kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নিরাশ হওয়া যাবে না

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নিরাশ হওয়া যাবে না

৮৭. [ইয়াকুব (আ.) বললেন] হে আমার পুত্ররা, তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার সহোদরের অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহর রহমত থেকে তোমরা নিরাশ হয়ো না। কারণ অবিশ্বাসী সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর রহমত থেকে কেউ নিরাশ হয় না।

[সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮৭ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতের মূল কথা হলো, হজরত ইয়াকুব (আ.) তাঁর পুত্রদের নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা আবার মিসরে যাও এবং সেখানে ইউসুফকে অনুসন্ধান করো। পাশাপাশি বিনিয়ামিনের মুক্তির জন্য চেষ্টা করো। তিনি পুত্রদের এ কাজে উৎসাহিত করার জন্য আল্লাহর অফুরন্ত রহমতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে কখনো হতাশ হতে নেই। কারণ হতাশা ও নিরাশা কুফর ও অবিশ্বাসের নিদর্শন।

ইমাম কুরতুবি (রহ.) লিখেছেন, ইয়াকুব (আ.)-এর ঘটনা থেকে প্রমাণ হয়, জানমাল ও সন্তানসন্তুতির ব্যাপারে কোনো বিপদ দেখা দিলে ধৈর্য ধারণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি। পাশাপাশি আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকবে। সেই সঙ্গে তা কাটিয়ে উঠতে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করবে এবং চেষ্টা-প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এসব ক্ষেত্রে ইয়াকুব (আ.) ও অন্য নবী-রাসুলদের আদর্শ অনুসরণ করা উচিত।

মানুষের কাছে অযথা নিজের কষ্টের কথা বলে বেড়ানো উচিত নয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের বিপদ মানুষের কাছে বলে বেড়ায়, তা সবর ও ধৈর্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। ’

অনেক মুসলমান না জেনে আল্লাহ তাআলার রহমত ও মাগফিরাতের ভুল অর্থ করে থাকে। একদিকে তারা বেপরোয়াভাবে পাপকাজে লিপ্ত হয়, অন্যদিকে আল্লাহ তাআলার রহমত ও মাগফিরাতের আশা করতে থাকে। এটা স্পষ্ট ভ্রান্তি। এটি মানুষকে বিপথগামী করে এবং তাদের ধ্বংসের মুখে নিয়ে যায়। কেননা আল্লাহ তাআলা যেমন ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু, তেমনি তিনি কঠিন শাস্তিদাতাও। পবিত্র কোরআনের অনেক স্থানে এ বিষয়ে আল্লাহ আমাদের সাবধান করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘আমার বান্দাদের বলে দাও, আমি তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর আমার শাস্তি—সেটাও অতি মর্মন্তুদ শাস্তি!’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৯-৫০)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে : ‘হা-মিম। এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি পাপ ক্ষমা করেন, তাওবা কবুল করেন। যিনি শাস্তিদানে কঠোর, শক্তিশালী। ’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ১-৩)

এ জন্য ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আকিদা ও বিশ্বাস হলো, আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতে হবে আশা ও ভয়ের সমন্বয়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যদি কোনো মুমিন জানত, আল্লাহর কাছে কী শাস্তি রয়েছে, তাহলে কেউ তাঁর জান্নাতের আশা করত না। আর যদি কোনো কাফির জানত যে আল্লাহর কাছে কী করুণা রয়েছে, তাহলে কেউ তাঁর জান্নাত থেকে নিরাশ হতো না। ’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ২৭৫৫)

তাই মুমিনদের নিজেদের ইবাদত নিয়ে জান্নাতে যাওয়ার ব্যাপারে অতি আশাবাদী হওয়ার কারণ নেই। একই সঙ্গে নিরাশ হওয়ারও কারণ নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই মানুষ এমন আমল করে, যা মানুষের দৃষ্টিতে জান্নাতবাসীদের আমল, কিন্তু (আল্লাহর কাছে) সে জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। আবার কেউ এমন আমল করে, আপাতদৃষ্টিতে যা জাহান্নামবাসীদের আমল; কিন্তু (আল্লাহর কাছে) সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত। ’ অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘সর্বশেষ আমলই প্রকৃত আমল। ’ (বুখারি শরিফ, ১১/৪৩৬; মুসলিম শরিফ, হাদিস : ১১২)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য