kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

আল্লাহর রহমতের আশা পূর্ণ ঈমানের আলামত

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আল্লাহর রহমতের আশা পূর্ণ ঈমানের আলামত

৮৭. [ইয়াকুব (আ.) বললেন] হে আমার পুত্ররা, তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার সহোদরের অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহর রহমত থেকে তোমরা নিরাশ হয়ো না। কারণ অবিশ্বাসী সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর রহমত থেকে কেউ নিরাশ হয় না।

[সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮৭ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতের মূল কথা হলো, হজরত ইয়াকুব (আ.) তাঁর পুত্রদের নির্দেশ দেন, তোমরা আবার মিসরে যাও এবং সেখানে ইউসুফকে অনুসন্ধান করো। তিনি আরো বলেছেন, আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না। কারণ হতাশা ও নিরাশা কুফরের নিদর্শন। এর বিপরীতে আল্লাহর রহমতের আশা পূর্ণ ঈমানের আলামত। মানবজীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো ঈমান। ইহকালীন জীবনের সাফল্য আর পরকালীন জীবনের মুক্তি একমাত্র ঈমানের পথ ধরেই অর্জিত হতে পারে। পরিপূর্ণ ঈমান ছাড়া পূর্ণাঙ্গ সাফল্য ও নিঃশর্ত মুক্তিলাভ সম্ভব নয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমতের আশা ও শাস্তির ভয়—এ দুইয়ে মিলে ঈমানদার ব্যক্তির ঈমান পরিপূর্ণ হয়। আল্লাহর রহমতের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আশা জীবনের গতিকে নিয়ন্ত্রণহীন করে দেয়।

ফলে ব্যক্তির কর্মময় জীবন ঈমানের গণ্ডিকে অতিক্রম করে যায়। পক্ষান্তরে নিরন্তর পরকালীন শাস্তির ভয় তাকে হতাশাগ্রস্ত ও কর্মহীন করে তোলে। অন্যদিকে মানব মনে ভয় ও আশার সমন্বিত অবস্থান তার জীবনের গতিকে ঈমানের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সরলরেখার ওপর নিয়ন্ত্রণ করে। এ জন্যই হজরত উমর (রা.) বলতেন, ‘যদি কিয়ামতের দিন ঘোষণা করা হয়, সব মানুষকেই জাহান্নামে প্রবিষ্ট করা হবে, শুধু একজন ছাড়া, তাহলে আমার আশা, সে মানুষটি হব আমি উমর। আর যদি কিয়ামতের দিন ঘোষণা করা হয়, সব মানুষকেই জান্নাতে দাখিল করা হবে, শুধু একজন ছাড়া। আমি আশঙ্কা করি সে ব্যক্তিটি হব আমি উমর। ’ এভাবেই সাহাবায়ে-কেরাম আশা ও ভয় নিয়ে ঈমানের চর্চা করেছেন।

শুধু ভয় আর ভয় মানুষকে চরম হতাশাগ্রস্ত করে তোলে। আবার সীমাহীন আশাও মানুষকে সীমা লঙ্ঘনের পথে তাড়িত করে। তাই মধ্যপন্থাই হলো সর্বোত্তম পন্থা। এর মাধ্যমেই ঈমান পরিপূর্ণ হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কাউকেই তাঁর আমল মুক্তি দিতে পারবে না। ’ সাহাবারা জিজ্ঞেস করেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনাকেও আপনার আমল মুক্তি দিতে পারবে না?’ তিনি বলেন, ‘আমাকেও না, যদি না আমাকে আমার প্রতিপালক নিজ রহমত দিয়ে বেষ্টন করে নেন। তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে, সকাল-সন্ধ্যা ও রাত্রিকালে অবশ্যই আমল করবে। তোমরা মধ্যমাবস্থায় থাকবে, তাহলে তোমরা লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবে। ’ (বুখারি ও মুসলিম)

ভয় আর আশা মানবাত্মার মুক্তির জন্য তখনই সার্থক হবে যখন সেটা যথোপযুক্ত হবে। ঈমানদারের জীবনে আল্লাহর আজাবের ভয় ও তাঁর রহমতের আশা সার্থক হওয়ার জন্য মহান আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকতে হবে। কোনো মানুষ যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সঠিক পরিচয় সম্পর্কে অবগত হবে, তখন সে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধকে শিরোধার্য করে নেবে। এর মাধ্যমে তার অন্তরে পরকালের শাস্তির ভয় ও আল্লাহর রহমতের আশা সমন্বিতভাবে জাগ্রত হবে। আমল না করে পরকালের মুক্তির আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। রাসুলে করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আহাম্মক হলো ওই ব্যক্তি, যে নিজের খেয়ালখুশি অনুযায়ী জীবন যাপন করে, অথচ আল্লাহর রহমতের আশা করে। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৯)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য