kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

হুমায়ুন কবির

হুমায়ুন কবির ছিলেন লেখক ও রাজনীতিবিদ। ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা কবিরুদ্দিন আহমদ ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। বাবা ও দাদা দুজনই ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ‘খানবাহাদুর’ উপাধি পেয়েছিলেন। হুমায়ুন কবির নওগাঁর কে ডি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে বিএ অনার্স ও এমএ দুটিতেই তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। সরকারি বৃত্তি নিয়ে তিনি লন্ডনে যান এবং অক্সফোর্ডের একসেটর কলেজে ‘মডার্ন গ্রেটস’ [দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স)] পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্ব দেখান। তিনি ছিলেন তুখোড় ছাত্রনেতা ও বাগ্মী। ১৯৩২ সালে হুমায়ুন কবির অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। বঙ্গীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক সচিব ছিলেন তিনি।

১৯৪৭ সালে ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নিযুক্ত হন। ১৯৫০ সালে ভারতের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রান্টস কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন এবং ১৯৫২ সালে শিক্ষাসচিব হন। ১৯৫৫ সালে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর পরামর্শে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি কংগ্রেসের রাজনীতিতে যোগ দেন। পর্যায়ক্রমে তিনি বিমান প্রতিমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬৬ সালে মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি লাভের পর কংগ্রেস ছেড়ে গঠন করেন ‘বাংলা কংগ্রেস’। তিনি ত্রৈমাসিক ‘চতুরঙ্গ’ সম্পাদনা করেছেন। ‘স্বপ্নসাধ’, ‘সাথী’ ও ‘অষ্টাদশী’—এই তিনটি তাঁর কাব্যগ্রন্থ। উর্দু থেকে হালির কবিতা বাংলায় অনুবাদ তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব। ‘ইমানুয়েল কান্ট’, ‘শরত্ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব’, ‘বাংলার কাব্য’, ‘মার্ক্সবাদ’, ‘নয়া ভারতের শিক্ষা’ ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ। এ ছাড়া ‘নদী ও নারী’ তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

[বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান অবলম্বনে]


মন্তব্য