kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

তাকওয়া ও ধৈর্য ঈমানদারের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



তাকওয়া ও ধৈর্য ঈমানদারের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি

৯০. তারা  [ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা] বলল, তবে কি তুমিই ইউসুফ? সে বলল, আমিই ইউসুফ এবং সে আমার সহোদর ভাই। আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। যেসব ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ধৈর্য ধারণ করে (সে-ই সৎকর্মপরায়ণ) আল্লাহ অবশ্যই সেই সৎকর্মশীলদের শ্রমফল নষ্ট করেন না। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৯০)

তাফসির : হজরত ইউসুফ (আ.) বৈমাত্রেয় ভাইদের করুণ অবস্থা দেখে নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি। তাই তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করার জন্য নানাভাবে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলতে লাগলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, তোমরা ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের ঘটনা সম্পর্কে কী জানো? এ কথা শুনে ভাইয়েরা আঁতকে ওঠে। তারা ভাবতে থাকে, মিসরের বাদশাহ কিভাবে ইউসুফের ঘটনা সম্পর্কে জানল! তাহলে কি তিনিই ইউসুফ!

বৈমাত্রেয় ভাইদের কাছে এভাবে ইউসুফ (আ.)-এর পরিচয় প্রকাশ হয়ে যায়। তারা ইউসুফ (আ.)-এর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির কারণে বিস্মিত ও শঙ্কিত হয়েছে। হজরত ইউসুফ (আ.) তাদের বোঝালেন, সবই আল্লাহর ইচ্ছা। মহান আল্লাহ তাঁকে এই মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। তিনিই পরিবারের সবাইকে আবার একত্র হওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

ইউসুফ (আ.) আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায়ও এর প্রতিফল দিয়ে থাকেন।

আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে তাদাব্বুরে কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ আয়াত হলো সুরা ইউসুফের মূল স্তম্ভ। এর আগে যত ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, সেগুলোর মূল শিক্ষা এ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। এ আয়াত থেকে জানা যায়, ধৈর্য ও পরহেজগারির মধ্যেই মুসলমানদের বিজয় ও সাফল্য নিহিত। ধৈর্য ও তাকওয়া দুটি সংক্ষিপ্ত শিরোনাম। কিন্তু এর মধ্যে ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক জীবনের প্রতিটি বিভাগ নিয়ে চমৎকার নীতি বর্ণনা করা হয়েছে।

ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় তাকওয়া বলতে ঈমানদারের হৃদয়ের এমন অবস্থাকে বোঝায়, যা তাঁকে সর্বদা আল্লাহর ভয়ে ভীত রাখে। তাকওয়া ঈমানদারকে জীবনের প্রতিটি কাজে এ কথা ভাবতে বাধ্য করে, জীবনের ছোট-বড় সব কাজের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে হিসাব দিতে হবে।

জীবনের পবিত্রতা, মুক্তি, সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তির মূল চাবিকাঠি হলো তাকওয়া। কারণ ব্যক্তির আত্মা যদি কলুষিত হয়, তার অভ্যন্তরীণ শক্তি যদি তাকে কুপথে পরিচালিত করে, তাহলে কোনো অনুশাসনই তার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি কোনো উপায়ে বন্ধ করা যায় না।

তাকওয়া চারটি বর্ণের সমষ্টি ছোট্ট একটি শব্দ হলেও এর শক্তি ও সক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। মানুষ যখন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, যখন দারিদ্র্য, জঠরজ্বালা আর চরম উপেক্ষার মধ্যে বিপুল বিত্তবৈভব ও নেতৃত্বের আহ্বান শোনা যায়, তখন নীতির বিষয়টি ভাববার সাধ্য আছে কয়জনের? হ্যাঁ, মুত্তাকি ঈমানদার ব্যক্তি সে সময়ও নিজেকে নিয়ন্ত্রিত রাখে। তাকওয়া তাকে শক্তি জোগায় অন্যায়কে এড়িয়ে চলার জন্য। শক্তি জোগায় ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাকে সংকট উত্তরণের পথ বের করে দেন। তিনি তার জন্য এমন জায়গা থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করেন, যা সে ভাবতেও পারে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। ’ (সুরা আৎ-ত্বালাক,     আয়াত : ২-৩ আয়াত)।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য