kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

নিকোলাস কোপারনিকাসু

জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক নিকোলাস কোপারনিকাস। তিনিই প্রথম সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের আধুনিক মতবাদ দিয়েছিলেন।

১৪৭৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পোল্যান্ডের পরুশিয়া প্রদেশের থর্ন শহরে তাঁর জন্ম। যে গ্রামে তাঁর পিতৃপুরুষের বাস তার নাম ছিল কোপারনিক। নামের সঙ্গে জন্মস্থানের নাম জুড়ে দেওয়া তখনকার রীতি ছিল। ব্যবসায়ী বাবার মৃত্যুর পর মামার তত্ত্বাবধানে তাঁর লেখাপড়া শুরু হয় এবং সে সময় পোল্যান্ডের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। ১৭ বছর বয়সে তিনি ক্রাকাউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পাস করেন। এরপর তিনি ইতালির বলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধর্ম ও আইন পড়া শেষ করেন। নিজের আগ্রহে তিনি গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়েও পারদর্শিতা অর্জন করেন। পরে পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ছাত্রদের পড়ানোর সময় তিনি প্রতিবারই ভাবতেন, যা পড়াচ্ছেন তা সত্য নয়। দুই হাজার বছর আগে পিথাগোরাস বলেছিলেন, পৃথিবী গতিশীল কিন্তু সূর্য স্থির। এ মতবাদটি নিকোলাসের সত্য মনে হলেও এরিস্টটল ও টলেমি যে বলেছেন, পৃথিবী স্থির; পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ ঘুরছে, এ মতবাদ তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। মনের তৃপ্তি না পেয়ে ১৫০৫ সালে ৩২ বছর বয়সে কোপারনিকাস ইতালি ছেড়ে দেশে ফিরে এলেন। কয়েক বছর পর মামা লুকাসের মৃত্যু হলে তিনি গির্জার যাজক হিসেবে যোগদান করলেন। কাজের ফাঁকে তিনি জ্যোতির্বিদ্যা, গণিতচর্চা ও গবেষণা করতেন। দীর্ঘ গবেষণার পর তিনি প্রমাণ করেন, সূর্য স্থির, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে, পৃথিবী পুরো গোল নয়, উত্তর-দক্ষিণ দিকে একটু চাপা। এসব গবেষণা নিয়ে তিনি ‘অন দ্য রেভল্যুশন অব দ্য সেলেস্টিয়াল স্ফিয়ারস’ নামে একটি বই লেখেন। তাঁর মৃত্যুর আগে বইটি প্রকাশিত হয়। ১৫৪৩ সালের ২৪ মে বইটি বুকের মধ্যে নিয়ে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হন। দীর্ঘদিন তাঁর সমাধি রহস্যাবৃত থাকার পর ২০০৮ সালে তা আবিষ্কৃত হয়। পরে ডিএনএ শনাক্ত করে মৃত্যুর ৫০০ বছর পর কোপারনিকাসকে বীরের মর্যাদায় আবারও সমাধিস্থ করে পোলিশ ক্যাথলিক চার্চ।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য