kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

পুত্রের জামার পরশে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন ইয়াকুব (আ.)

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পুত্রের জামার পরশে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন ইয়াকুব (আ.)

৯৫. তারা (উপস্থিত লোকেরা) বলল, আল্লাহর শপথ! আপনি তো আপনার পুরনো বিভ্রান্তিতেই আছেন।

৯৬. এরপর যখন সুসংবাদবাহক উপস্থিত হলো এবং তার মুখের ওপর জামাটি রাখল, তখন তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন। তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের বলিনি যে আমি আল্লাহর কাছ থেকে যা জানি, তোমরা তা জান না। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৯৫-৯৬)

তাফসির : পিতার জন্য ইউসুফ (আ.) নিজের জামা পাঠিয়েছিলেন। যাত্রীদল আসার আগেই তিনি বলতে শুরু করেন, আমি ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি! উপস্থিত লোকেরা ব্যাপারটিকে হাস্যকর ও গালগল্প বলে উড়িয়ে দিল। তারা বলল, আপনি বার্ধক্যের বিভ্রান্তিতে নিপতিত।

প্রশ্ন হলো, ইয়াকুব (আ.) এত দূর থেকে কিভাবে ইউসুফ (আ.)-এর ঘ্রাণ পেলেন? অথচ শৈশবে যখন ইউসুফকে ভাইয়েরা কূপে ফেলে হত্যা করতে চেয়েছিল, তখন কেন তিনি তা টের পেলেন না? এসব প্রশ্নের সহজ জবাব হলো, হজরত ইয়াকুব (আ.) ও ইউসুফ (আ.) দুই পিতা-পুত্রের মধ্যে দুজনই ছিলেন আল্লাহর নবী। তাঁদের বিষয়টি সাধারণ মানুষের চেয়ে অবশ্যই অনেক ব্যতিক্রম। তাঁদের মধ্যে যা কিছু ঘটেছে, এতে এমন অনেক বিষয় দেখা গেছে, যা সাধারণ মানবীয় জ্ঞান-বিদ্যা-বুদ্ধিতে বুঝে আসে না। বুঝে না আসাটাও এ ক্ষেত্রে দোষের কিছু নয়। কারণ এগুলো ছিল তাঁদের জন্য মোজেজা বা অলৌকিক ঘটনাপ্রবাহ। মোজেজা একমাত্র নবী-রাসুলদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তা নবী-রাসুলদের এখতিয়ারভুক্ত কোনো বিষয় নয়। সম্পূর্ণই আল্লাহর কুদরতের ইশারায় তা সংঘটিত হয়। আল্লাহর ইচ্ছা হলেই তিনি নির্দিষ্ট সময়ে নবী-রাসুলদের মাধ্যমে মোজেজার প্রকাশ ঘটান।

আল্লাহর কুদরতে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর পোশাকটি ইয়াকুব (আ.)-এর মুখের ওপর রাখতেই তিনি আগের মতো স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান।

দ্বিতীয় আয়াতে ‘বাশীর’ অর্থাৎ সুসংবাদদাতা বলে ইউসুফ (আ.)-এর সবচেয়ে বড় ভাইকে বোঝানো হয়েছে। সে-ই জামাটি বহন করে নিয়ে আসে। তার নাম কোনো বর্ণনায় ‘ইয়াহুদা’ এবং কোনো বর্ণনায় ‘রুবেল’ উল্লেখ করা হয়েছে। সুসংবাদ দ্বারা বোঝানো হয়েছে, সে বাড়ি ফিরে পিতা ইয়াকুব (আ.)-কে জানিয়েছে, ইউসুফ জীবিত আছে। সে এখন মিসরের বাদশাহ। সে পরিবারের সবাইকে নিয়ে মিসরে চলে যেতে বলেছে। এমন বক্তব্য পুত্রের মুখ থেকে শোনামাত্রই ইয়াকুব (আ.) বলেন, ‘আমি আগেই তোমাদের বলেছিলাম, আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যে বিশেষ জ্ঞান লাভ করেছি, তা তোমরা জান না। অর্থাৎ আমার বিশ্বাস ছিল, ইউসুফ মরেনি। তাঁর সঙ্গে অবশ্যই সাক্ষাৎ হবে।’

ইউসুফ (আ.)-এর ব্যবহৃত জামার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আধুনিক যুগে গবেষণা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানবদেহের ঘামের মধ্যে এমন উপাদান আছে, যার প্রতিক্রিয়ায় দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসা সম্ভব। ওই গবেষণার মূল সূত্র ছিল ইউসুফ (আ.)-এর ব্যবহৃত জামা ও ইয়াকুব (আ.)-এর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া বিষয়ে কোরআনের বর্ণনা। সুরা ইউসুফের ৮৪ ও ৯৩-৯৬ আয়াতগুলো গবেষণা করেন মিসরের সরকারি ‘ন্যাশনাল সেন্টার অব রিসার্চেস ইন ইজিপ্ট’-এর মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. আবদুল বাসিত মুহাম্মাদ। তিনি মানুষের দেহের ঘাম থেকে একটি ‘আইড্রপ’ আবিষ্কার করেন, যা দিয়ে ২৫০ জন রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, কোনোরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ৯০ শতাংশের বেশি চোখের ছানি রোগ সেরে যায় এবং তারা দৃষ্টি ফিরে পায়। ইতিমধ্যে এ ওষুধটি ‘ইউরোপিয়ান ইন্টারন্যাশনাল পেটেন্ট ১৯৯১’ এবং ‘আমেরিকান পেটেন্ট ১৯৯৩’ লাভ করেছে। এ ছাড়া একটি সুইস ওষুধ কম্পানির সঙ্গে এই মর্মে তাঁর চুক্তি হয়েছে যে তারা তাদের ওষুধের প্যাকেটের ওপর ‘মেডিসিন অব কোরআন’ লিখে তা বাজারে ছাড়বে। (সূত্র : ইন্টারনেট)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য