গুনাহে কখনো জড়িত না হওয়া। এটা ফেরেশতা ও নবী-রাসুলদের বৈশিষ্ট্য। দুই. অব্যাহতভাবে পাপকাজ করে যাওয়া। ওই পাপাচারে লজ্জিত ও অনুতপ্ত না হওয়া এবং অন্তরে তা ত্যাগ করার কল্পনাও না করা। এটা শয়তানের কাজ। তিন. গুনাহ হয়ে গেলে অবিলম্বে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে তা না করার দৃঢ়সংকল্প করা। এটা খাঁটি ঈমানদারের কাজ।

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন ১০০ বার ইস্তিগফার করতেন। তাওবা ও ইস্তিগফার আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক নবায়ন করে। এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বান্দার মুখাপেক্ষিতার স্বীকারোক্তি উচ্চারণ করা হয়। ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২২)

তাওবা ও ইস্তিগফার মানুষকে বিনয়ী করে তোলে। মানুষের পাপাচার মিটিয়ে মানুষকে পবিত্র করে। হাদিসে কুদসিতে এসেছে : আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে আমার বান্দারা! তোমরা দিবা-রাত্রি গুনাহ করে থাকো, আমি তোমাদের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেব। তোমরা ইস্তিগফার করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব। ’ (সহিহ মুসলিম)

তাওবা ও ইস্তিগফারের দোয়া

এক. ‘রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাৎ তাওয়াবুর রাহিম। ’ (বুখারি শরিফ)

দুই. ‘আসতাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি। ’ (বুখারি ও মুসলিম)

তিন. আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি। ’ (আবু দাউদ, তিরমিজি ও হাকেম)

এ ছাড়া হাদিস শরিফে ‘সায়্যিদুল ইস্তিগফার’ পাঠ করার বিশেষ ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য