kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

ফয়েজ আহ্মদ

ফয়েজ আহ্মদ সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান সম্পাদক ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই পিকিং রেডিওতে (পেইচিং) বাংলা অনুষ্ঠান চালু হয়। তিনি জাতীয় কবিতা উৎসবের প্রথম পাঁচ বছর আহ্বায়ক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। জন্ম ১৯২৮ সালের ২ মে মুন্সীগঞ্জের বাসাইলডোগ গ্রামে। বাবা গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, মা আরজুদা বানু। ফয়েজ আহ্মদ মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৪৪ সালে কলকাতার ‘সওগাত’ অফিসে যান। সেখানে কবি আহসান হাবীব ও হাবীবুর রহমানের সঙ্গে পরিচয় হলে তাঁরা তাঁকে লিখতে উৎসাহিত করেন। দেশ বিভাগের পর ‘সওগাত’ অফিস ঢাকায় চলে আসে। এখানেই ‘পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ’-এর জন্ম হয়। তিনি ছিলেন এর সাধারণ সম্পাদক।

১৯৪৮ সালে ফয়েজ আহ্মদের সাংবাদিক জীবনের শুরু। তিনি ইত্তেফাক, সংবাদ, আজাদ ও পরবর্তী সময়ে পূর্বদেশে প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাপ্তাহিক ইনসাফ ও ইনসানেও কাজ করেছেন। ১৯৫৯ সালে আইয়ুব সরকারের আমলে চার বছর ও পরে এরশাদ আমলেও কারাবন্দি ছিলেন। দেশ ভাগের পর কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৮২-৮৩ সালে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গঠন করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার হন। এ ছাড়া আশির দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। প্রধানত শিশু-কিশোরদের জন্য লিখেছেন। অনুবাদ, প্রবন্ধ, রম্য ইত্যাদি মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ১০০। এর মধ্যে ‘মধ্যরাতের অশ্বারোহী’ সবচেয়ে বিখ্যাত। এই বই সিরিজের বাকি দুটি হলো ‘সত্যবাবু মারা গেছেন’ ও ‘নন্দনে নন্দিনী’। ছড়ার বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হে কিশোর, গুচ্ছছড়া, রিমঝিম, বোঁ বোঁ কাট্টা, পুতলি ইত্যাদি। অনুবাদের মধ্যে হো চি মিনের জেলের কবিতা উল্লেখযোগ্য। ১৯৯২ সালে তিনি আর্ট গ্যালারি ‘শিল্পাঙ্গন’ ও পরে প্রগতিশীল পাঠাগার ‘সমাজতান্ত্রিক আর্কাইভ’ প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ নানা পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য